প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪ ১৩:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪ ১৪:৫২ পিএম
বুধবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে ‘বাংলাদেশের মেরিটাইম শিক্ষাব্যবস্থা ও সুনীল অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী। প্রবা ফটো
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে মেরিটাইম শিক্ষা ও সুনীল অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা, সমুদ্র আইন, সমুদ্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা, সমুদ্রের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য মেরিটাইম শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
বুধবার (৫ জুন) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মেরিটাইম শিক্ষাব্যবস্থা ও সুনীল অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মেরিন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষিত ক্যাডেটগণ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমুদ্রগামী জাহাজ ও জাহাজ সংশ্লিষ্ট চাকরিতে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখছে। নাবিকগণ সমুদ্রগামী জাহাজে চাকরির পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বন্দর পরিচালনা ও প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন জবের মাধ্যমেও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি সীফেয়ারারদের চাহিদার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২১ সালে পাবনা, বরিশাল, সিলেট এবং রংপুর চারটি মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের প্রতিটি বিভাগে মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। মেরিটাইম সেক্টরের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে নাবিকদের (রেটিং) প্রশিক্ষণের জন্য দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী ও মেহেরপুর জেলায় নতুন চারটি ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মেরিনারদের উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বিচক্ষণতায় চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় উক্ত একাডেমির ৪৮তম ব্যাচ থেকে নারী ক্যাডেট ভর্তি করা হচ্ছে এবং প্রশিক্ষিত নারী ক্যাডেটগণ সুনামের সঙ্গে বিভিন্ন সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত রয়েছেন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি জাহাজে দু’জন নারী ক্যাডেট ছিলেন। দু’জন নারী ক্যাডেট সে সময় সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার সময়ে মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা জয় করেন। এর ফলে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৪৫ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহিসোপানের তলদেশে সবধরনের প্রাণিজ-অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুনীল অর্থনীতির চারটি ক্ষেত্র যেমন-তেল ও গ্যাস উত্তোলন, মৎস্য আহরণ, বন্দর সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করলে বছরে বাংলাদেশের পক্ষে ২.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব। বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, চিংড়ি মাছ, প্রজাতির কাঁকড়া, প্রজাতির শামুক-ঝিনুক এবং বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও জৈব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রয়েছে। মৎস্যসম্পদ ছাড়াও সামুদ্রিক প্রাণী, সামুদ্রিক আগাছা, লতা-গুল্মতেও ভরপুর বঙ্গোপসাগর। এসব আগাছা প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরি করা যায়। ‘স্পিরুলিনা’ নামক আগাছা চীন, জাপান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানুষ খাদ্য হিসেবে খেয়ে থাকে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ১৩টি স্থানে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম সমৃদ্ধ বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে যা স্বর্ণের চেয়েও দামি। এছাড়াও, বঙ্গোপসাগরে ইলমেনাইট, টাইটেনিয়াম অক্সাইড, রুটাইল, জিরকন, ম্যাগনেটাইট, কোবাল্টসহ অত্যন্ত মূল্যবান খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ সঠিক উপায়ে উত্তোলন করতে পারলে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমুদ্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বাংলাদেশও অফশোর এবং অনশোরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে, যা হবে ক্লিন ও গ্রিন এনার্জি। বাংলাদেশের উন্নয়নের রোল মডেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্লু- ইকোনমির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। সুনীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রণয়ন করা হয়েছে শতবর্ষী উন্নয়ন পরিকল্পনা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ (ডেল্টা প্লান ২১০০)। সুনীল অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে বন্দরগুলো সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন করা হয়েছে। সমুদ্র সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ।