× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টাকা ব্যাংকে ফেরাতেই সাদা করার সুযোগ : প্রধানমন্ত্রী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৪ ২২:৪৪ পিএম

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪ ২৩:১২ পিএম

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোনোকিছু যাদের ভালো লাগে না এমন ব্যক্তিদের সমালোচনায় কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশেষ করে খাদ্যমূল্য, সেখানে উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বপরিস্থিতি মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে চলতে হবে। এ ছাড়াও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়াকে বড়শিতে আধার দিয়ে মাছ শিকারের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মাছ ধরতে গেলে তো আধার দিতে হয়। দিতে হয় না? আধার ছাড়া তো মাছ আসবে না। 

শুক্রবার (৭ জুন) ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির প্রধান শেখ হাসিনা। আলোচনা সভার আগে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ‘ইতিহাসের গতিধারায় বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’শীর্ষক সংবাদচিত্র প্রদর্শনীর ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা প্রশ্ন আছে যে কালো টাকা (সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে), তাহলে (এই সুযোগের কারণে) আর কেউ ট্যাক্স দেবে না। ঘটনা কিন্তু তা না। শুধু কালো টাকা না, জিনিসের দাম বেড়েছে, এখন এক কাঠা জমি যার, তিনিই কোটিপতি। সরকারি যে হিসাব- ট্যাক্স দেয় না, কিছু বেশি দামি, কিছু টাকা উদ্বৃত্ত হয়। টাকাটা গুটিয়ে রাখে, সামান্য কিছু দিয়ে এলেও টাকাটা পথে আসুক, জায়গামতো আসুক। তারপর তো ট্যাক্স দিতেই হবে। 

তিনি বলেন, মাছ ধরতে গেলে তো আধার দিতে হয়। দিতে হয় না? আধার ছাড়া তো মাছ আসবে না। এ রকম একটা ব্যবস্থা এটা, এটা আগেও হয়েছে। সেই কেয়ারটেকার আমলে শুরু করেছিল, তারপর প্রত্যেক সরকারই করে। আমি এবারও সেই সুযোগটা দিয়েছিলামÑ ঠিক আছে তোমরা এই অল্প ট্যাক্স দিয়ে আগে টাকাটা ব্যাংকে নিয়ে আস। অন্তত টাকাটা উদ্ধার হোক, সেই ব্যবস্থাটাই নেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে নানা কথা, নানান জনের।

প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে সরকার প্রধান বলেন, যেগুলো মানুষের জন্য প্রয়োজন সেখানে আমরা কিন্তু ট্যাক্স কমিয়েছি। প্রত্যেকটা খাদ্যপণ্য, চিকিৎসার ক্ষেত্রে, ক্যানসার, ডায়াবেটিস সবকিছুর ওপর থেকে ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছি। স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, দেশীয় শিল্পকে প্রাধান্য দেওয়া, দেশীয় শিল্প উৎপাদনের যেগুলো ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ কাঁচামাল, সেগুলোকে আমরা সুরক্ষা দিয়েছি, যাতে বেশি ট্যাক্স দিতে না হয়, সেগুলো আমরা কমিয়েছি। সেভাবে কিন্তু আমাদের বাজেটটা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই দিয়েছি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট ঘাটতি, এটা নিয়েও অনেকে কথা বলে। আমি সরকারের আসার পর এ পর্যন্ত ২১তম বাজেট দিলাম। সব সময় আমরা পাঁচ শতাংশের মধ্যে বাজেট ঘাটতি রাখি। এবারও ৪ দশমিক ৬ শতাংশ রাখা হয়েছে। পৃথিবীর বহু দেশ আছে, এমনকি উন্নত দেশ, আপনারা খোঁজ নেন, আমেরিকার বাজেট ঘাটতি কত। উন্নত দেশেও এর থেকে বেশি বাজেট ঘাটতি থাকে। আমরা কিন্তু একটা হিসাব রেখে যতই অসুবিধা হোক, সেটা অব্যাহত রাখছি। 

সমালোচকদের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশে কিছু ভালো লাগে না গ্রুপ আছে, তাদের ভালো না লাগাই থাক, ওগুলোয় কান দেওয়ার দরকার নেই। যুগ যুগ ধরে এটা আমি দেখছি, এসব নতুন না। যখন কোনো অস্বাভাবিক সরকার আসে তখন তারা খুব খুশি হয়। সামরিক শাসন আমলে খুশি ছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে খুশি ছিল। তাদের নাকি গুরুত্ব থাকে। আর জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাদের নাকি কিছুই হয় না, মূল্যায়ন হয় না। মূল্যায়নটা করব কীভাবে, দাঁড়িপাল্লা ঠিক করে উঠিয়ে মাপব নাকি। আমাদের তো ওই তেল মারার শক্তির দরকার নেই, আমাদের শক্তি জনগণ। জনগণের জন্য কাজ করি। জনগণের কল্যাণ করি, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেভাবে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নেই, মানুষের যেন কষ্ট না হয়। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, বিশ্বাস রেখেছে, তাদের ভোটেই আমরা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে একটানা চতুর্থবার ক্ষমতায় এসেছি। আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই বিশ্বে আজ বাঙালি জাতি সম্মান নিয়ে চলতে পারে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলে। সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটানোর ক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। 

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসার কারণে যে চাপ ও সমালোচনা, সেটি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের মানুষকে খাওয়াতে হবে আগে। আমাদের রিজার্ভ কত আছে না আছে, সেটার চেয়ে বেশি দরকার দেশের মানুষের চাহিদাটা পূরণ করা।

তিনি বলেন, এখন সীমিতভাবে খুব সংরক্ষিতভাবেই আমরা এগোতে চাই। যেটা আমাদের দেশের মানুষের কষ্ট না হয়, মানুষের যে চাহিদাটা সেটা যেন পূরণ করতে পারি, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বাজেট করেছি। 

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালিত

এদিকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুক্রবার ঢাকাসহ সারা দেশে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালন করে আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেক দফা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, তাঁতী লীগ, মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা