প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ২০:২৭ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ২০:৩৪ পিএম
সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নাম ভাঙিয়ে সাজানো মামলা ও চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহকে বিষয়টি জানিয়েছেন তারা। এ সময় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করতে চেয়ারম্যানকে অনুরোধও জানিয়েছেন তারা।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সারজিস আলম বলেন, ‘একটা কুচক্রী গোষ্ঠী মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজির চেষ্টা করছে। এ দুটি সমস্যা খুবই প্রকট। কেউ যদি আমাদের নাম ভাঙিয়ে মিথ্যা মামলা বা চাঁদাবাজি করে, তাদের বিরুদ্ধে কমিশন যেন কঠোর ব্যবস্থা নেন।’
সারজিস বলেন, ‘আমরা দুদকে স্পষ্ট বার্তা দিতে এসেছি, আমরা কখনও চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা সমর্থন করি না। যারা এইগুলো করে তাদের যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত তুলে দেওয়া হয়।’
সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দুদকে এসেছি। আমরা খবর পেয়েছি আমাদের নাম ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন জনের কাছে চাঁদা দাবি করছে। আমাদের স্বাক্ষর নকল করে মামলা দেওয়া বা মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নাই। আমাদের নাম ব্যবহার করে অসাধু উপায়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এ বার্তাটি স্পষ্ট করতে এসেছি, আমাদের লিগ্যাল কোনো অথরিটি নাই। আমাদের নাম ব্যবহার করে বিশেষ কোনো সুযোগ সুবিধা নেওয়ার ও দেওয়ার এখতিয়ার আমরা রাখি না।’
সিস্টেম সিস্টেমের মতো চলবে জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দুদকের কাছে এই অনুরোধটি নিয়ে এসেছি দুদকের যে আইন রয়েছে সে অনুযায়ী সব কিছু চলবে। আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন কোনো সুযোগ সুবিধা আদায় করতে না পারে এই বার্তাটি আমরা স্পষ্ট করতে এসেছি। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সমন্বয়ক পরিচয়ে আমাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মামলা দেওয়া হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেহেতু তারা নিজের পরিচয় ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে পারছে না, আমাদের বিতর্কিত করার অসৎ অভিপ্রায়ে আমাদের নাম ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। সমন্বয়ক পরিচয়ে আমরা বিশেষ কোনো সুযোগ সুবিধা দাবি করতে পারি না। যারা দাবি করছে তাদের আইনে সোপর্দ করে দেবেন।’
বিভিন্ন জায়গায় জোর করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যকে পুঁজি করে জোর করে কিংবা বাধ্য করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। পদত্যাগের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। আহ্বান জানাব গণদাবির মুখে পদত্যাগ না করে আপনাদের বিদ্যমান যে প্রক্রিয়া রয়েছে তা অনুসরণ করুন।’ তিনি বলেন, ‘কাউকে পদে বসানো, কাউকে পদত্যাগ করানো, কারও থেকে চাঁদা তোলা বা তদবির করা এগুলো প্রাচীন অতীত। আমরা এসবকে লকারবন্দি করতে চাই।’