আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪ ২১:২৪ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪ ০০:৪২ এএম
দলের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ছবি : পিআইডি
বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে, মানুষকে সুখী-সমৃদ্ধ জীবন উপহার দিতে হবে– এই একটা চিন্তা থেকে দেশে ফিরে আসেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। দেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা অবশ্যই উপহার দেব। স্মার্ট সোনার বাংলাদেশ আমরা ইনশাল্লাহ গড়ে তুলব। স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তুলে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে নিয়ে যাব– প্লাটিনাম জয়ন্তীতে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।‘
রবিবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দলের জন্য আত্মোৎসর্গকারী নেতাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। নেতাকর্মীদের কাছে আমার একটাই আবেদন– সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। সংগঠন শক্তিশালী হলে গণমানুষের সমর্থন পাওয়া যায়, যতই ষড়যন্ত্র হোক…। হ্যাঁ, মৃত্যু যেকোনো সময় হতে পারে। সেজন্য আমি ভীত না, কখনও ভয় পাইনি, ভয় পাব না।’
যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ, মন্তব্য করে বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদানকারী দলের সভাপতি আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে জাতির পিতার যে চিন্তা-চেতনা, তা বাস্তবায়ন করে এ দেশের মানুষকে একটা উন্নত জীবন দেব– এটাই আমাদের লক্ষ্য। বারবার আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে। নেতাকর্মীদের পরিবার কত কষ্ট করেছে। তারপরও এই সংগঠনকে ধরে রেখেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মূল শক্তি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস। সেই আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই বারবার জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘসময় ২০০৮ থেকে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটা ধরে রেখে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সুকান্তের ভাষায় বলতে চাই– যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ... প্রাণপণে দুই হাতে সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব; এ আমার অঙ্গীকার।’
এর আগে দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হয়ে প্রথমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দলের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন কর্মসূচির সূচনা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন তারা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলা হয় অনুষ্ঠানস্থল থেকে শুরু করে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন গ্রহণ করার পরেই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।