প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ১০:৫৫ এএম
আপডেট : ১১ জুন ২০২৪ ১১:৫২ এএম
নয়াদিল্লিতে একান্ত বৈঠকের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে গত রবিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠকে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। মোদির নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ অন্যদের নিয়ে গত শনিবার নয়াদিল্লিতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেখানে তিনি ব্যস্ত সময় পার করেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে সরকারপ্রধান দেশে ফেরেন। এর আগে নয়াদিল্লিতে তাকে অভ্যর্থনা জানান কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে রাহুল গান্ধী এবং কন্যা প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র। অভ্যর্থনাকালে তারা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বন্ধন শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন।
গতকাল সকালে রাজধানী নয়াদিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ওই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর হবে।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অত্যন্ত উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার ভারতীয় সমকক্ষকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পরে দুই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেন। ভারতের সিনিয়র মন্ত্রীরা, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল, আমন্ত্রিত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা নৈশভোজে অংশ নেন। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়।’
নরেন্দ্র মোদি গত ১০ বছর এবং শেখ হাসিনা সরকার ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। একে অপরের কাছ থেকে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অনেক বিষয় জড়িত। যেহেতু উভয় সরকার দেশ পরিচালনায় অব্যাহত রয়েছে, সেহেতু একসঙ্গে কাজ করার কিছু সুবিধা আছে। উভয় দেশের মানুষ বিভিন্ন দিক থেকে উপকৃত হচ্ছে, যার মধ্যে দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে যোগাযোগ রয়েছে।’
শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ধরলেন সোনিয়া গান্ধী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের দিল্লিতে অভিবাদন জানিয়েছেন কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র।

নয়াদিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে গতকাল এই অভ্যর্থনাকালে তারা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বন্ধন শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। ফেসবুকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ভেরিফায়েড পেজে এ কথা বলা হয়। সঙ্গে যোগ করা হয় একটি ভিডিও। এতে দেখা যায়, সোনিয়া গান্ধী এগিয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করছেন। একই কায়দায় প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান রাহুল গান্ধীও। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াংকা।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বিনিময়ের ওই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নিজেদের আইডি থেকে সেগুলো শেয়ার করে পোস্ট দিচ্ছে।
শেখ বাবু নামে একজন লিখেছেন, দিল্লিতে গান্ধী পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেগঘন মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে জড়িয়ে ধরে সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াংকা গান্ধী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামালউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, একেই বলে কৃতজ্ঞতা। শুধু শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা গান্ধী পরিবার এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের মধ্যকার সম্পর্কের এই উষ্ণতা অনুভূব করতে পারেন।
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল, মরিশাস ও সেশেলস’র শীর্ষ নেতারাও মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে ৮ হাজারেরও বেশি বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ পরে একই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেন।
এছাড়া শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে গতকাল সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আবাসস্থলে বৈঠক করেছেন। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একই স্থানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে গত রবিবার সকালে শেখ হাসিনা বিজেপির সিনিয়র নেতা এলকে আদভানির সঙ্গে তার নয়াদিল্লির বাসভবনে দেখা করেন এবং কুশল বিনিময় করেন।
পরে বিকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫টার দিকে নয়াদিল্লির ভিভিআইপি বিমানবন্দর পালাম এয়ারফোর্স স্টেশন থেকে রওনা দেয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) জয়দীপ মজুমদার, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।