কোটা আন্দোলনে সহিংসতা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৪ ২১:১২ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪ ২১:৩২ পিএম
কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় রাজধানীর রামপুরা ও রায়েরবাগে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত চিকিৎসাধীন আরও দুই শিক্ষার্থী মারা গেছেন। শুক্রবার (২৬ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান রামপুরা বনশ্রী এলাকায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ ডালিম (২০) ও বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যাত্রাবাড়ী রায়েরবাগে গুলিবিদ্ধ মাদ্রাসাছাত্র মাইনুদ্দিন (২৪)। এ নিয়ে এই আন্দোলন ঘিরে ১৮৪ জন নিহত হয়েছে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ইমতিয়াজ ও মাইনুদ্দিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত ইমতিয়াজের ঊরুতে দুটি ও মাইনুদ্দিন পিঠ ও গলায় গুলিবিদ্ধ হন।’
এ নিয়ে গত ১০ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ৯২ মরদেহ নেওয়া হলো। তার মধ্যে ছিল ১৭ জুলাই দুজন, ১৮ জুলাই ১১ জন, ১৯ জুলাই ৪৩ জন, ২০ জুলাই দুই পুলিশসহ ১২ জন, ২১ জুলাই ৯ জন, ২২ জুলাই ছয়জন, ২৩ জুলাই একজন ও ২৪ জুলাই তিনজন, ২৫ জুলাই এক ছাত্রসহ তিনজন এবং ২৬ জুলাই দুজন।
নিহত ইমতিয়াজের বাবা নওশের আলী জানান, তার ছেলে তেজগাঁও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ত। ১৯ জুলাই রামপুরা বনশ্রী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইমতিয়াজ।
নিহত মাইনুদ্দিনের বাবা কামরুল ইসলাম জানান, মাইনুদ্দিন তার স্ত্রী মায়মুনা আক্তারকে নিয়ে যাত্রাবাড়ী রায়েরবাগ এলাকায় বাস করত। সেখানে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত এবং টিউশনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২১ জুলাই রায়েরবাগ এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি শেষ করে নিজের বাসায় ফেরার পথে তার হঠাৎ গুলি লাগে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, কোটা আন্দোলনে সহিংসতায় গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১৮৪ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জুলাই ৬ জন, ১৮ জুলাই ১১ জন, ১৯ জুলাই ৪১ জন, ২০ জুলাই ৭৫ জন, ২১ জুলাই ২৬ জন, ২২ জুলাই ছয়জন (ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে), ২৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন, ২৪ জুলাই মারা গেছে তিনজন ও ২৫ জুলাই মারা গেছে তিনজন। এ ছাড়া ২৬ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় দুজন।