প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১৩:০৪ পিএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১৩:৩১ পিএম
সোমবার সকালে আশুরা উদ্যাপন ও তাজিয়া/শোকমিছিল উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে হোসেনি দালান ইমামবাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। প্রবা ফটো
কোটা ইস্যুতে আদালতের আদেশ না মেনে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালালে শক্ত হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আদালতের নিয়ম মানতে আমরা বাধ্য। অতএব পুলিশ যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে তা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই হবে। যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালান বা চালাতে চান, সেটা যেই হোক শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।’
সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে আশুরা উদ্যাপন ও তাজিয়া/শোকমিছিল উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে হোসেনি দালান ইমামবাড়িতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
আশুরার নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘তাজিয়া মিছিল কেন্দ্র করে অতীতে জঙ্গি হামলা ঘটেছে। বিষয়টি মাথায় রেখে এ বছর আমরা সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রণয়ন করেছি।ইতোমধ্যে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আশপাশে তল্লাশি সম্পন্ন করেছি। পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা কাজ করছেন। ইমামবাড়ার আশপাশে যেসব উঁচু ভবন রয়েছে সেসব ভবন থেকে কেউ বা কোনো গোষ্ঠী যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঘটাতে না পারে সেজন্য এসব ভবনের ওপর ও নিচে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, ১৭ জুলাই পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরে শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার, তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় উৎসব কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা হাতে নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
হাবিবুর রহমান বলেন, রাজধানীতে যেসব ইমামবাড়া রয়েছে সেসব জায়গায় পুলিশের ডগ স্কট চেকিং সুইপিং সবকিছু ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এখানে (ইমামবাড়ায়) যারা প্রবেশ করবেন, তাদের অবশ্যই আর্চয়ে গেটে তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। ইমামবাড়ার সন্নিকটে যেসব উঁচু ভবন রয়েছে সেসব ভবন থেকে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তাব্যবস্থা মনিটরিং করবে। ইমামবাড়াসহ পুরো এলাকায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ইমামবাড়ার আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং করা হবে।
তিনি বলেন, ইমামবাড়া থেকে মিছিল বেরিয়ে যে স্থানে যাবে এবং যে রাস্তা দিয়ে যাবে সবখানে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। কেউ বা কোনো গোষ্ঠী গুজব বা অপপ্রচার করতে না পারে সেজন্য সাইবার স্পেসেও মনিটরিং করা হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ইমামবাড়ার ভেতরে যাতে কেউ ছুরি-চাকু দিয়াশলাই বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষকেও আমরা নজরদারির জন্য অনুরোধ করছি। একই সঙ্গে পুলিশও বিষয়টি নজরদারি করবে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের যেহেতু পতাকা নেওয়ার একটি প্রচলন রয়েছে সেজন্য পতাকা যাতে খুব বেশি উঁচু না হয়, বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে যেন বেঁধে না যায় সে বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে তাজিয়া মিছিলের সব নিরাপত্তা প্রণয়ন করা হয়েছে। আশা করি আগামী তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।
কোটা আন্দোলনের চলমান অবস্থায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, ‘চলমান কোটা আন্দোলনের বিষয়টি আদালতের। আদালত যে আদেশ দেবেন তাকে শ্রদ্ধা ও মানা নাগরিকের দায়িত্ব। আমরা আদালতের নিয়ম মানতে বাধ্য। পুলিশ যেসব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে সেগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই করবে। যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালায়, সে যে-ই হোক তাকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।’