ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ০৯:২৫ এএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ১৭:৫৫ পিএম
আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে রেমালের ক্ষতির হিসাব দেওয়া হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে প্রাণহানির ঘটনা কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া এতে উপকূলীয় ১৯ জেলায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। চিংড়িঘের ব্যবসায়ীরা রেমালের দুর্যোগে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এদের সবাইকে দুর্যোগ-পরবর্তী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে প্রকৃত ক্ষতি চিহ্নিত করে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জেলাওয়ারি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনুযায়ী পৃথক ক্ষতির হিসাব তুলে ধরা হচ্ছে।
দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। সার্বিক ক্ষতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার পর ক্ষতিগ্রস্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ দাঁড়াতে পারে ৭০০ কোটি টাকার বেশি।
এদিকে, দুর্যোগের প্রাথমিক ক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে ১৯ জেলায় মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪ কোটির টাকার বেশি। এর মধ্যে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১২ কোটি টাকা। এর বাইরে ত্রাণ কার্যক্রমে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন, শুকনা ও অন্যান্য খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে সাড়ে ১১ হাজার প্যাকেট-বস্তা। অতি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩০০ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া গৃহমঞ্জরি ৯ লাখ টাকা, গোখাদ্য বাবদ ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং শিশুখাদ্য সরবরাহের জন্য আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গত মঙ্গলবার একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সব ক্ষয়ক্ষতির হিসাব একত্রিত করে প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি আজকের (বুধবার) মধ্যে সারা দেশের সবগুলো মন্ত্রণালয়ের যে ক্ষতি হয়েছে, তার প্রতিবেদন সম্পূর্ণ তৈরি করে বৃহস্পতিবার (আজ) প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রায় ৯০ ভাগ ক্ষতির হিসাব পেয়ে গেছি। আজ (বুধবার) বাকিটা পেয়ে যাব।’
৯০ শতাংশ ক্ষতি টাকার অঙ্কে কত- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত দেখেছি যে, আমার কাছে ৭ হাজার কোটি টাকার হিসাব এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেড়িবাঁধের। উপকূলীয় মৎস্যসম্পদেরও বিপুল ক্ষতি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার মাছের ঘের নষ্ট হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে অসংখ্য বেড়িবাঁধ নষ্ট হয়েছে, রাস্তাঘাট ধসে গেছে, বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূলে আঘাত হানার পর থেকে প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে। জাপানের ওকিনাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে আবহাওয়াবিদ ও গবেষক আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, ষাটের দশকেও ঘূর্ণিঝড়গুলো ভূমিতে আঘাত হানার পর এর ৭৫ শতাংশ শক্তি ক্ষয়ে যেত। এখন সেখানে শক্তিক্ষয় হচ্ছে ৫০ শতাংশ। যে কারণে ভূমিতে আঘাতের পরও অনেক সময় ধরে তাণ্ডব চালাচ্ছে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়গুলো।
এবার বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ৮৪ লাখের বেশি মানুষ স্বাস্থ্য, পুষ্টি, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৩২ লাখ শিশু। ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ জেলায় গত ২ জুলাই পর্যন্ত নগদ আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৫ লাখ টাকা, সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তার জেলায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছেন। এই বরাদ্দের পরিমাণ অন্য যেকোনো জেলা থেকে ১৫ লাখ টাকা বেশি।
বরাদ্দ পাওয়া ১৯ জেলার মধ্যে কক্সবাজারে নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া গোখাদ্য ও শিশুখাদ্যের জন্য দেওয়া হয়েছে আরও ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এখানে মোট ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম, ফেনী, বরিশাল, ঝালকাঠি ও চাঁদপুরসহ কয়েকটি জেলা কক্সবাজারের সমপরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের নগদ ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা। গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নড়াইল ও যশোর জেলায় বরাদ্দ হয়েছে ২০ লাখ টাকা করে।