প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ১৬:৫৩ পিএম
আপডেট : ১১ জুন ২০২৪ ১৭:৫৩ পিএম
ব্যয় বিবরণীর ব্যাখ্যা দিতে নির্বাচন কমিশনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিনিধিদল। প্রবা ফটো
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে জরিমানা দিতে হচ্ছে না। সংসদ নির্বাচনে দলটি কত ব্যয় করেছে তার হিসাব দেয়নি বলে ইসির অভিযোগ ছিল। এ অভিযোগে সম্প্রতি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দলটির সঙ্গে একই অভিযোগে গণফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির বিরুদ্ধেও একই সাজা আরোপ করা হয়।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান কাদের সিদ্দিকীসহ দলটির নেতারা এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে মঙ্গলবার (১১ জুন) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেন। দলটির দাবি– নির্ধারিত ফরমে না দিলেও তারা অন্যভাবে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব কমিশনে দিয়েছে।
এ বিষয়ে কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, আমরা একটা ব্যয় বিবরণী চেয়েছিলাম। আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী– সংসদ নির্বাচনে দলগতভাবে যে ব্যয় হয়, সেটার একটা হিসাব দিতে হয়। তারা জানিয়েছেন– গত ৮ মে তাদের জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যয় বিবরণীও দেওয়া হয়েছিল। সেটা ব্যয় বিবরণী হয়নি। আমরা সেজন্য চিঠি দিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি গ্রহণ করা হয়েছে, ব্যয় বিবরণী হিসেবে ধরা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে সাপোর্টিং হিসেবে সেটা ব্যয় বিবরণী হিসেবে জমা দিয়ে দেবে। জরিমানা করা ভুল ছিল না।
দলটির বক্তব্য উদ্ধৃতি দিয়ে কমিশন সচিব আরও বলেন, দলীয়ভাবে তারা কোনো ব্যয় করেননি। ব্যক্তির ব্যয় হয়েছে। কমিশন এই বক্তব্য গ্রহণ করেছে। তারা কোনো পোস্টার ছাপায়নি বা কোনো দলগত ব্যয় করেনি। ব্যক্তির ব্যয় হয়েছে।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দকী বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একবার এসেছিলাম। বহুদিন পর আজ এসে কথা বলে অনেক খুশি হয়েছি। তাদের (ইসি) মধ্যে অনেক সতর্কতা, অনেক ‘ম্যাচুরিটি’ লক্ষ্য করছি। অভিযোগ কোনো ভালো কথা না। আমরা হিসাব দিইনি। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে– এসব প্রচার হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে অনেক কিছু হয়। আমরা খরচ করিনি। আমরা নিবন্ধিত দল। যে দলের ৮০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা। সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করলে দেশের কতটা সুনাম হবে? নির্বাচন কমিশনের কতটা সুনাম হবে? এটা ভেবে দেখা দরকার। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে যথেষ্ট খুশি হয়েছি। নির্বাচনে যে ভুল-ত্রুটি আছে, সেগুলো যদি তারা দূর করতে পারেন, আন্তরিকভাবে যদি চেষ্টা করেন, তাহলেই যথেষ্ট। আমার মনে হয়েছে তাদের এই সময়ের অভিজ্ঞতায় তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন।
কাদের সিদ্দকী আরও বলেন, আরপিও অনুযায়ী যেটা লেখা আছে তা জানিয়ে দিয়েছি– আমরা কোনো খরচ করিনি। আমরা প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র না যে আমাদের পড়ার হিসাব দিতে হবে। একটা দূরত্ব হয়তো ছিল, তারা হয়তো আমাদের লেখাটা স্পষ্ট করে বুঝতে পারেনি। অথবা আমরা তাদের বোঝাতে পারিনি। এটা মিটে গেছে।