চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ২০:৪৮ পিএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪ ২১:৩৯ পিএম
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক আমিরুল মোস্তফা। সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। রবিবার বিকাল চারটায় দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন আগের সচিব অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র নাথ। সচিব পদে নারায়ন চন্দ্র নাথের বিদায় ও আমিরুল মোস্তফার যোগ দেওয়ার আগে বোর্ডের ভেতর বেশ বড় ধরনের রদবদল হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নারায়ন চন্দ্র নাথের বিদায়ের পর বোর্ডের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্বরত ২১ জনে রদবদল হয়েছে। বোর্ডের উপসচিব মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের সইয়ে তাদের বদলির আদেশ জারি করা হয়। তার আদেশে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বদলি হওয়াদের মধ্যে আছেন আটজন সেকশন অফিসার, পাঁচজন অফিস সহকারী, দুজন উচ্চমান সহকারী ও ছয়জন অফিস সহায়ক। তাদের দেওয়া আদেশে বলা হয়েছে– বোর্ড চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে সই করা এই আদেশ সইয়ের দিন থেকেই কার্যকর হবে।
ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই জলঘোলা অবস্থা চলছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। ২০২১ সালে তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্রের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার পর ২০২৪ সালে আবার একই অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্তে এ বছরের এপ্রিলে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। এর মধ্যেই নারায়ন চন্দ্রকে বোর্ড থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে বদলি করা হয়।
নারায়ণের বিদায়ের পর আরেক সচিব যোগ দেওয়ার আগে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বড় রদবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। তাদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আগের সচিব থাকতে অথবা নতুন সচিব যোগ দেওয়ার পর এই আদেশ দেওয়া যেত। মাঝখানে তো একটা রাত। এ রাতটা কেন অপেক্ষা করা গেল না। কিসের এত তাড়া– উপসচিবকে দিয়ে তড়িঘড়ি আদেশটা জারি করাতে হলো।
বিষয়টিকে একেবারেই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সব শাখা প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বদলি করা হয়েছে। যারা প্রশ্ন তোলে তাদের দুরভিসন্ধি আছে। তারাই বোর্ডের অবস্থা খারাপ করছে।
একজন সচিবের বিদায়ে আরেকজন যোগদানের আগে তড়িঘড়ি করে আদেশ জারি কেন– জবাবে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, এটা যেকোনো সময়েই হতে পারে। কোনো বাধা তো নেই। আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তড়িঘড়ির কোনো বিষয় নেই।