× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচনে ভাইয়ের জয়ই কাল হলো আনিচুরের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ১৬:৪৬ পিএম

নড়াইলের নড়াগাতী থানার শেখ আনিচুর রহমান হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। মঙ্গলবার কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে। প্রবা ফটো

নড়াইলের নড়াগাতী থানার শেখ আনিচুর রহমান হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। মঙ্গলবার কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে। প্রবা ফটো

নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া গ্রামের শেখ আনিচুর রহমানের (৪১) ভাই শেখ সোহেল রানার কাছে বার বার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আসছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার। নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল তাদের। এর জেরে আনিচুরকে ৬ মাস আগে হত্যার পরিকল্পনা করে জাহিদুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ মে বিকালে তাকে ইটের ভাটায় ডেকে নিয়ে শামীম শেখ ও জুলফিকারের নেতৃত্বে হাত-পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর এসব তথ্য জানান।

এর আগে সোমবার (১০ জুন) রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় র‍্যাব-৩ এবং র‍্যাব-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- মূল পরিকল্পনাকারী আসামি জাহিদুল শেখ (৫০), শামীম শেখ (২৫), হাছানুর রহমান রিপন (৫০), জুলফিকার (৪৫), রাশিদুল শেখ (২৪), লিটু (২৮), হিটু (২৫), আজিজ শেখ (২৫), হানিফ শেখ (২৮), মুশফিকুর রহিম (২২), তৈয়েবুর রহমান (৫৫), শরিফুল শেখ (৩৮), ও সাইফুল শেখ (৪০)।

ফিরোজ কবীর বলেন, গত ৩১ মে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া এলাকায় শেখ আনিচুর রহমানকে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ২ জুন আনিচুরের ভাই শেখ সোহেল রানা নড়াগাতী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা নজরদারিতে আসামিরা রাজধানীতে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত নিশ্চিত হওয়া যায়। সোমবার রাতে র‍্যাব-৩ এর ও র‍্যাব-৬ এর যৌথ আভিযানে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, নিহতের ভাই শেখ সোহেল রানা কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। জুলফিকার তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের দুই পক্ষের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক ছিল। এর জেরে জাহিদুল তার সহযোগী হাছানুর রহমান রিপন এবং মঞ্জুর শিকদারের সহায়তায় সুপরিকল্পিতভাবে গত ৩১ মে  বিকালে আনিচুরকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি ইট ভাটার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামিরা চাপাতি, ছ্যানদা ও রামদা দিয়ে নৃশংসভাবে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে লে. কর্নেল ফিরোজ বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ছয় মাস আগে। মূল পরিল্পনাকারী ছিল জাহিদুল ও নির্দেশদাতা ছিল আশিকুর। সুবিধাজনক স্থানে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল হাছানুর এবং মঞ্জুরের। হত্যার প্রথম চেষ্টায় ছিল শামীম শেখ ও জুলফিকারের নেতৃত্বাধীন ১২- ১৩ জনের একটি দলের, দ্বিতীয় চেষ্টায় ছিল হানিফের নেতৃত্বাধীন ৪-৫ জনের একটি দল। অবশেষে হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ও তার সহযোগী হাছানুর, শামীম শেখ, জুলফিকার, রাশিদুল ও শিহাব শেখসহ অন্যান্য আসামিরা।

গ্রেপ্তার আসামিদের বিষয়ে ফিরোজ বলেন, আসামি জাহিদুল আনিচুর হত্যা মামলা ছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড় কাইয়ুম শিকদার হত্যাসহ ধর্ষণ মামলা ও যৌতুকের মামলার আসামি। জাহিদুল শেখ পেশায় একজন হোটেল ব্যবসায়ী। শামীম শেখও জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে নড়াগাতী থানায় ৪টি মামলা রয়েছে। আসামি শামীম পেশায় স্থানীয় একটি স্কুলের অফিস সহায়ক। জুলফিকারও বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড় কাইয়ুম শিকদার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তার বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াগাতী থানায় ২টি মামলা আছে। সে পেশায় একজন কৃষক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্ন জবাবে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক ফিরোজ কবীর বলেন, আসামিরা পেশাদার খুনি। তারা বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে থাকে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা