× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মন্ত্রী-এমপিদের বাসা, আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন-ভাঙচুর

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৪ ০৮:৪২ এএম

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৪ ১১:২৬ এএম

সোমবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুউদ্দীন চৌধুরীর বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুউদ্দীন চৌধুরীর বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা এক দফা দাবিতে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিন গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুর নাগাদ পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে সাধারণ ছাত্র-জনতা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতাও শুরু হয়। যার লক্ষ্যস্থল ছিল এমপি-মন্ত্রীর বাসভবন ও আওয়ামী লীগের অফিস। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়ও হামলা করা হয়। সহিংসতাকারীরা এ সময় আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রতিদিনের বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা প্রতিবেদকদের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে আসে।

নড়াইল

নড়াইলে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার ডুপ্লেক্স বাড়ি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলুসহ অন্তত ২৫ নেতা-কর্মীর বাড়ি, গাড়ি, দোকান ভাঙচুর-লুটপাট ও আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের দুটি স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, নৌকা আকৃতির গেট, পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজী জহিরুল হক, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নীল সিকদার নীল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এস. এম পলাশ, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ সিংহ পল্টুর বাসভবন ও বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। 

ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বাসায় আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমানের বাসায়ও আগুন দেওয়া হয়। পৌর কাউন্সিলর হাফিজ আল মাহামুদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়। ধানসিঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মাসুমের ধানসিঁড়ি আবাসিক হোটেলও চালানো হয় ভাঙচুর। ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে। 

ফেনী

গতকাল দুপুরের পর থেকে ফেনী শহরের আওয়ামী লীগ কার্যালয়, পৌরসভা, সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর বাসভবন, দলীয় নেতাদের কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। শহরের মাস্টারপাড়ায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বাড়ি, বাঁশপাড়ায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীলের কার্যালয় ফেনী পৌরসভা, স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, আগুন ও গুলিবর্ষণ করা হয়। বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

নওগাঁ

নওগাঁয় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের বাসভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সদর আসনের এমপি ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন এবং খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়। এছাড়াও নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেলের বাসভবন এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টুনুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের বাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় বাড়িতে থাকা সকল মালামাল লুট করা হয়। এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ও প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের বাসায়ও ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। নাসিম ওসমানের মালিকানাধীন ভবনে থাকা হোয়াইট হাউস রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। 

নাটোর

নাটোরের কয়েকজন সংসদ সদস্যের বাড়িতেও আগুন ও হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুরের পর নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বাসভবনে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। বিকালে নাটোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের শহরের কান্দিভিটাস্থ বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি নাটোর পৌরসভা ও পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার জাহিদুল ইসলামের বাড়িতেও আগুনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর বনপাড়ার মালিকানাধীন ক্লিনিকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। 

বরিশাল

বরিশালে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসভবন ও দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সেনাপ্রধানের ভাষণের পর শুরু হয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। নগরীর কালিবাড়ী রোডে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাসভবন এবং বাসাসংলগ্ন ক্লাব ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এছাড়াও দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় কার্যালয় সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবনেও আগুন দেয়া হয়। একই সময় অপর একটি সিটি করপোরেশনের প্রধান ভবনে ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর চালানো হয় বরিশাল সার্কিট হাউস ভবনে। বরিশাল বেলস পার্কে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ নগরীতে থাকা একাধিক ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে। 

বগুড়া

বগুড়া জেলার সোনাতলা, কাহালু ও দুপচাঁচিয়াসহ কয়েকটি উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় পত্রিকার কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। শহরে আগুন দেওয়া হয়েছে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপুর বাসভবনে। হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রায় ডজন খানেক নেতার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে।

খুলনা

খুলনায় গতকাল বিকালে দৌলতপুর এলাকায় সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানের রেলিগেট বাসভবন, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম কামাল হোসেনের অফিস ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেগ লিয়াকত আলীসহ বেশ কয়েকজন নেতার বাসভবন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম মনিরুজ্জামান মুকুলের অফিস, যুবলীগ নেতা গাজী সাহাগীর হোসেন পাভেল, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি গাজী আলী বাকের প্রিন্সের বাসভবনে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

