প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ১৮:০৭ পিএম
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে সেমিনার আয়োজন করে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। প্রবা ফটো
মৎস্যখাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বর্তমানে দেশের ১৪ লাখ নারী মৎস্য সেক্টর থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে। এ খাতে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। খাতটির উন্নয়ন করতে হলে জলবায়ু সহিষ্ণু চাষাবাদ আবিষ্কার, গবেষণাবৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজে গুরুত্ব দিতে হবে।
শুক্রবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারের বক্তারা এসব মন্তব্য করেন।
বিএফআরআইর মহাপরিচালক মোহসেনা বেগম তনুর সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস ঝুমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কাইয়ুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিএফআরআইর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মশিউর রহমান ও প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক।
সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, ‘সরকার ২০৪১ সালে ৮৫ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আমাদের বিশ্বাস সেই সময়ের আগেই তা অর্জন করা সম্ভব হবে। মৎস্যখাতে আমার কাছে কিছু অর্জন বিস্ময়কর মনে হয়। ৪০টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন একটি নীরব সাফল্য। এসব অর্জনের পেছনে অনেকেই দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। যার ফলে আমরা আজ এ পর্যায়ে এসেছি।’
মোহসেনা বেগম তনু বলেন, ‘বর্তমানে গতানুগতিক মাছ চাষ করলে চলবে না। আমাদের কৃষি জমি নষ্ট না করে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে মাছ চাষ করতে হবে। এখন ৫০০ হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন হচ্ছে।’
সৈয়দ মো. আলমগীর বলেন, ‘আমিষ থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্যখাত অন্যতম। সামগ্রিক কৃষিতে মৎস্যখাতের অবদান ২২ শতাংশ। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে স্মার্ট হতে হবে।’
মাহফুজুল হক বলেন, ‘নদী শাসনের ক্ষমতা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসা দরকার। তা ছাড়া নদী খনন, বিলের সঙ্গে পুনর্স্থাপনও মন্ত্রণালয়টির সম্পৃক্ততা দরকার।’
প্রযুক্তির সফলতা সম্পর্কে ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘১৯৮৩-৮৪ সালে দেশে ছোট মাছের উৎপাদন ছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ২০২২-২৩ সালে সেই উৎপাদন ২ লাখ ৬৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। এতে দেখা যায় ৩৯ বছরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২ লাখ ৭ হাজার টন। তা ছাড়া সাম্প্রতিককালে শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, কৈ, বাটা, পুটি, ভাগনা, তারা, বাইম, ভেদাসহ বিভিন্ন প্রকারের ছোট মাছের পোনা উৎপাদন করে সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।’