× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হিন্দুদের ওপর হামলায় উদ্বেগ

হামলা ও নৈরাজ্য রুখে দাঁড়াও

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৪ ০০:১১ এএম

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪ ১১:৪৪ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়, মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী স্থাপনা-ভাস্কর্য ধ্বংস ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ-আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। 

বিভিন্ন স্থানে মিছিল করে হামলার ঘটনা ঘটছে। আবার কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবেও হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভয়ে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে পালাতে ও চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অবশ্য কোনো কোনো এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও উপাসনালয়কে রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারার ব্যবস্থাও করেছে। 

শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত সোমবার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি, উপাসনালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশের প্রতিনিধিত্বশীল বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব ঘটনার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। 

গত সোমবার বিকেলে কয়েকশ লোক যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া বাজারের অন্তত ২৫টি দোকানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়ায় উপজেলা হিন্দু পরিষদের সভাপতি সহদেব সাহার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের পাশাপাশি নারীদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিলেটে সংস্কৃতিকর্মী ডা. ধ্রুব গৌতমের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর বাগেরহাটের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন বসুর বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল স্থানীয় অধিবাসী মীনা রানী দাসের বাড়িতে হামলা চালায়। নাটোরের লালপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দ্বীপেন্দ্রনাথ সাহ ও তার ভাই নরেশ চন্দ্র সাহার বাড়িসহ ছয়টি বাড়ি ও একটি মন্দিরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। মেহেরপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িসহ হিন্দুদের ৯টি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মেহেরপুর পৌর শহরের হোটেল বাজার এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক পল্লব ভট্টাচার্যের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ঈশানিয়া ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারে সংখ্যালঘুদের অন্তত ৪০টি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। চাঁদপুরে পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারের শহরের আদালত পাড়ার বাসায় এবং ফরিদগঞ্জে গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হরিপদ দাসের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকা মনসা বাড়ির একটি মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দুর্বৃত্তরা মন্দির ভাঙার পাশাপাশি আসবাবপত্রও নিয়ে গেছে। রংপুরের তারাগঞ্জে ভাঙচুর করা হয়েছে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয়। প্রাচীর ভেঙে ইটও খুলে নেয় হামলাকারীরা।

অরাজকতা বিজয়কে ভূলুণ্ঠিত করছে : সুলতানা কামাল

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরে গত সোমবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিজয়োল্লাস শুরু করেন। কিন্তু লক্ষ করা গেছে, বিজয়োল্লাসের মধ্যেই একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী দেশে ভয়ানক অরাজকতা সৃষ্টি করতে থাকে। ইতোমধ্যে বিদায়ি সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নেতাকর্মী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও তাদের বাসস্থানে অগ্নিসংযোগ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক, লজ্জাজনক এবং তা অর্জিত বিজয়কে ভূলুণ্ঠিত করছে। এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে সকলের সতর্ক দৃষ্টি থাকা উচিত। স্পষ্টতই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কখনোই ছাত্রদের কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গত সোমবার বিজয় অর্জিত হওয়ার ঘোষণার পর জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে হামলা ও পুলিশের গুলিতে ৯ জেলায় প্রায় ১১২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলেছে ধ্বংসাত্মক কাজ, যা আন্দোলনের অর্জনকে কলুষিত করে তুলেছে। এ ঘটনাগুলোর পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অবশ্যই অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত, যা নাগরিক জীবনে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করছে। দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের আক্রোশ, প্রতিশোধস্পৃহা ও সংঘাত পরিহার করে দেশের স্বার্থে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।’ 

ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়ার ঘটনা যেন না ঘটে : টিআইবি 

ক্ষমতা পরিবর্তনের এমন ক্রান্তিলগ্নে জেলায় জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ধর্মীয় উপাসনালয়, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং নির্বিচারে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, ‘ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পতিত হওয়ার ঘটনা যেন না ঘটে।’

এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অভূতপূর্ব বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে এসে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট ও লুটপাট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাতে হচ্ছে, যা খুবই বেদনা ও হতাশার।’ সংসদ ভবন, আদালত প্রাঙ্গণ ও প্রধান বিচারপতির বাসভবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, থানা, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ এদেশের জনগণের। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদের করের টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। আজ যারা প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ ধ্বংস করছে, তাদেরকে ভাবতে হবে, যে সরকারই আসুক না কেন, দেশ পরিচালনা করতে হলে এসব স্থাপনা অবশ্যই পুনর্নির্মাণ করতে হবে।’

হামলার ঘটনায় ইইউর উদ্বেগ 

বাংলাদেশে ধর্মীয়, জাতিগত ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর উপাসনালয় এবং লোকদের ওপর একাধিক হামলার প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মিশন। গতকাল মঙ্গলবার এক বার্তায় এই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আন্দোলনকারী ছাত্র ও অন্যদের প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে আরও বলা হয়, আমরা জরুরিভাবে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রত্যাখ্যান এবং সব বাংলাদেশির মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা চেয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও উদীচী

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সব ধরনের সহিংসতা বন্ধে কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে নাÑ সেই প্রশ্নও তুলেছেন শিক্ষকরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এই অভিযোগ তুলে ধরেন। বক্তব্য তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, মোশাহিদা সুলতানা, কাজী মারুফুল ইসলাম, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মি হোসেন ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইমুম রেজা তালুকদার। দেশের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আগেই সেনাবাহিনীকে পেশাগত কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দেশজুড়ে হামলা, লুটপাট ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রাক্কালে কিছু বিতর্কিত ও ধর্মান্ধ ব্যক্তির ডাকে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হচ্ছে।

পাহারায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মন্দির ও গির্জায় পাহারা দিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও মসজিদের ইমামরাও রয়েছেন। গতকাল সংঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান হেফাজতে ইসলামের 

রাষ্ট্রের সম্পদ, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল সকালে রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় নির্বাহী কমিটি ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক জরুরি এক বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা খলিল আহমাদ কাসেমী বলেন, ‘কেউ নিজের হাতে আইন কোনোভাবেই তুলে নেবেন না। যাতে একটু ভুলের কারণে আমাদের অর্জিত এই গৌরবজনক বিজয় লক্ষ্যচ্যুত না হয়ে যায়।’

বিএনপি মহাসচিবের আহ্বান

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বার্তায় বলেছেন, ‘এখনও যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিশোধমূলকভাবে অগ্নিসংযোগ করছেন, লুটপাট করছেন, বাড়িঘরে হামলা করছেন…. দয়া করে এটা এই মুহূর্ত থেকে বন্ধ করুন। যারা এটা করছেন, তারা কেউ আন্দোলনের লোক নন, যারা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন তাদের লোকেরা এসব করছে। আমি দেশবাসীর কাছে এবং আমার দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করবÑ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

প্রতিরোধ করার আহ্বান জামায়াতের 

একটি সুবিধাবাদী দুর্বৃত্ত গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্থাপনা, প্রতিপক্ষের বাড়িঘর এবং ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে জানিয়ে তা প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বিকালে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।

দেশজুড়ে হামলা-লুটপাট-সহিংসতার নিন্দা উদীচীর

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার পতনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা-লুটপাট-সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব হামলার প্রত্যক্ষ শিকার হচ্ছেন ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের উপাসনালয়, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে হামলা-লুটপাট চালানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। চাঁদাবাজি করা হচ্ছে, চলছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত অনেক ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনাতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে শিল্পাচার্য জুয়নুল আবেদীনের ভাস্কর্য। উদীচীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। উদীচী এই সকল ঘটনারই নিন্দা জানাচ্ছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছে। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রাক্কালে সমাজের কিছু বিতর্কিত ও ধর্মান্ধ ব্যক্তিদের ডেকে পরিস্থিতি আরো জটিল করা হচ্ছে।

রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান সুজনরে 

সহিংসতা, লুটপাট বা ধ্বংসযজ্ঞ না করা, নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়া এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্তদের রক্ষা করা ও তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক। একইসঙ্গে প্রাণহানিসহ রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত স¤পদ ধ্বংসের যে কোনো উদ্যোগ রুখে দাঁড়ানো ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন নেতৃবৃন্দ। গতকাল বকিালে সুজন কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে আয়োজতি সংবাদ সম্মলেনে এ আহ্বান জানানো হয়। 

৩০ জেলায় হামলা রুখে দাঁড়াও

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ড, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নির্বাহী সভাপতি ধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি গতকাল সরকার প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয়  ও জাতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ধর্মীয় উপশনালয়ে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন নিপীড়ন সমাজের কতিপয় স্বার্থান্বেশী মহলের পক্ষ থেকে অদ্যাবদি চালিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ জানা গেলো কমপক্ষে ৩০টি জেলায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিপীড়ন চালানো হয়েছে। আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর  কাছে আহবান জানাই, মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।  সমাজের বিবেকবান নাগরিকদের কাছেও  আমাদের আহবান মানুষের পাশে ।
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা