আলাউদ্দিন আরিফ
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ০৮:৪৩ এএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৪ ০৮:৫৭ এএম
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ৪১ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে তাদের নাম উল্লেখ করে বিগত ১৫ বছরে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ১০০ গুণ থেকে শুরু করে কয়েক হাজার গুণ বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকে জমা হয়েছে। এ ছাড়া দুদকে প্রায় একশ সাবেক মন্ত্রী-এমপির অনুসন্ধান ও তদন্ত আগে থেকেই চলমান রয়েছে। নানামুখী চাপে থেমে থাকা অনুসন্ধান ও তদন্তগুলোতেও নতুন করে গতি পাচ্ছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত রবিবার সাবেক ৪১ মন্ত্রী এমপির অবৈধ সম্পদ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যে কমিশনের গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রাক অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আজ-কালের মধ্যেই কমিশন সভায় তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মহাপরিচালক জানান, ‘যাদের অনুসন্ধান ও তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে নতুন কোনো দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ পেলে সেটা পুনরায় তদন্ত করা হবে। যাদের অনুসন্ধান সমাপ্ত হয়নি তাদেরগুলোও দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হবে। তাছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বস্তায় বস্তায় ঘুষ নেওয়ার একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। ওই মহাপরিচালক আরও জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কুমিল্লা ১০ আসনের সাবেক এমপি আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের স্ত্রী কাশমেরী কামাল, মেয়ে নাফিসা কামাল, ফেনী-২ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকা-২০ আসনের এমপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করে ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগেরও অনুসন্ধান চলছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একাদশ জাতীয় সংসদের ৩৫ এমপি ও সরকারের ৫ মন্ত্রী, দশম জাতীয় সংসদের ৫০ এমপি ও ১০ মন্ত্রী, তৎকালীন ৪ সিটি করপোরেশনের মেয়র, ৬ পৌর মেয়রের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। কিন্তু নানামুখী চাপে সেটা বেশিদূর এগোতে পারেনি। শুধু লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর দুই ছেলে সৈয়দ তৈয়বুল বশর ও সৈয়দ আফতাবুল বশরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। অপর অনুসন্ধানগুলো তখন থমকে যায়।
দুদক নতুন করে যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এই তালিকায় রয়েছেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষা, সমাজ কল্যাণ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নৌপরিহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ, সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, শিল্পমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।
এ ছাড়া দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নাম রয়েছে।
দ্বাদশ সংসদের সাবেক এমপিদের মধ্যে আছেনÑ সরওয়ার জাহান (কুষ্টিয়া-১), শরিফুল ইসলাম জিন্না (বগুড়া-২), শহিদুল ইসলাম বকুল (নাটোর-১), শেখ আফিল উদ্দিন (যশোর-১), ছলিম উদ্দীন তরফদার (নওগাঁ-৩), কাজী নাবিল আহমেদ (যশোর-৩), এনামুল হক (রাজশাহী-৪), মামুনুর রশিদ কিরন (নোয়াখালী ৩), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি), মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর-৫), কাজিম উদ্দিন আহমেদ (ময়মনসিংহ-১১), স্বপন ভট্টাচার্য (যশোর-৫), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), নূরে আলম চৌধুরী (মাদারীপুর-১), আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন (জয়পুরহাট-২), শেখ হেলাল উদ্দিন (বাগেরহাট-১), জিয়াউল রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)।
ড. হাছান মাহমুদ
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বিদেশে অর্থ পাচার, দুবাই ও কানাডায় বাড়ি তৈরির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মতে, তিনি বিদেশে পাচার করেছেন হাজার কোটি টাকা। তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের হয়ে চট্টগ্রামের মাতারবাড়ীতে বিভিন্ন প্রকল্পে শত শত কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। চট্টগ্রামভিত্তিক একটি বড় গ্রুপের কাছ থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত ১১ আগস্ট হাছান মাহমুদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। হাছান মাহমুদ মাছ ধরার ট্রলার নির্মাণের জন্য ২০১৩ সালে রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। ১১ বছরের বেশি সময় ধরে ১ টাকাও পরিশোধ করেননি। এরপরও নিয়মিত আছে তার ঋণ। প্রভাব খাটিয়ে অভিনব কায়দায় কিস্তি পরিশোধের সময় এলেই গ্রেস পিরিয়ড তথা পরিশোধ শুরুর সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সুদ মওকুফ করে নিয়েছেন কয়েক দফা। এখন ব্যাংকের পাওনা ১৯ কোটি ৩ লাখ টাকা।
ডা. দীপু মনি
দীর্ঘ সময় মন্ত্রী থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ডা. দীপু মনি। মেঘনার বুক থেকে বালু উত্তোলনের মূলহোতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে তাকে ধরা হয়। তার ক্যাশিয়ার বালুখেকো সেলিম খানকে দিয়ে মেঘনা নদী থেকে কোটি কোটি ঘনফুট বালু তুলে বিক্রি করেছেন এই আওয়ামী লীগ নেত্রী। গত ৫ আগস্ট সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান গণপিটুনিতে নিহত হন। সেলিম খানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকে অনুসন্ধান ও মামলা রয়েছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীপু মনির হলফনামায় দেখা যায়, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে তার আয় বেড়ে ৪১ গুণ হয়েছে। নিজ নামে অস্থাবর (টাকা, সঞ্চয়পত্র, সোনা ইত্যাদি) সম্পদ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫৯ গুণ। দীপু মনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০০৮ সালে প্রথম চাঁদপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তাকে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার রাতে দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ইতোমধ্যে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
