প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২২ ১৮:১৭ পিএম
পরপর তিন বছর অনাবাদি রাখায় চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় একটি জমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেন এসি ল্যান্ড।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত জমি পরপর তিন বছর চাষ না করলে সরকার খাস করে নেবে বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে তাকে গুজব বলেছে মন্ত্রিসভা। সেই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত জমি চাষ না করলে তা খাস হয়ে যাওয়ার প্রচারণা সম্পূর্ণ গুজব। সস্প্রতি গুজব চলছে, যেসব জমিতে চাষ করা হবে না সেগুলো খাস হয়ে যাবে। এখবর ভিত্তিহীন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে।’
সম্প্রতি চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় পরপর তিন বছর অনাবাদি থাকায় কিছু জমিতে লাল পতাকা টানিয়ে দেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহজাহান বলেন, ‘উপজেলার ৩ ইউনিয়নে ২ একর ৫১ শতক জমি অনাবাদি রয়েছে। জমিগুলো খাস করার জন্য লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। এ সব জমিতে পাতাকা টাঙিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ভূমি মালিকদের পড়ে থাকা জমি কৃষি উপযোগী করে চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘গত রোববার কমিশনারদের সভায় কৃষি অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ভূমি সচিব উপস্থিত ছিলেন। গত দু-তিন দিন আগে রংপুর থেকে তিনি ঘুরে এসেছেন। সেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কারও জমি চাষ করলো না, আর জমি খাস করা হবে, এ ধরনের কোনো পদ্ধতি নেই। খাস করার একটা আলাদা পদ্ধতি রয়েছে। সেটা অনেক দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়া।’
তিনি বলেন, ‘কোনো জমি খাস করার দরকার হলে তাকে (জমির মালিককে) নোটিশ দিতে হবে, তার কাছে শুনতে হবে। জমিতে চাষ না করলেই সেটা খাস করে ফেলা হবে, এমন কোনো বিধান নেই। এটা একটা গুজব, যা চারদিকে ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বার্তা দিয়েছেন। তার কাছেও মেসেজ আসছে। খাস করার বিষয় স্টেট অ্যাকুইজেশন টেন্যান্সি অ্যাক্টের ব্যাপার। তবে সেটি অন্য জিনিস। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কেউ এক বছর, দুই বছর বা তিন বছর চাষ করল না, এতে খাস করার কোনো সিস্টেম নেই।’
তবে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়েই জমি অনাবাদি না রাখতে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন থেকেই আহ্বান জানাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ‘আসন্ন বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার জন্য যতটুকু সম্ভব জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারির দুটি ঢেউয়ের পর এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব আরেকটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। নিজেদের ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে এবং সে জন্য এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা উচিত নয়। আমরা যে যতটুকু পারি উৎপাদন করতে হবে।’