বন্যা পরিস্থিতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৩৮ এএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৪ ১০:৪৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েক স্থানে অবনতি হয়েছে। পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকাগুলোয় দেখা দিয়েছে খাবার ও পানির চরম সংকট। ফেনী ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার পানি কমতে শুরু করলেও আতঙ্ক কাটেনি দুই জেলার বাসিন্দাদের। এ ছাড়া রবিবার (২৫ আগস্ট) ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বেড়েছে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েকটি স্থানে। পাশাপাশি অন্যান্য জেলায় পানি কমতে থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা গেছে।
এদিকে নোয়াখালীর সেনবাগ ও কুমিল্লার তিতাসে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু এবং বুড়িচংয়ে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে দুর্গতদের সাহায্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে আসছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মীরা নিজেদের এক দিনের বেতনসহ আর্থিক সহায়তা করছে। ত্রাণ সংগ্রহে কাজ করছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বন্যায় প্রায় ৫২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং দেশের ১১ জেলায় ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৯ পরিবার পানিবন্দি বলে জানানো হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান এসব কথা জানান।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে আরও দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমতে পারে। গতকাল রবিবার আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। আগামী তিন দিন এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও কমতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, আজ সোমবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
ফেনী প্রতিবেদক জানান, জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া উপজেলায় বন্যার পানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফেনী শহরেও কমছে। তবে সোনাগাজী, দাগনভূঞাতে পরিস্থিতি অবনতির দিকে। এ ছাড়া দুর্গত এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার তৎপরতা দেখা গেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্যার্তদের উদ্ধার এবং শুকনো খাবার সহায়তা করছে বলে জানান জেলা প্রশাসক শাহীনা আক্তার। এ ছাড়া জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচলের পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
নোয়াখালী প্রতিবেদক জানান, টানা দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় নোয়াখালীতে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও ফের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গতকালের ভারী বৃষ্টিতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটেছে। অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি ও সড়ক তলিয়ে গেছে। স্কুলে ঢুকে পড়েছে পানি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। জেলার চাটখিল, সোনাইমুড়ী, সেনবাগ ও বেগমগঞ্জে রাতে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে প্রায় তিন ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, সুপেয় পানি ও পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্তি বড় চ্যালেঞ্জ। তা মোকাবিলায় কাজ করছি। হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিকে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে আব্দুর রহমান (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা ও বুড়িচং প্রতিবেদক জানান, পানি কমতে থাকায় জেলার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া গোমতীর বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বুড়িচংয়ের পর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অধিকাংশ তলিয়ে গেছে। গোমতীর পানি ঢুকছে দেবিদ্বার উপজেলাতেও। কুমিল্লার বন্যা আক্রান্ত উপজেলাগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যাঘাত ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্ত এলাকার অপেক্ষাকৃত উঁচু বাজারগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং জরুরি ওষুধের সংকটও দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বুড়িচংয়ের ময়নামতি ও ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের একাধিক স্থানে গোমতীর বাঁধে ফাটল ধরায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালায় এলাকাবাসী। এদিকে জেলার তিতাস উপজেলায় মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে পানির প্রবল স্রোতে ভেসে দুই শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল উপজেলার বাগাইরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারা নয়াকান্দি ইসহাকিয়া সহিনিয়া দারুল কোরআন মাদ্রাসার ছাত্রী। এ ছাড়াও কুমিল্লার বুড়িচংয়ের আগানগর এলাকায় একটি ইটভাটার সামনে থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত (৬৫) বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়।
লক্ষ্মীপুর ও কমলনগর প্রতিবেদক জানান, পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী থেকে বন্যার পানি ঢুকে জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ ডুবে গেছে। এ ছাড়া গতকাল মুষলধারে বৃষ্টির কারণে লক্ষ্মীপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ অবস্থায় ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়। কয়েকটি উপজেলায় কোমরপানিতে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। জেলার বিভিন্ন স্থানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবের পাশাপাশি বেড়েছে পানিবাহিত রোগ। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরে পানিবন্দি প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ। এদিকে গতকাল ও এর আগের দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে রামগতি-কমলনগরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কোথাও এক ফুট আবার কোথাও দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক জানান, নদীর পানি স্থিতিশীল এবং বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ ঘরবাড়ি থেকে পানি সরে গেছে। বিভিন্ন সড়ক ধসে পড়ায় বন্ধ আছে যান চলাচল। পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে বিশেষ বিবেচনায় আখাউড়া ইমিগ্রেশনে যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে। তবে গাজীর বাজার এলাকায় জাজি গাংয়ের সেতু ভেঙে পড়ায় সহসাই আমদানি-রপ্তানি চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া প্রতিবেদক জানান, জেলার বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। যদিও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দুর্ভোগ। জেলার কয়েকটি স্থানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। এদিকে বন্যায় মৌলভীবাজার জেলায় তিন হাজার পুকুর ভেসে যাওয়ায় মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ১৯ কোটি টাকার বেশি। গতকাল এ তথ্য জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ সিরাজী। পাশাপাশি বন্যায় জেলার প্রাণিসম্পদ খাতের ৮৪ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খান। এদিকে গতকাল রাজনগর উপজেলার দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান।
এদিকে দুর্গতদের সহায়তায় বিভিন্ন পেশাজীবী এবং শিক্ষার্থীদের নগদ সহায়তা ও ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বেরোবি প্রতিবেদক জানান, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার গোস্বামী।
রাবি প্রতিবেদক জানান, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে সহায়তায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে এক দিনের বেতন দেবে।
চবি প্রতিবেদক জানায়, ‘গণত্রাণ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ত্রাণ সংগ্রহ করছে চট্টগ্রাম জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে দেখা যায়। সমন্বয়কদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে। ইতোমধ্যে ফেনী, নোয়াখালী, মিরসরাই, ফটিকছড়িসহ বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা টিম।
রংপুর অফিস জানায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। যার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দুর্গতদের জন্য ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর এক দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিবেদক জানান, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গণত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে নাটোরের বাগাতিপাড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় এ গণত্রাণ সংগ্রহ।
এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান জানিয়েছেন, চলমান বন্যায় প্রায় ৫২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানানো হয়েছে এবং দেশের ১১ জেলায় ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৯ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হওয়ায় নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
কামরুল হাসান বলেন, ১১টি জেলার ৭৩ উপজেলা, ৫৪৫ ইউনিয়ন-পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। মৃতের সংখ্যা ১৮ জন, নিখোঁজ দুজন। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা ৩ হাজার ৬৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৭৩ জন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ৭৪৮টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিতরণের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১১ জেলায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনো ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান কামরুল হাসান।
এদিকে গতকাল রবিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বন্যার্তদের উদ্ধার, চিকিৎসাসেবা ও ত্রাণসহায়তায় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় মোট ২ হাজার ৩০০ বন্যাদুর্গত ব্যক্তিকে হেলিকপ্টার ও বোটযোগে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে ৭টি অস্থায়ী মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ৮৬৪ জনকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে ৪ হাজার ৪৮২ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, ফেনীর ছাগলনাইয়াতে গতকাল থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেডিকেল ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। এ ছাড়া জরুরি সেবার লক্ষ্যে ফেনী থেকে গর্ভবতী মহিলাসহ অন্যান্য মুমূর্ষু রোগীকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ঘাঁটি বাশারে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিমানবাহিনীর ১২টি হেলিকপ্টার ও ৫টি পরিবহন বিমান প্রস্তুত রয়েছে।