× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কোটা বাতিলের আন্দোলন

‘বাংলা ব্লকেডে’ স্থবির দেশ, জনদুর্ভেোগ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৪ ১২:০৪ পিএম

রাজধানীর শাহবাগে কোটা বাতিলের দাবিতে অবরোধ চলাকালে প্ল্যাকার্ড বুকে এক শিক্ষার্থী। প্রবা ফটো

রাজধানীর শাহবাগে কোটা বাতিলের দাবিতে অবরোধ চলাকালে প্ল্যাকার্ড বুকে এক শিক্ষার্থী। প্রবা ফটো

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে গতকাল দিনভর কার্যত অচল ছিল সারা দেশ। সকাল ১০টা থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ রাখেন। দুপুরে আপিল বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা দেন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান। একই আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক-পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু এসব আহ্বানে সাড়া দেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের কারণে গতকাল পরিস্থিতি এমন ছিল যে, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দপ্তরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর গাড়িতে করে সেখানে আর যেতে পারেননি ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশনপ্রধান চার্লস হোয়াইটলি এবং উপপ্রধান বার্নড স্পানিয়ের। গাড়ি থেকে নেমে খানিকটা হেঁটে, অনেকটা পথ অটোরিকশায় করে জাতীয় সংসদে পৌঁছেন তারা। তারপর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। 

দুপুরের পর থেকে অবরোধ জোরালো হয়ে ওঠে। এসময় অবরোধ করা এলাকা দিয়ে জরুরি পরিবহন ছাড়া কোনো পরিবহনই চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। এতে দিনভর চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগণকে। ঢাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সারা দেশের যোগাযোগ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবি নির্বাহী বিভাগের কাছে। যতক্ষণ নির্বাহী বিভাগ থেকে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার না আসবে ততক্ষণ তারা রাজপথ ছাড়বেন না। 

আজও দিনব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি

আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে দেশব্যাপী ফের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ নতুন কর্মসূচি ঘোষণাকালে বলেন, ‘আজ (গতকাল বুধবার) সারা দেশে ও ঢাকায় কোনো গাড়ির চাকা ঘুরতে দেওয়া হয়নি। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি আনাচেকানাচে শিক্ষার্থীরা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে। সাড়ে ৩টায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমবেত হয়ে এ কর্মসূচি শুরু করব।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের বারান্দায় যেতে চাই না। আমরা আমাদের পড়ার টেবিলে থাকতে চাই, রুটিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। ছাত্ররা কোটার বিরুদ্ধে তাদের রায় রাজপথে জানান দিয়ে যাচ্ছে এবং জানান দিয়ে যাবেÑযতক্ষণ না আমাদের দাবি মানা হয়। আমাদের দাবি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, আমরা এক দফার কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে, নির্দেশনা আসতে হবে যে, একটি কমিশন গঠন করে সরকার এই কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সমাধান করবে। এই দাবিতে আগামীকাল (আজ) বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বাংলাদেশের আনাচেকানাচে, প্রতিটি রাজপথে শিক্ষার্থীরা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে। 

কর্মসূচি ঘোষণার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

সরেজমিনে ঢাকা মহানগর 

গতকাল সকাল থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর শাহবাগ, বাংলা মোটর, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মৎস্যভবন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সংলগ্ন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, পুরানা পল্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে ও দেশাত্মবোধক গান গাইতে দেখা যায়। সকাল ১০টা থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। 

শিক্ষার্থীদের এই অবরোধ ঘোষণার কারণে সকাল থেকেই রাজধানীতে গণপরিবহন কিংবা পাবলিক পরিবহনের সংখ্যা ছিল কম। যেসব গাড়ি রাস্তায় বের হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে আবার জরুরি পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন স্থানে যানপরিবহন আটকে রাখা হয়। জরুরি পরিবহনকেও কার্ড কিংবা যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড পার হতে হয়। ফলে রাজধানীর রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের দিনভর নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

দুর্ভোগে সাধারণ জনসাধারণ

পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন মাখন মিয়া, সঙ্গে স্ত্রী ও ছেলে মোজাহিদ। ছয় বছরের মোজাহিদের শ্বেতীরোগ আছে, রোদে তাকাতে কষ্ট হয়। উত্তরা থেকে থেমে থেমে যানপরিবহন পরিবর্তন করতে করতে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত এসেছে পরিবারটি। সঙ্গে দুটি ব্যাগ। সেখানেই কথা হলো তাদের সঙ্গে।

দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর কাওরানবাজারে কথা হয় নাসরিন আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ যেতে হবে। আগারগাঁও ৬০ ফিটের বাসা থেকে বের হয়ে রিকশা দিয়ে আগারগাঁও মোড় পর্যন্ত এসেছিলাম। সেখানে এসে দেখি, কোনো গাড়িই চলছে না। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটেই রওনা হয়েছি গুলিস্তানের উদ্দেশে।’