নসরুল হামিদ বিপু
বিদুৎ জ্বালানি সেক্টরের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাৎ করেছেন নসরুল হামিদ বিপু। এমন অভিযোগ বহু মানুষের। বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওয়েস্টার্ন পাওয়া, আশুগগঞ্জ পাওয়ারসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এই প্রতিমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে বেশুমার অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি পেমেন্টই (কেন্দ্র ভাড়া) দেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। উৎপাদন না করেও অনেক কেন্দ্র অলস বসে থেকে পেয়েছে ভাড়া। এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগেরই মালিক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। এসব অর্থের কমিশন বাবদ বড় একটি অংশ নিতেন বিপু। বিদ্যুৎ সেক্টরে নিয়োগ বদলি পদায়নে বড় অঙ্কের ঘুষ নিতেন তিনি।
টিপু মুনশি
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি নগদ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থসহ সবই দেখিয়েছিলেন স্ত্রীর নামে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিজ নামে নগদ ২ কোটি ৯০ হাজার ২৩৬ টাকা, বন্ড, শেয়ার ও ঋণপত্রের ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকাসহ সব সম্পত্তি দেখিয়েছেন। কিস্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। অভিযোগ উঠেছে, বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মালিক এই সাবেক মন্ত্রী।
আনিসুল হক
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সম্পদ বৃদ্ধির গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। তিনি ঘুষ নিতেন তার বহুল আলোচিত বান্ধবী তৌফিকার মাধ্যমে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মতে, আনিসুল-তৌফিকা জুটি গত ১০ বছরে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা কানাডাসহ আরও অনেক দেশে পাচার করেছেন। তৌফিকার ছেলে থাকেন কানাডায়। এ ছাড়া পাচারের অর্থে দুবাই এবং মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম হিসেবে কয়েকটি বাড়ি করেছে তৌফিকা-আনিসুল সিন্ডিকেট। প্রতি জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা জজ নিয়োগ থেকে শুরু করে সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ-বদলি করে হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন এই জুটি। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার এক নারী ডেপুটি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তৌফিকা হয়ে ঘুষের টাকা যেত আনিসুল হকের হাতে।
এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যায়, ১০ বছরের ব্যবধানে আনিসুল হকের নগদ টাকা বেড়েছে ২১৮ গুণ। ১০ বছর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি তার কাছে ৫ লাখ টাকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার কাছে নগদ আছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৯ টাকা, যা ১০ বছর আগের তুলনায় ২১৮ গুণ বেশি। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণও ১০ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৭ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার হিসেবে তিনি সিটিজেন ব্যাংক ও এক্সিম বাংলাদেশের শেয়ার মূল্য উল্লেখ করেছেন ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকা। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নিজ নামে কোনো শেয়ার নেই উল্লেখ করেছিলেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৭ টাকা। পাঁচ বছর আগে যা ছিল ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৯৯২ টাকা এবং ১০ বছর আগে ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
জুনাইদ আহমেদ পলক
আওয়ামী সরকারের আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে জুনাইদ আহমেদ পলক লোপাট করেছেন কয়েক হাজার কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার নাম ভাঙিয়ে পলক স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। শুধু পলক নয়, হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকাও। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, আমেরিকায় গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল
তার বিরুদ্ধেও অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। পেশায় আইনজীবী এই সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ২০১৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গত পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। নওফেলের নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৯২ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৬ টাকা, অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ৯২ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৬ টাকা। পাশাপাশি স্ত্রীর নামে বন্ড ও শেয়ার খাতে ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৯১০ টাকার তথ্য দিয়েছেন উপমন্ত্রী। এর বাইরেও ৪২ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওফেলের নামে ব্যাংক ঋণ ছিল ৩২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৫ টাকার।