প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৪ ০০:২০ এএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৪ ১০:৪৬ এএম
ফাইল ছবি
২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার ২০তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস-বিরোধী’ মিছিলপূর্ব সমাবেশে গ্রেনেড হামলা এবং গুলিবর্ষণ করে ঘাতকরা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।
নিহত অন্যারা হলেন- নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন, ইসাহাক মিয়া প্রমুখ। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সাংবাদিক, পথচারীসহ অন্তত কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছিল। ঘটনায় আহত অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। সেদিনের হামলায় আহত হয়ে বহু মানুষ শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা বহন করেই বেঁচে আছেন এখনও। এদের অনেকেই এখনও চিকিৎসা নিতে হয়। দলের জন্য এমন ত্যাগ স্বীকার করেও গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুব ভালো ছিল না এদের অনেকেই।
সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, ২০০৪ সালের এই দিনে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে খোলা ট্রাকে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার মুহূর্তে একজন ফটো সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপা আমরা অনেকেই ছবি তুলতে পারিনি, আপনি আরেকবার মাইকের সামনে দাঁড়ান। তখন শেখ হাসিনা আবার মাইকের সামনে দাঁড়ানোর পর মুহূর্তেই বিকট শব্দ। এরপর একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই নেতাকর্মীদের তৈরি মানবঢালে সেদিন শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশকিছু সময় ধরে চলা একের পর এক গ্রেনেড হামলায় মৃ্ত্যুপুরিতে পরিণত হয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের এলাকা। হামলার শিকার হয়ে ছিন্ন ভিন্ন অবস্থায় অনেকের নিথর দেহ রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগÑ তাদের দলকে নেতৃত্বশূন্য করতে শেখ হাসিনাসহ প্রথম সারির জাতীয় নেতাদের হত্যার উদ্দেশে ওই ঘৃণ্য হামলা চালানো হয়েছিল। অতীতে প্রতিবছর দিবসটিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হলেও এ বছর দলটির পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে ২০ বছর আগে এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর নৃশংস সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় বিচারিক আদালতে রায় হয়। এখন মামলাটি হাইকোর্টে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। এরই মধ্যে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে।