× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ব বাঘ দিবস

সুন্দরবনের সমৃদ্ধি কত দূর

সুনীল দাস চৌধুরী, খুলনা

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪ ০০:২৮ এএম

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪ ২২:২৮ পিএম

সুন্দরবনের সমৃদ্ধি কত দূর

আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। এ বছর ‘বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি-সুন্দরবনের সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘ রয়েছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশ- বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও রাশিয়ায় প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়ে আসছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাসস্থল সুন্দরবন হলেও এদের পাচার থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আবাসস্থল নিরাপদ করা, খাদ্যের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষাসহ পাঁচ কারণে বাঘ বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া আজও সম্ভব হয়নি। 

২০২২ সালে বাঘ সংরক্ষণে ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সুন্দরবনের বাঘ গণনার কাজ চলছে। আগামী মাসে এ গণনার ফলাফল প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। তবে এবারের গণনায়ও সুন্দরবনের বাঘ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে আশঙ্কা করছেন সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা। 

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে সুন্দরবনের বাঘের প্রধান খাদ্য দেড় শতাধিক মৃত ও আহত হরিণ উদ্ধারের ঘটনায় শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীদের মতে, বিভিন্ন দেশের বাঘ বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নিলেও সুন্দরবনে বাঘের মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন থেকে পাচারও থেমে নেই। ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৩ বছরে সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় শিকারিদের হানা, গ্রামবাসীর পিটুনি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৭৯টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। 

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঘ সংরক্ষণে এপ্রিল ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ মেয়াদে ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বন অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বাঘ ও অন্যান্য প্রাণী সংরক্ষণ, বাঘশূন্য স্থানে বাঘ স্থানান্তরের মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল সংরক্ষণ, লোকালয়সংলগ্ন সুন্দরবনে নাইলন রশির বেষ্টনী, বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব কমানো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে বাঘ সংরক্ষণে বন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

প্রাণি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা সুন্দরবনের মূল্যবান সম্পদ বাঘ বৃদ্ধি না হওয়া ও মৃত্যুর জন্য পাঁচ কারণকে চিহ্নিত করেছেন। তারা বলছেন, শিকারি ও বনদস্যুদের পাচার, প্রতিবছর প্রাকৃতিক ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, আবাসস্থলের নিরাপত্তাহীনতা, শিকার প্রাণী বা খাদ্য সংকট, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে সুন্দরবনে বাড়ছে না রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা। উপরন্তু সুন্দরবন বিভাগের লোকবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংকটের কারণে বাঘ সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাঘের মৃত্যু ঘটছে। ফলে সুন্দরবনে বাঘের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি হুমকিতে রয়েছে। 

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের মোট ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দুটি পূর্ব সুন্দরবন ও পশ্চিম সুন্দরবন নামে বিভাগে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা ও চাঁদপাই এবং পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ অবস্থিত। এ ছাড়া ১৭টি স্টেশন ও ৭২টি টহল ফাঁড়ি রয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বাগেরহাটে ও পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের সদর দপ্তর খুলনায় অবস্থিত। এ দুই বিভাগে মোট ১ হাজার ১৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।

বাঘ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এভাবে বাঘের মৃত্যু হওয়ায় প্রাণী জগতের মধ্যে বাঘই সবচেয়ে অরক্ষিত। ফলে এর সংখ্যা বৃদ্ধি না হয়ে বরং প্রতিনিয়ত কমছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার একসময় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। 

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ডিএফও আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন জানান, বন বিভাগের প্রয়োজনীয় জনবল, উপকরণ ঘাটতির কারণে সুন্দরবনের বাঘসহ বন্য প্রাণীকে সঠিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২০২২ সালে দাতা সংস্থার অর্থায়নে সুন্দরবনের বাঘ, হরিণসহ মূল্যবান প্রাণী রক্ষায় বিশেষ টিম গঠন করে সুন্দরবনে বনরক্ষীদের টহল বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই টহল টিম বেশ কয়েকবার বাঘ দেখেছে। আমাদের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধ থাকায় বন্য প্রাণীর আশানুরূপ বিকাশ ঘটেছে। 

খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, ‘২০১৮ সালের পর সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪ থেকে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। বাঘ সুরক্ষিত করতে সরকার প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় উন্নত পদ্ধতিতে বাঘ গণনাও করা হচ্ছে। আশা করছি, আগস্ট মাসে বাঘ গণনার ফলাফল প্রকাশিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে বাঘ বৃদ্ধির তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যে হারে সুন্দরবনের প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে, সেটা ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে, গত ২৬-২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে দেড় শতাধিক মৃত ও আহত হরিণ উদ্ধার হয়েছে। ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন প্লাবিত হওয়ায় বড় বাঘগুলো নিরাপদ থাকলেও ছোট ছোট বাঘের বাচ্চার কী অবস্থা হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। সুন্দরবনের গহীনে বাঘের বাচ্চা ও বয়স্ক বাঘের মৃত্যু হলেও তাদের মৃতদেহও পাওয়া যায় না, সাগরে ভেসে যায়। এতেই আশঙ্কটা বেড়েছে। এ ছাড়া চোরা শিকারি ও বনদস্যুদের পাচার এখনও রোধ করা যায়নি। ফলে সুন্দরবনে বাঘ বাড়ার সম্ভাবনাতেও শঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা