× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এমপি আনার হত্যা মামলা তদন্ত করবে ভারত

আলাউদ্দিন আরিফ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪ ০৯:৫৬ এএম

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪ ১২:০৫ পিএম

আনোয়ারুল আজিম আনার। ছবি : সংগৃহীত

আনোয়ারুল আজিম আনার। ছবি : সংগৃহীত

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যা মামলার তদন্ত করবে ভারতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আনার খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে থাকা তিন আসামিসহ মামলার প্রয়োজনীয় আলামত ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় নেপালে আটক হওয়া সিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়া প্রধান পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা নিরসনে ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে ফেরাতে চায় বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ভারতে। তাই হত্যা মামলাটিও ভারতে হয়েছে। যেখানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করবে। তারা (ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা) যদি আমাদের সম্পৃক্ত করে, তাহলে সেখানে আমরা গিয়ে সম্পৃক্ত হব।’

যুক্তরাষ্ট্র ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। সেক্ষেত্রে শাহীন ও সিয়ামকে ফেরাতে জটিলতা রয়েছে। জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও নেপালের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। ভারত সরকার তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও নেপাল) কাছে আবেদন করবে। 

ভারতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন

আনার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে ভারতীয় সিআইডি। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) নামে দলটিতে একজন আইজির নেতৃত্বে তিনজন ডিআইজি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ থেকে ১২ জন কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। ওই তদন্ত টিম আনার হত্যার বিস্তারিত তদন্ত করবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধে তদন্ত টিম প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ ও ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন শাহীনকে ধরতে ঢাকার পুলিশ ও ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয় করছে তারা। ভারতীয় সংস্থা তাদের কাছে রিমান্ডে থাকা আসামি কসাই জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ভাড়াটে কসাই জিহাদ সেখানে ১২ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। 

বাংলাদেশে গ্রেপ্তার আসামিদের হস্তান্তর

সূত্র জানায়, সঞ্জীবা গার্ডেন্সের বিইউ-৫৫ ফ্ল্যাটে উপস্থিত থেকে সরাসরি এমপি আনার কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করেছেন কুখ্যাত চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়া। তিনি সৈয়দ আমানুল্লাহ সাঈদ ছদ্মনাম ব্যবহার করে ভারতে যান এবং কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশে আসেন। পরে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তার সঙ্গে সহযোগী ছিলেন সেলেস্তি ওরফে সেলে নিস্কি নামে এক নারী। পুলিশ সেলে নিস্কি, শিমুল ও তার ভাতিজা তানভীর ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। ৮ দিনের রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার আরও ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গতকাল ছিল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি এবং তদন্তকালে আরও কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে ওইসব আসামিকে ভারতীয় তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে আভাস দিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। 

নেপালে সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ

সূত্র বলছে, এমপি আনার হত্যার পর লাশের খণ্ডিত অংশ গুম করায় নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশের ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা সিয়াম হোসেন। কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীবা গার্ডেন্সের বাসা থেকে লাগেজভর্তি মরদেহের অংশ নিয়ে বের হয় সে। হত্যাকাণ্ডের পর সিয়াম নেপালে গিয়ে আত্মগোপন করে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে সিয়ামকে গ্রেপ্তারের চিঠি দেয় বাংলাদেশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ১ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের দলটি নেপাল পৌঁছে। নেপালে গিয়ে ডিবির টিম সেখানকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছে। ডিবি পুলিশের সদস্যরা সিয়ামকে দুই দফায় জেরা করেছে। সেখানে সে লাশ গুমে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সিয়ামকে জেরার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

তদন্ত দলের প্রধান হারুন অর রশীদ নেপাল থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপালে অবস্থানরত ডিবির তদন্ত দল কাঠমান্ডু পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তারা সিয়ামকে দেশে ফেরাতে তাদের সহযোগিতা চেয়েছে।

তদন্ত দলের একজন সদস্য জানান, সিয়াম নেপালের নাগরিক নয়, সে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্তও নয়। সে ট্যুরিস্ট ভিসায় সেখানে গেছে। 

কলকাতার হাসপাতালে সিআইডির তদন্ত দল

এদিকে এমপি আনার হত্যার তদন্তের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি পুলিশের একটি দল কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেছে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতেন এমপি আনার। চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য জানতে তদন্ত টিম সেখানে যায়। তবে মে মাসে কলকাতায় যাওয়ার পর এমপি আনার ওই হাসপাতালে যাননি বলে কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজার জানিয়েছে।

গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যান ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। সেখানেই নিখোঁজ হন তিনি। ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের বরানগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বন্ধু বরানগরের বাসিন্দা গোপাল বিশ্বাস। ২০ মে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে আনারকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করার তথ্য জানায় ভারতীয় পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ঘাতকদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ১৩ মে দুপুরেই আনারকে হত্যা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা