প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৯:২৩ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪ ২০:০২ পিএম
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংগৃহীত ফটো
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধিতে অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচন করেছে। এই সম্ভাবনা পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মোচনের জন্য গবেষণা খাতে বিনিয়োগ অপরিহার্য।’
বুধবার (৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ওশান প্রসপারিটি : ক্যাটালাইজিং ব্লু ইকোনমি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সামুদ্রিক সম্পদের গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭৩ সালে প্রথম সামুদ্রিক গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করেছিলেন; যা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। তার নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। সুতরাং সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ, সমুদ্রদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে।’’
তিনি বলেন, ‘টেকসই সামুদ্রিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারে প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তি, ধারণা ও অভিজ্ঞতা দেওয়া-নেওয়া প্রয়োজন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বাণিজ্যের হাব হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রদূষণসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশের সমুদ্রের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহায়তা কামনা করেন স্পিকার। এ ছাড়া বে-টার্মিনাল প্রকল্পে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংক অর্থ সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম বলেন, ‘বেসরকারি খাত ও গবেষকদের সমন্বয়ে দেশের সামুদ্রিক সম্পদকে টেকসইভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গেলে সুনীল অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে কাজ করছি।’
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘মেরিন ট্রান্সপোটেশন আমাদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো মোকাবিলয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই সমুদ্র নিশ্চিত করতে হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমুদ্রকে কাজে লাগাতে বন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ চলছে। মৎস্য আহরণ, খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চল।’
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং বলেন, ‘বাংলাদেশে টেকসই অর্থনীতির জন্য সুনীল অর্থনীতির বিকল্প নেই। বাংলাদেশের জন্য এই খাতে এডিবি সহায়তা দেবে।’