প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০৬ পিএম
চলমান এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হককে হেয় করার ঘটনায় প্রশ্নপ্রয়ণকারী ও মডারেটরদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তাদের বোর্ডের আর কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। আগামী সপ্তাহে এই চিঠি পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্রটি প্রণয়নকারী ময়মনসিংহের মহাকালী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেন এবং পরিশোধন বোর্ডের সভাপতি নাটোরের সিংড়া উপজেলার টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পারভীন আক্তার ও সদস্য ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শিউলী বেগমকে আমরা শোকজ করেছিলাম। এর মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, তিনি আমিনুল হক লিখতে চেয়েছিলেন, ভুলক্রমে আনিসুল হক লিখে ফেলেছেন। উদ্দীপকে যেহেতু নাম লিখতে হয়, সেই হিসেবে তিনি নামটি লিখেছেন। এজন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।‘
তিনি জানান, মডারেটরদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা কেন প্রশ্নটি ঠিকভাবে দেখেননি। জবাবে দুই মডারেটরই জানিয়েছেন, তারাও বিষয়টি সেইভাবে খেয়াল করেননি। এজন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
ওই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযুক্তদের জবানবন্দি যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি।’
এ প্রসঙ্গে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকরা খুবই মর্মাহত। তারা তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের আর বোর্ডের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রাখব না। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করব। মন্ত্রণালয় বাকি ব্যবস্থা নেবে।’
কবে মন্ত্রণালয়ে এই চিঠি পাঠানো হবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটি আমার কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আমি আগামী সপ্তাহেই রিপোর্টটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।’
গত ৬ নভেম্বর বাংলা-২ এর কীর্তনখোলা সেটের ক-বিভাগের গদ্য অংশের সৃজনশীল প্রথম প্রশ্নে উদ্দীপকে লেখক আনিসুল হকের নাম উল্লেখ করে তাকে হেয় করে প্রশ্নে বলা হয়, ‘২১শে বইমেলায় তাড়াহুড়ো করে তিনি বই প্রকাশ করেন। পাঠকদের কাছে তার লেখা খাপছাড়া মনে হয়। ফলে পাঠকদের কাছে তিনি সমাদৃত হন না।’ এরপর প্রশ্ন করা হয়েছে, (ক) ‘‘যশ’’ শব্দের অর্থ কী? (খ) ‘‘লেখা ভালো হইলে সুনাম আপনি আসিবে।’’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। (গ) আনিসুল হক কোন কারণে ব্যর্থ, তা ‘‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’’ রচনার আলোকে ব্যাখ্যা করো। (ঘ) সাহিত্যের উন্নতিকল্পে ‘‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’’ রচনায় লেখকের পরামর্শ বিশ্লেষণ করো।
বিষয়টি প্রচার হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বিষয়টি তদন্ত করতে গত ১০ নভেম্বর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরিদর্শক খালেদ হোসেন ও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ (ডিপ্লোমা) মোহাম্মদ শাহিন কাওসার সরকার।