প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ২২:১০ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪ ২২:২৭ পিএম
ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা ২০৭টি মোবাইল জব্দ করে পুলিশ। প্রবা ফটো
ভারতে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া আইফোনসহ বিভিন্ন কোম্পানির স্মার্টফোন চলে আসে বাংলাদেশে। ঢাকায় এসব মোবাইল ফোন কিনে সেগুলো শোরুমে ডিসপ্লে করে রেখে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে।
সম্প্রতি ভারতে চুরি হওয়া একটি আইফোন ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে উদ্ধারের পর তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০৭টি মোবাইল উদ্ধার হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মোবাইলের শোরুমের মালিক শাকিল এবং তার সহযোগী ইমরান।
পুলিশ জানায়, ভারতীয় নাগরিক শাহিন রোশান নামে এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর একটি আইফোন হারায় ২৭ মার্চ। এ ঘটনায় দেশটির স্থানীয় থানায় জিডি করার পর ওই মোবাইলের লোকেশন বাংলাদেশে রয়েছে বলে নিশ্চিত হয় ভারতীয় পুলিশ। মোবাইলের মালিক শাহিন রোশান ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমরান হোসেন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইলটি কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে উদ্ধার হয়। মোবাইলটি যার কাছ থেকে উদ্ধার হয় সেই ব্যক্তি মোবাইলটি কিনেছিলেন শাকিল ও ইমরানের কাছ থেকে।
৩ জুলাই শাকিল ও ইমরানকে ভারতে চুরি হওয়া মোবাইল বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের রিমান্ড হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে। শাকিলের ধানমন্ডিতে অর্চার্ড পয়েন্ট নামে একটি মার্কেটে মোবাইলের শোরুম রয়েছে। ওই শোরুমে চোরাই মোবাইলগুলো বিক্রির জন্য ডিসপ্লে করে রাখা হতো। দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবে চোরাই মোবাইল বিক্রি করে এলেও কখনও ধরা পড়েনি। তারা ভারতের বিভিন্ন শহর বিশেষ করে মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, কেরালা এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে এসব চোরাই মোবাইল কিনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে নিয়ে এসে বিক্রি করত। তাদের দেওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির অর্চার্ড প্লাজায় শাকিলের মোবাইলের দোকান থেকে ২০৭টি মোবাইল উদ্ধার হয়।
লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) ইমরান হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শাকিল ও ইমরান মোবাইলের মেকানিক হিসেবে কাজ করত। সেই সুবাদে তাদের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তি মোবাইল বিক্রি করত। ওইসব মোবাইল তারা আবার অন্য মানুষের কাছে বিক্রি করত। এভাবে তারা ছিনতাই হওয়া, চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইলও বিভিন্নজনের কাছ থেকে কিনে আইএমই নম্বর পরিবর্তন করে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করত।’
তিনি আরও জানান, ভারত থেকে চুরি হওয়া যে মোবাইলটি কামরাঙ্গীরচর থেকে উদ্ধার হয়েছিল, সেটিও কিনেছেন ইমরান ও শাকিল। পরে ওই ফোনটি তারা এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। ওই ফোনের সূত্র ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত, নেপাল, ভুটান ও সিঙ্গাপুর থেকে বিভিন্ন কোম্পানির স্মার্টফোন অবৈধভাবে এনে থাকেন। এসব ফোনের মধ্যে অনেক ফোন থাকে যেগুলো চুরি ও ছিনতাই হওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়া। আইনের ভাষায় অন্য দেশ থেকে কোনো কিছু আনতে হলে সেগুলোর শুল্ক পরিশোধ করে আনতে হয়। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলো বাংলাদেশে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক পরিশোধের কাগজপত্র না থাকায় সেগুলো অবৈধ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিএমপির কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।’