প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:০৮ পিএম
বাংলাদেশ ভারতের অভিন্ন নদী তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন ইস্যুতে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান খুঁজতে চায় বাংলাদেশ। তবে একই সঙ্গে এ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় চাইতে পারে বাংলাদেশ। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এর আগে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছিল। তখন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলোচনা বিরোধ সমাধানের জন্য একটি নতুন প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেই বৈঠকের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তিস্তা নদীর সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কারিগরি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেয় ভারত।
২০১১ সালেও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য নির্ধারিত হয়েছিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার রাজ্যে পানির অভাবের কারণ তুলে ধরে এটিকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেন। সেই থেকেই তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তির বিষয়টি ঝুলে আছে।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদী ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিস্তার বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ১১৫ কিলোমিটার। এই নদীর ওপর ভারত গজলডোবায় একটি বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের কোনো চুক্তি নেই। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির আলোকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করার চেষ্টা করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
পানিবণ্টনের আন্তর্জাতিক নীতিমালার দিকে ইঙ্গিত করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক পানি সমস্যা, একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। ন্যূনতম পানি পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক পানিবণ্টনের নিয়মের কারণে বাংলাদেশে প্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ পানিবণ্টন-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও নথির অনুমোদনের বিষয়টিও আমলে নিতে পারে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সে সময় উভয় পক্ষই সম্মত হয় এবং তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি। রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেই জায়গা থেকে চুক্তির খসড়া দিয়েই শুরু করা হবে এবং ভারতকে এগিয়ে আসার ও সংলাপ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানানো হবে।
তিস্তা একসময় করতোয়া নদীর মাধ্যমে গঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এবং এর অংশবিশেষ এখনও বুড়ি তিস্তা নদী নামে পরিচিত। তিস্তার মাসিক গড় পানি অপসারণের পরিমাণ ২,৪৩০ কিউসেক (এক কিউসেক পানি= প্রতি সেকেন্ডে পানির প্রবাহ ২৮. ৩২ লিটার)। ২০১৪ সালে তিস্তার ভারতীয় অংশে গজলডোবায় স্থাপিত বাঁধের সবগুলি গেটবন্ধ বন্ধ করে দেওয়া হলে তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে জলপ্রবাহ শূন্যে নেমে আসে। এর ফলে বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায় মানুষের জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে।