× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিনটি গোষ্ঠীর দিক থেকে বিপদ আসতে পারে : আনু মুহাম্মদ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৪ ০৯:০১ এএম

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৩৬ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ছবি : সংগৃহীত

তিনটি গোষ্ঠীর দিক থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য বিপদ আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, ‘তিনটি গোষ্ঠীর দিক থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রথমত, যারা গত ১৫ বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে, স্বৈরতন্ত্রের সুবিধাভোগী এই গোষ্ঠীর দিক থেকে একটি ঝুঁকি রয়েছে; দ্বিতীয়ত, ডিজিএফআই, ডিবির মতো সিভিল অ্যান্ড মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির দিক থেকেও ঝুঁকি রয়েছে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে বিপদের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ স্বৈরতন্ত্র তাদের জন্য সুবিধাজনক। কাজেই এই তিনটি গোষ্ঠী সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’

শনিবার (১০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কী চাই?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও জনগণের ওপর গুলি চালানো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়াসহ শিল্প স্থাপনা, উপাসনালয়, মাজার, ভাস্কর্যের ওপর হামলা ঠেকানো ও বিচারের দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

সভায় অংশ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকÑসুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিলি প্রমুখ। সভায় ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম। এতে প্রত্যাশিত সংস্কারের জন্য সংসদ, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, রাজনৈতিক দল, পুলিশ ও স্থানীয় সরকার পদ্ধতিসহ ২০ খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রথমেই বলতে হবে, তারা কী কী কাজ করবে। আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান সকল জাদুঘর এবং আয়না ঘরের মতো স্বৈরাচারী জাদুঘর সংরক্ষণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এসব ইতিহাসের অংশ হিসেবে রাখতে হবে।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমলাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অপচেষ্টা করে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ আইনে যুক্ত করা হয়েছে যেÑকর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে অপরাধ করলে দায়মুক্তি পাবেন। মানুষকে হত্যা করে যেভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে, তা স্বাধীন দেশে মেনে নেওয়া যায় না।’

সরকারের জন্য ছয়টি আশু ও ১৩টি দীর্ঘমেয়াদি পরামর্শ

সভায় লিখিত বক্তব্যে সরকারের আশু করণীয় হিসেবে হিসেবে ছয়টি ও দীর্ঘমেয়াদে ১৩টি পরামর্শ দেওয়া হয়। লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন চার শিক্ষক দীপ্তি দত্ত, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, শেহরিন আতাউর খান ও লাবণী আশরাফী। এই পর্ব সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা। 

এতে বলা হয়, সরকারের করণীয় আশু ৬ প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছেÑআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা; বিভিন্ন উপাসনালয় ও স্থাপনায় হামলা ঠেকানো এবং বিচার করা; জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ জনগণের ওপর জুলুমের জন্য দায়ীদের জাতিসংঘের সহযোগিতায় তদন্ত কমিটি ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তদন্ত ও বিচার শুরু করা; কোটা আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং নিহতের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করা; সাম্প্রতিক সময়ের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আটককৃতদের মুক্তি দেওয়া; এবং শিল্প-কলকারখানা খুলে দিয়ে সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। 

দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের ১৩ করণীয় প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিসংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায়, জুলাই হত্যাকাণ্ডে নিহত শহীদদের তালিকা, স্মৃতিস্তম্ভসহ নানা বিষয় নিয়ে কমিউনিটি সেন্টার চালু করা; গণমাধ্যমকে সরকারের প্রভাব থেকে মুক্ত করা এবং ডিজিটাল বা সাইবার সিকিউরিটি আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেওয়া; পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট বিলুপ্ত করা এবং কৃষি খাতের বাজার ব্যবস্থাপনা পুনরুদ্ধার করা; আমলাতন্ত্র সংশোধন করে জনবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ড তদন্তে নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনাল গঠন নিশ্চিত করা; প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দলীয় রাজনীতি মুক্ত করা; দেশি-বিদেশি গোপন চুক্তি জনগণের সামনে আনা; বিদ্যমান শিক্ষাক্রম বাতিল করা এবং শিক্ষানীতি নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা; সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নে একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করা; প্রবাসীদের জীবনমানকে মূল্য দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; পাহাড়িদের ভূমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সব অসম প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করা; জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশের শিল্পের বিকাশ নির্ধারণ করা; ব্যাংক থেকে দুর্বৃত্ত চক্র ও নিয়ম ভঙ্গ করে নেওয়া ঋণগ্রহীতাদের আইনের আওতায় আনা; সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জনবৈচিত্র্যের সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা