বন্যা পরিস্থিতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১১:৩৪ এএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১১:৫৫ এএম
কুড়িগ্রামে দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক মানুষ। বেড়েছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে বানভাসি মানুষ। রবিবার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর এলাকায়। প্রবা ফটো
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা কমাসহ কুড়িগ্রাম জেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার কাছাকাছি জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে পদ্মা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় কমতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সার্বিকভাবে কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মহানন্দা ছাড়া দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোয় পানি কমতে পারে। একই সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদের কাছাকাছি সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তাছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রামে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক জানান, জেলায় দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক মানুষ। এ জেলায় বেড়েছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বানভাসিরা। এসব এলাকায় মানুষজনের মধ্যে পা-হাতে সাদা ঘা, চুলকানি, জ্বর ও পাতলা পায়খানাসহ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। সঠিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও কিশোরীরা বেশি সমস্যায় পড়েছে।
সদর উপজেলার রলাকাটার চরের বেসরকারি সংস্থার স্বাস্থ্যকর্মী হাসিনা বেগম বলেন, বন্যার কারণে চরের মানুষের জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বেশি অসুস্থ রোগীদের নৌকায় সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা গ্রামের সফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ির সবাই ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত। কুড়িগ্রাম সদরের স্বাস্থ্যকর্মী আব্দুল হান্নান বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। প্রাথমিকভাবে সবাইকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানিয়েছেন, এবার বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ত্রাণের মজুদ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পানিবাহিত রোগের চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট
প্রতিবেদক জানান, গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটাসহ চার উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এদিকে পানিবন্দি হয়ে ১২ দিন ধরে চার উপজেলার ২৯ ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট। নষ্ট হওয়ার উপক্রম প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, বাদাম, মরিচ ও আমনের বীজতলাসহ শাকসবজির ক্ষেত। বন্ধ হয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামের সবুজ মিয়া জানান, বন্যা শেষ হয়ে গেলে আমরা বেঁচে যাই। প্রতিবছর বন্যায় এত কষ্ট আর ভালো লাগে না।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর জামান রিংকু বলেন, পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে চরাঞ্চলের কিছু বাড়িঘরে পানি রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও চাল রবাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রংপুরে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে
রংপুর অফিস জানায়, উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে বৃদ্ধি পাওয়া তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচরের প্লাবিত এলাকা থেকে পানি সরে গেছে। পাউবো সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দিনভর পানি ১৯ সেন্টিমিটার কমে সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমতে পারে। ভাঙন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আজ সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।