প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৪ ১০:১০ এএম
সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জিয়াউল আহসান। ছবি কোলাজ : প্রবা
রিমান্ডে থাকা ভিআইপি বন্দিদের নানামুখী জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টিম গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। চৌকস কর্মকর্তাদের এই টিম তাদেরকে ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, গুম, আয়নাঘর এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে এই ভিআইপিরা নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ছাড়া এখনও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেননি।
সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে বহুল আলোচিত আয়নাঘর ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম করা নিয়ে জেরা করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলী সম্পর্কেও। জবাবে জিয়াউল বলেন, ‘আমি নিজেও আট দিন আয়নাঘরে ছিলাম। এটা আমার সৃষ্টি নয়। আমার ওপর রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব আমি পালন করেছি। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না।’
ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ রাজনৈতিক নেতাদের গুম হওয়ার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেননি জিয়া। গত শুক্রবার জিয়াউল আহসানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সেনাবাহিনী। এর আগে গত ৭ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে আটক করে তাকে সেনাবাহিনীর আশ্রয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শনিবার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন।
এদিকে গতকাল শনিবার ছিল সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের রিমান্ডের চতুর্থ দিন। তাদের ইন্ধনে নিউমার্কেটের দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে হত্যা করা হয়েছেÑ এমন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও সার্বিক বিষয় জেরার আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নীলনকশার পেছনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারা কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়েও তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।
নিউমার্কেট থানার ওসি ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে জেরা করেন। সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, কোর্টে সাবমিট করার জন্য যে কাগজপত্র বা অর্ডার শিট উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো পড়তে দেওয়া হয়। বাংলায় লেখা পড়তে না পেরে সালমান জানান, তার বাবা পাকিস্তানে ব্যবসা করায় ছোটবেলায় সেখানে ছিলেন। এ কারণে তিনি বাংলা পড়তে পারেন না। তখন আনিসুল হক তাকে পড়ে শোনান। পরে সালমান এফ রহমান কোর্টে সাবমিট করার কাগজে স্বাক্ষর করেন। শাহজাহান হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কখন মার্ডার হয়েছে, কারা নির্দেশ দিয়েছে এসব বিষয়ে কোনো কিছু জানি না।’ তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
নিউমার্কেট থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যা মামলাটি এখনও আমরা তদন্ত করছি। থানা এখনও ভগ্নদশায় থাকায় আসামিদের ডিবিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
এদিকে আনিসুল হক পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে শুনে তিনি হাসেন। তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করে ডিবি। গত ১৩ আগস্ট সালমান ও আনিসুলকে গ্রেপ্তার করার পরদিন ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ ছাড়া পলক ও সামসুল হক টুকুকে পল্টন থানার একটি হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।