প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ২১:৪৫ পিএম
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। প্রবা ফটো
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
গত বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে সোহেল তাজকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এক ব্যাক্তি। এ ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ে এসে উপদেষ্টার সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করেন তিনি।
স্বাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি কোনো রাজনৈতিক দলের ওপরই প্রতিহিংসা বা নিপীড়ন করা সঠিক না। সেটা যে দলেরই হোক। এখানে অনেক নিরীহ নেতাকর্মী আছে। তাদের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন করার নিন্দা জানাচ্ছি। আমি আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলগুলোকে বলতে চাই, ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে হলে একটু আত্মসমালোচনা ও আত্মউপলব্ধি করাটা খুব প্রয়োজন।’
এ সময় দেশের এ পচা, নোংরা ও নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরতে চান না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমার কথা স্পষ্ট। আমি বারবার বলেছি আমার রাজনীতিতে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই পচা, নোংরা, নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরতে চাই না।’
২০১৯ সালে সোহেল তাজের এক ভাগনাকেও অপহরণ করে ১১ দিন আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে আমার গাড়ি চালাই। আমি চেষ্টা করি একজন সাধারন মানুষের মতো চলাফেরা করতে। আমি যখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলাম তখন আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নীতি, আদর্শ ও সততার সাথে পালন করেছি। আমি অন্যায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম এবং পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরবর্তীতে আমি পদত্যাগ করার পরেও আমার ওপর নানা কিছু করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে আমার ভাগনা রাকিবকে নিয়ে পুলিশ নির্যাতন করেছিল। সেটা নিয়ে মামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আমার এক ভাগনাকে অপহরণ করে এই আয়না ঘরে ১১ দিন রাখা হয়েছিল। আমি সে সময়েও গুম খুনের প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি অনেক কষ্ট এবং কায়দা করে সে সময় আমার ভাগনাকে উদ্ধার করে এনেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলেছিলাম এ রকম ঘটনা ঠিক না। এমন ঘটনা বাংলাদেশের যেন আর না হয়। আমি একজন সাধারণ নাগরিক। আমার অবস্থান থেকে আমি সবসময় প্রতিবাদ করে এসেছি। আমারও তো একটা নিরাপত্তার বিষয় থেকে যায়। আমার আরেকটি পরিচয় আছে আমি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সন্তান। আমি সাধারণভাবে চলার চেষ্টা করলেও এই পরিস্থিতিগুলো আমাকে ছাড়ছে না। আমার অধিকার আছে সাধারণ নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার।’
এর আগে গত বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনীর প্রধানকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোহেল তাজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘আজকে রাতে কাজ থেকে ফেরার সময় একটি খুবই আতঙ্কজনক ও রহস্যজনক ঘটনার শিকার হই। একজন মোটরসাইকেল আরোহী আমাকে সংসদ ভবন থেকে ফলো করে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে চলে আসে এবং একটা সময় তার বুকে লাল-নীল বাতি জ্বালিয়ে আমাকে থামতে বলে। আমি থামার পর তার পরিচয় জানতে চাই এবং আমাকে কেন থামতে বললেন তা তাকে জিজ্ঞেস করি। প্রতিউত্তরে সে আমাকে বলে যে তাদের লোক আসছে আর আমার তাদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমি আবার তার পরিচয় জানতে চাইলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন কিনা। জবাবে সে আমাকে বলল আমি আপনাকে চিনি- আপনি সোহেল তাজ। তারপর সে মোবাইল ফোনে বলল যে সে আমাকে থামিয়েছে এবং লোকেশন জানিয়ে আসতে বলল। আমি আবার তার পরিচয় জানতে চাইলাম এবং কারা আসছে আর কেন আমাকে থামিয়েছে জানতে চাইলাম। সে কোনো উত্তর না দিয়ে আবার ফোনে কথা বললো তারপর আমাকে বললো চলে যেতে আর সেও মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে চলে গেল।’
কারা আপনাকে ফলো করেছে বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানিয়েছি। সেনাবাহিনী প্রধানকেও জানাব। আমি সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছে অনুরোধ করব আমি যে গেট দিয়ে ঢুকেছিলাম ওই গেটে হাই রেজুলেশনের সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে। আমার বিশ্বাস আমাকে যে মোটরসাইকেল ফলো করেছিল তার লাইসেন্স বের করে পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব।’