প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:২০ পিএম
ডা. মির্জা কাউসার। ছবি : প্রবা
কিশোরগঞ্জের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. মির্জা কাউসার ওরফে আব্দুল কাদের ওরফে সোবহানকে গ্রেপ্তার করে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে একদিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডা. কাউসার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের এডিসি আহমেদ বলেন, মির্জা কাউসারের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। রবিবার তাকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
সিটিটিসি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ডা. মির্জা কাউসারের কর্মকাণ্ড নজরদারি করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে তাকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। রবিবার রাতেই গ্রেপ্তারের বিষয়টি কাউসারের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মির্জা কউসারের বাবা আব্দুল হাকিম। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উজানচর। তিনি কিশোরগঞ্জ সদরে খরমপট্টি বায়তুল আমান মসজিদের পেছনে একটি বাড়িতে স্ত্রী ও এক মেয়েসহ ভাড়া থাকতেন। ২০১১ সালে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ওই মেডিকেলের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রভাষক পদে যোগ দেন। তার স্ত্রী ডা. শিমুল প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক।
জিজ্ঞাসাবাদে ডা. কাউসার সিটিটিসিকে জানায়, কলেজে থাকাকালীন নামাজ পড়া শুরু করে দ্বীনমুখী হন মির্জা কাউসার। এরপর ধীরে ধীরে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই ভাইয়ের মাধ্যমেই আনসার আল ইসলামে যুক্ত হন ডা. কাউসার। এরপর মেডিকেলে পড়ার জন্য কিশোরগঞ্জে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজে পড়াশুনার ব্যস্ততায় সংগঠনে তেমন সময় না দিতে পারলেও সংগঠনের কাজে টাকা পাঠাতেন তিনি। মাঝে-মধ্যে ওই ভাই (তার নাম প্রকাশ করেনি সিটিটিসি) কিশোরগঞ্জে তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। ওই ভাইয়ের পরামর্শে তার বাসায় ধর্মীয় হালাক (দাওরা) করতেন তারা। প্রায় সময় অপরিচিত ৫ থেকে ৬ জন মিলে ডা. কাউসারের বাসায় ৩ দিনের ধর্মীয় হালাকা (দাওরা) করা হতো। অনলাইনে তাদের বেশি যোগাযোগ হতো। আর বিকাশের মাধ্যমে সংগঠনে টাকা পাঠাতেন ডা. কাউসার।