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে হেঁটে বাংলা মোটর পার হচ্ছিলেন আজিজুল ইসলাম। হাতে ট্রলি ও কয়েকটি ব্যাগ। আজিজুল বলেন, ‘হবিগঞ্জ থেকে বাসে সায়েদাবাদ পর্যন্ত এসেছি। সেখান থেকে একটা সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে মোহাম্মদপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম। মৎস্যভবনে আসার পর শিক্ষার্থীরা অটোরিকশা আটকে দিয়েছে। তারপর কোনো উপায় না পেয়ে হেঁটে হেঁটে রওনা দিয়েছি। গরমে বাচ্চাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কিছু করার নেই। 

প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল রেল যোগাযোগ

শুধু সড়ক নয়, গতকাল রেলপথও আটকে রেখেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তারা রাজধানীর কারওয়ান বাজারের এফডিসি মোড় সংলগ্ন এলাকা, মহাখালীর আমতলা এলাকায় সকাল থেকেই অবস্থান নেন। তারা কাঠের গুঁড়ি ফেলে, শুয়ে-বসে অবরোধ করেন। ফলে দুপুর ১২টার দিক থেকে ঢাকার সঙ্গে দেশের অনেক এলাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা রেলপথ থেকে চলে গেলে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রাসূচিতে বিপর্যয় দেখা দেয়, ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। ঢাকা-জামালপুর পথে চলাচলকারী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনসহ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহসহ দেশের সাতটি স্থানে কোটা আন্দোলনকারীরা রেলপথ অবরোধ করায় সারা দেশে ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে ট্রেন চলাচল করে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে ভৈরববাজার হয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে ট্রেন চলে। গাজীপুর হয়ে ট্রেন যায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে। পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর, রাজবাড়ীসহ কয়েকটি জেলায় ট্রেন চলাচল করেছে।

কমলাপুর রেলের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে ৫টা ২০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঢাকার বাইরেও তীব্র আন্দোলন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা একটি পথনাটক করেন। এতে দেশের দুর্নীতি, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের চিত্র উঠে এসেছে। 

চট্টগ্রাম নগরীতে সড়ক অবরোধ চালিয়ে বিক্ষোভ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। সড়ক ও রেলপথ অবরোধের অংশ হিসেবে সকালে নগরীর দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের নিচে অবস্থান নেন তারা। এরপর দুপুর ১টা থেকে শিক্ষার্থীরা নগরীর টাইগারপাস মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানেই অবস্থান করেন। অবরোধের কারণে ওই এলাকার সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রেলপথ অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যায়নি কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন। তবে দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা রেললাইন থেকে সরে এলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টায় বাকৃবির মুক্তমঞ্চ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড়ে গিয়ে ১১টায় ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দেন। বিকাল সোয়া ৫টা পর্যন্ত ট্রেনটিকে আটকে রাখা হয়। এই ট্রেনসহ ওই রোডে চলাচলকারী সব ট্রেনই গতকাল সারা দিন বন্ধ ছিল। আন্দোলন চলার সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট হয়ে গোবিন্দগঞ্জ বাজারে এসে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন তারা।

প্রায় চার ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টিতে ভিজে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কটির কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী অংশে এসে অবরোধ করেন। বেলা সাড়ে তিনটায় অবরোধ তুলে নেন তারা। এই অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরীর প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। 

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিহাস মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বাইপাস সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আড়াই ঘণ্টা পর সাড়ে তিনটার সময় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন তারা। 

খুলনায় রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন সরকারি ব্রজলাল কলেজসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মহানগরীর নতুন রাস্তা এলাকায় অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া বেনাপোল থেকে খুলনাগামী কমিউটার ট্রেনসহ একাধিক ট্রেন আটকে পড়ে। 

ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের, কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের, মাদারীপুর শহরের মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের ডিসি ব্রিজ এলাকায় মাদারীপুর সরকারি কলেজের এবং ঢাকা-কুয়াকাটা সড়ক অবরোধ করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।

রাজধানীতে মেট্রোরেলে যাত্রীদের চাপ 

শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচিতে কার্যত রাজধানী অচল থাকলেও চলাচল করেছে মেট্রোরেল। তবে মেট্রোরেলে যাত্রী চাপ ছিল ব্যাপক। সকাল থেকে সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছতে স্টেশনে স্টেশনে ভিড় জমান। সরেজমিনে দেখা যায়, টিকিটের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। টিকিট কেটে অনেকে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেও ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতে পারছেন না। 

সচিবালয় স্টেশনে বেলা ৩টার দিকে কথা হয় উত্তরাগামী যাত্রী রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে জরুরি একটি কাজে এসেছিলাম। দুপুর ২টা থেকে টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও ট্রেনে উঠতে পারিনি। আসার পথেও ব্যাপক ভিড় ছিল ট্রেনে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা