প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ১৫:০৫ পিএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ১৭:০৮ পিএম
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজস্ব সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান। প্রবা ফটো
চলতি বছর কোরবানির পশুর চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি আছে। এ অবস্থায় কেউ ছলচাতুরি করে গরুর দাম বাড়ালে তাদের মাথায় হাত পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে নিজস্ব সম্মেলন কক্ষে মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে উত্তরণ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদ মাহমুদ বেলাল হায়দর, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কাইয়ুম, ব্লু ইকোনমি অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. জুলফিকার আলী প্রমুখ।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ৭ লাখ, সেখানে প্রস্তুত আছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি আছে।
চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি থাকলে গরুর দাম এতো বেশি কেন অর্থাৎ প্রতি কেজি মাংসের দাম ১০০০ টাকা কেজির বেশি কেন প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, বাজারে কারসাজি করে দাম বৃদ্ধি করলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দাম নির্ধারণের দায়িত্ব আমাদের না। এটি বাজারের ওপর নির্ভর করে।
খাদ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ালে তা সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ডিমের ডজন ১৬০ টাকা ও প্রতি পিস ১৩ টাকার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় স্থান থেকে চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উত্তরণ করেছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন- আমার জমি আছে, পাট আছে, মাছ আছে এসব ডেভেলপ করতে পারলে এদিন আর থাকবে না। তার সেই কথা ৪৬ বছর পর বাস্তবায়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত এবং কৃষি খাতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজে মাছ চাষ করছেন। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি মাছ চাষে গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম। ইলিশ জাতীয় জীবনের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। এসব প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বের ফসল। আগামী দিনেও যেন এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারি সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে অভয়াশ্রম করা হচ্ছে। আমরা নদী-নালায় পোনা অবমুক্ত করে থাকি।
তিনি আরও বলেন, কারেন্টের জাল গোটা বাংলাদেশকে ছেয়ে ফেলেছে। আমরা দেশে এটি নিষিদ্ধ করেছিলাম কিন্তু উৎপাদকরা কোর্টে গেলে আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আমরা সে ব্যাপারে আপিল করব।
এ সময় সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, খাল-বিল, নদী-নালা থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৪০টি মাছের প্রজাতি নিয়ে জীন ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে মাছ উৎপাদন করা হবে। আর ৪০টি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছের চাষ করা হচ্ছে।