প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৯:৪৬ পিএম
বিমানবন্দরে অভিবাসী কর্মীরা। ফাইল ফটো
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি, তাদের জমা দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এজন্য অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমিতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সঙ্গে আলোচনা করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আলোচনায় দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে– যেসব কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেননি তাদের টাকা ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি টাকা ফেরত না দিলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।
তিনি জানান, নির্ধারিত তারিখ ৩১ মে এর মধ্যে যারা মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, সেসব কর্মীদের জমা দেওয়া টাকা আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফেরত দিতে রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুধবার আমরা বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি) সঙ্গে বসেছি। তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে– যেসব কর্মী যেতে পারেননি, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তারা (বায়রা) ১৫ দিন সময় চেয়েছে। আমরা বলেছি, আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে যারা টাকা দিতে পারবে না তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়– এমন নির্ধারিত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব নেবে। কর্মী পাঠানো প্রক্রিয়ায় জড়িত সব রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বায়রা তত্ত্বাবধান করবে। কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীর টাকা ফেরত দিতে অসহযোগিতা করলে বায়রা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন– ৩১ মে পর্যন্ত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৯ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫২ জন মালয়েশিয়া গিয়েছেন। এ হিসাবে ১৭ হাজার ৭৭৭ জন যেতে পারেননি।
শফিকুর রহমান বলেন, আমার ১৫ দিন দেখব– কতজন কর্মীকে টাকা দেওয়া হয়। তা বিবেচনায় নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করব। আমাদের উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা যেন তাদের টাকা ফেরত পায়। মানুষগুলো টাকা ফেরত পাওয়াটা আমাদের প্রধান কাজ। আশা করি, বায়রা ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো এবিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করবে।
চলতি মাসের শেষের দিকে কুয়ালালামপুরের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এ মাসের শেষের দিকে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হবে। আমরা আমাদের বিষয়গুলো তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করছি, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলবে। আবার বাজার খুললে যারা যেতে পারেনি তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।