× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাম্প্রতিক সহিংসতা

নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কত

শহীদুল ইসলাম রাজী

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪ ১০:১৫ এএম

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪ ১১:৪০ এএম

নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কত

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের সংখ্যা কতÑ এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। রবিবার (২৮ জুলাই) সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন রকম তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। সেসব তথ্যে রবিবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৮৫ থেকে ২১০ জন উল্লেখ করা হয়েছে। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। তবে এই সংখ্যা বাড়ছে। এখন সহিংসতা না থাকলেও আগে যারা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ মারা যাচ্ছে। তবে উল্লিখিত ঘটনায় আহতদের সংখ্যা কতÑ সে সম্পর্কে তথ্য জানা যায়নি কোনো পক্ষ থেকেই। ফলে নিহত ও আহতদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছে না। ছড়াচ্ছে গুজবও। 

গতকাল রবিবার বিকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তালিকা যাচাই-বাছাই এবং মৃতের সংখ্যা নির্ণয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে।’

তিনি বলেন, ‘সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে ৫০০, কখনও বলা হচ্ছে এক হাজার। সে জন্য সরকারের কাছে যে হিসাব ছিল সেটি দেওয়া হলো। বিভিন্ন হাসপাতাল, বিভিন্ন জেলা থেকে নিহতের এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।’ 

নিহতের সংখ্যা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে অনেক গুজব ছড়াচ্ছেনÑ এ বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সহিংসতার ঘটনায় নিহতদের তালিকা পাওয়া গেছে। এই তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপরও কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ 

নিহতদের তালিকায় কতজন ছাত্র, কতজন পুলিশ এবং কতজন অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে নিহতদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তালিকা হাতে পাওয়া গেছে। তাদের সম্পর্কে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিহতদের মধ্যে কতজন নারী, কতজন পুরুষ কিংবা কোন পেশার কতজন রয়েছেÑ সেটি নির্ধারণের কার্যক্রমও চলছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের হত্যাকাণ্ড, বর্বরোচিত আক্রমণ পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ দেখেছে বলে আমার মনে হয় না। তারা একটা হাসপাতাল পর্যন্ত রেডি রেখেছে, কেউ ইট কিংবা লাঠির আঘাতে আহত হলে তাদের সেখানে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে আরেক দল এসেছে। আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণগুলো করেছে।’ 

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ১৬ জুলাই নিহত হয়েছে ৬ জন, ১৮ জুলাই ৪২ জন, ১৯ জুলাই ৮৫ জন, ২০ জুলাই ৩৮ জন, ২১ জুলাই ২১ জন, ২২ জুলাই ৫ জন, ২৩ জুলাই ৩ জন, ২৪ জুলাই ৩ জন, ২৫ জুলাই ৫ জন এবং গতকাল ২৬ জুলাই একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে গত সোমবার থেকে গত শনিবার পর্যন্ত সব মৃত্যু চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে। তবে প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১৮৫ জন। তাদের মধ্যে ১৭ জুলাই ৬ জন, ১৮ জুলাই ১১ জন, ১৯ জুলাই ৪১ জন, ২০ জুলাই ৭৫ জন, ২১ জুলাই ২৬ জন, ২২ জুলাই ৬ জন (ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে), ২৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জন, ২৪ জুলাই ৩ জন, ২৫ জুলাই ৩ জন ও ২৬ জুলাই দুজন। এ ছাড়া গত শনিবার ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন। এর মধ্যে গত ১১ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ৯৩ মরদেহ নেওয়া হয়েছে। 

অনলাইনে গুগল মিট প্ল্যাটফর্মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন নিহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। তারা একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিহত ২৬৬ জনের মধ্যে ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। আমরা ধারণা করছি, এক হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অজ্ঞাত ও মিথ্যা হামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাসায় বাসায় এবং মেসে গিয়ে ছাত্র পরিচয় পেলে আটক করা হচ্ছে। 

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। গতকাল জাতীয় পার্টির যৌথ সভায় সহিংসতায় নিহত শিক্ষার্থীদের বীর মুক্তিসেনা হিসেবে আখ্যায়িত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রকৃত নিহতের তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

সমাজ ও অপরাধবিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার পরিধিটা অনেক বড় ছিল। সহিংসতা ঘিরে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আমরা যে চিত্র দেখছি তাতে নিহতের সংখ্যা গণমাধ্যমগুলোতে একেক রকম। যারা আন্দোলন করেছেন তারাও একেকটা সংখ্যা বলছেন।

এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। বেসরকারি তথ্যের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ের তথ্যের একটা দূরত্ব বা গরমিল সব সময়ই আমরা দেখেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগেও আমরা তথ্যের এরকম গরমিল পাই। তবে এক্ষেত্রে এই তিন পক্ষের কাছেই সঠিক তথ্য থাকে না। সবকিছু মিলিয়ে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সহিংসতায় নিহতের যে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে, আমাদের দেশের বাস্তবতায় তার প্রতি আমরা আস্থা রাখতে পারি। 

আস্থা রাখার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আস্থা রাখতে পারি এই কারণে যে, অতীতেও আমরা দেখেছি এক মাধ্যমের উপাত্তের সঙ্গে আরেক মাধ্যমের উপাত্তের কিছু ব্যবধান থাকে। তবে আমাদের দেখতে হয় যে, ব্যবধানের পরিমাণ কত। অনেক বেশি কিনা, কয়েক গুণ কিনা। এখানে সেরকম বড় ব্যবধান মনে হচ্ছে না। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা