প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম
দ্বিতীয় ঢাকা নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থায়ন শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। প্রবা ফটো
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে। পুকুর-জলশয়ে ভাসমান অথবা বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কৃষিকাজে সেচ পাম্প ব্যবস্থা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা গেলে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
শনিবার (১ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে দ্বিতীয় ঢাকা নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থায়ন শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের জন্য বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সব খাতের সহযোগিতার প্রয়োজন এবং বিনিয়োগ অপরিহার্য। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কার্বন নির্গমন হ্রাসই করে না বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি এবং জীবনমান উন্নত করে।
উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ গ্রিন বন্ড, জলবায়ু তহবিল এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ওপর গুরাত্বরোপ করে তিনি বলেন, আমরা উন্নত বিশ্বের কাছে ঋণ নয়, অনুদান প্রত্যাশা করি। এই খাতে গবেষণা ও উন্নয়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতির অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি করতে পারি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থায়নের রূপরেখা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি পুনঃনির্দেশ সংক্রান্ত দিনব্যাপী চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। বক্তব্য দেন, ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ খাসেইফ আলহুমুদ, পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (শ্রেডা) চেয়ারম্যান মুনিরা সুলতানা, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ড. এ. কে. এনামুল হক, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অলটারনেটিভ ল’ ইক্লেক্টিভের গবেষণা পরিচালক জেইন মৌলভী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ইউএই রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ খাসেইফ আলহুমুদ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রশমন, অভিযোজন এবং বহুমুখী জলবায়ু কর্মযজ্ঞের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনে বাংলাদেশ এক অনন্য উদাহরণ।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করতে একটি নীতিমালা খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
শ্রেডা চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা বলেন, টেকসই জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনের জন্য নবায়নযোগ্য উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।