প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪ ২০:২৫ পিএম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিমে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শিক্ষকদের টানা এক মাসের কর্মবিরতি ও আন্দোলনের পর এ সিদ্ধান্তে এসেছে সরকার। সোমবার (২৯ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন বাতিলসহ সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি ও শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবি উপস্থাপন করেন। এসব দাবি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে টানা তিন ঘণ্টার মতো যুক্তিতর্ক ও আলোচনা হয়। শেষমেশ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রত্যয় স্কিম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাকি দাবিগুলো ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে বলে জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিনটা দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা করেছি। প্রত্যয় স্কিমে শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন না বলে উভয় মহল থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি দাবিগুলোও যুক্তিযুক্ত বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। এ দাবিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত ১ জুলাই থেকে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে যারা যোগদান করবেন প্রত্যয় স্কিমে প্রত্যয় পেনশন কর্মসূচিতে যোগ দিতে হবে বলে জানায় সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে বেকে বসেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, প্রত্যয় স্কিমে বিদ্যমান পেনশন থেকে সুযোগ-সুবিধা অনেক কম। এ স্কিম বাতিলের দাবিতে জুন থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। এতে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ১ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যান দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে, এ ইস্যুতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তাদের বৈঠকও হয়। কিন্তু সে বৈঠকে সমাধান না আসায় আন্দোলন চালু রাখেন তারা।