খালিশুপুরে আওয়ামী লীগ অফিস, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফ হোসেনের বাড়ি ও দোকানসহ বেশ কয়েকজন নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এছাড়া ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম টিটুর বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়। খুলনা প্রেস ক্লাবে আগুন দিয়ে লুটপাট, আনন্দ টিভির প্রতিনিধি আমজাদ আলী লিটন ও বাংলা টিভির ক্যামেরাম্যান শেখ জালালের গ্রামের বাড়ি ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলায় দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক সুব্রত ফৌজদারকে মারপিট করেছে। কয়রায় সা‌বেক এম‌পি আক্তারুজ্জামান বাবুর বা‌ড়ি‌তে আগুন দেওয়া হয়। উপ‌জেলা চেয়ারমম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি জিএম মোহ‌সিন রেজার বাসভবন ঘেরাও কর‌লে তার বাসভবন থে‌কে গু‌লি নি‌ক্ষেপ করা হয়। এতে ১০ জন গু‌লি‌বিদ্ধ হয়। পরবর্তী‌তে বাসভব‌নটি আগুনে জ্বা‌লি‌য়ে দেওয়া হয়। 

মাগুরা

মাগুরায় হামলা করা হয় সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের বাসভবনে। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে ভাঙচুর করা হয়। যুবলীগ নেতা মীর সমুনের ওষুধের দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়াও লাবনী মটরস-এ হামলা চালিয়ে দোকানে থাকা ১০০ অধিক মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। বিকালে শহরের নতুন বাজারে বলাই সাহার পাটের গুদামে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় বর্তমান এমপি বীরেন শিকদারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয় । পাশাপাশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শিশিরের বাড়ি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাখারুল ইসলাম শাকিলের চেম্বার ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। 

লক্ষ্মীপুর

গতকাল সোমবার বিকালে শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, তমিজ মার্কেট এলাকায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু, হ্যাপি হল এলাকায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া, ফায়ার সার্ভিস এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাসের বাসভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে গত রবিবার বিকালেও আওয়ামী লীগ নেতা নয়ন, যুবলীগ নেতা টিপুর বাসায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। 

মুন্সীগঞ্জ 

গতকাল বিকালে মুন্সীগঞ্জে আন্দোলনকারীরা স্থানীয় সাংসদ হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লব ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিনের শহরের কোর্টগাঁওস্থ বাসভবন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এ ছাড়াও জ্বালিয়ে দেওয়া হয় মুন্সীগঞ্জ পৌরভবনসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। 

ময়মনসিংহ 

ময়মনসিংহে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ হোসাইনের আজাদ জুতার দোকান লুট করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের বাসায় আগুন দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুর বাসায় লুটপাট, মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সরকারের বাড়ি, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আরব আলীর ফিসফিড মিলে আগুন, যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম মনির বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

পঞ্চগড় 

পঞ্চগড়ে গতকাল সকালে শিক্ষার্থীদের মিছিলে পঞ্চগড় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফ হোসেন বাধা দিয়েছেনÑ এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুদ্ধ জনতার একটি দল তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সাংসদ নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার বোদা পৌরসভা ও পঞ্চগড় সদরের বাড়ি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শেখ মিলন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম হুমায়ূন কবীর  উজ্জ্বল ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। এছাড়াও বোদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অমিয় আল অমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম সাবুলসহ অনেক আওয়ামী নেতার বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। 

নোয়াখালী

নোয়াখালীতে দুই সংসদ সদস্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও একাধিক সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল   বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিথুন ভট্টর বাসভবনে আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পৌরসভা কার্যালয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস ও কৃষি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

কক্সবাজার

কক্সবাজারে বিভিন্ন সরকারিপ্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, নেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের থাকা বঙ্গবন্ধু ছবি অপসারণ, মুর‌্যাল ভাঙচুর করা হয়। বিকাল ৪টায় কক্সবাজার লালদিঘী পাড়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার ঘটনা ঘটে। এই সময় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমলের মালিকাধীন আবাসিক হোটেল, বিমানবন্দর সড়কে মরহুম আওয়ামী লীগ নেতা একেএম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। 

জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জয়পুরহাট থানা, সদর উপজেলা পরিষদ, জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়রের বাসাসহ বিভিন্ন সরকারি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের স্থাপনায় আক্রমণ করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়। বঙ্গবন্ধু ম্যুরালসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করা হয়। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে আক্রমণ করে। এরপর তারা সদর উপজেলা পরিষদ, জয়পুরহাট পৌরসভা মেয়রের বাসা, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের বাসা, জয়পুরহাট সদর থানায় আক্রমণ-ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ অফিসেও হামলা হয়। 

শেরপুর

শেরপুরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন হামলাকারীরা। সোমবার শহরের গোপালবাড়ী এলাকায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনের প্রধান ফটকে ভাঙচুর করা হয়। পরে ডিসির বাসভবন সংলগ্ন অফিসার্স কোয়ার্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক হুইপ আতিউর রহমান এবং সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দার আলীর বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। মিরগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি ছানোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুন্নাহার কামালের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হামলাকারীরা। এ ছাড়াও পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনের মার্কেট ও অ্যাডভোকেট আবির হোসেনের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। 

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা পৌর মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিনের বাসভবন, উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন ভাঙচুর ও ডাকবাংলো ভবনে আগুন দেওয়া হয়। ছাত্রলীগ নেতা আবু সায়হাম রুমেলের বাসায় ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় উপজেলা শহরে আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ীদের দোকানপাটের মালামাল লুট করা হয়। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢাকা মেট্রোপলিটন রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জিল্লার রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গঠন করা জিকে ফাউন্ডেশনে আগুন দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে জিল্লারের বাড়িতে আগুন দেওয়া হলে দুটি মোটরসাইকেল ও গাড়ি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বান্দরবান 

বান্দরবানে আওয়ামী লীগের অফিসে অগ্নিসংযোগ ও সাবেক মন্ত্রীর বাড়ি হামলা করেছে। বিকাল ৪টায় বান্দরবানে আ. লীগ অফিসে আগুন ও রাজার মাঠ সংলগ্ন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির বাড়িঘর ভাঙচুর করে। 

রাঙামাটি 

রাঙামাটিতে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতির মালিকানাধীন আবাসিক হোটেলে ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার চেষ্টা হয়েছে পৌরসভার মেয়র ও জেলা যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরীর বাসভবনে। ইটপাটকেল ছোড়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের রেস্ট হাউসেও। 

পটুয়াখালী

পটুয়াখালীতে জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেনের বাবভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও হামলা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়। কলাপাড়া পৌরসভা মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদারের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ত্রাসী এ হামলায় পৌর মেয়র ও প্রেস ক্লাব সভাপতি বিপুল চন্দ্র হাওলাদারসহ তার পরিবারের অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার বিকালে মেয়রের বাসভবনে আগুন ও লুটপাট করা হয়। এ ছাড়াও মেয়রের ছেলের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। লগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস ও ধূলাসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসসহ দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমানের মালিকানাধীন মার্কেট ভাঙচুর করা হয়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অফিস ও বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আওয়ামী লীগের অফিসের চেয়ার-টেবিল বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাকজিল খলিফার বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেয়।বিকালে আখাউড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাহাব উদ্দিন বেগ শাপলুর বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাঙচুর করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসি ল্যান্ডের সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

কুমিল্লা

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ অফিস, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও এমপি বাহারের বাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ১০০ নেতাকর্মী বিবির বাজার স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুল, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ, ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গাজী গোলাম সারোয়ার শিপনসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাসায় হামলা হয়। এদিকে পুরো জেলায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতার বাড়ি, তিতাস ও নাঙ্গলকোট থানায় ভাঙচুর করা হয়। হামলা ও আগুন লাগানো হয় কুমিল্লা ক্লাবে। 

বাগেরহাট 

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা