× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ কি সম্ভব

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

মহিউদ্দিন খান মোহন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মহিউদ্দিন খান মোহন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ইংরেজি ‘রিফাইন্ড’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হলোÑ পরিশোধন বা পরিমার্জন। তরল পদার্থ যদি দূষিত হয়ে পড়ে বা মান নষ্ট হয়ে যায়, তখন সেটাকে পুনরায় মেশিনে ঢুকিয়ে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল মিশিয়ে পরিশুদ্ধ বা ব্যবহার উপযোগী করা যায়।

এটাকেই বলা হয় ‘রিফাইন্ড প্রসেস’ বা পরিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া। তবে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নষ্ট হয়ে গেলে বা মানসম্পন্নভাবে তৈরি না হলে তা রিফাইন্ড করা যায় না। বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হয় উৎপাদক কোম্পানিকে। সে সঙ্গে উৎপাদনকারী কোম্পানিকে মুখোমুখি হতে হয় মামলা, জেল-জরিমানার। এমনকি সে কোম্পানির ওষুধ তৈরির লাইসেন্স চিরকালের জন্য বাতিল করে দেওয়ারও বিধান রয়েছে। তবে আমাদের দেশে সেরকম ঘটে না। নকল বা নিম্নমানের ওষুধ ধরা পড়লে কোম্পানিগুলো তা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। কিন্তু উন্নত দেশে এটা সম্ভব নয়। প্রচলিত আছেÑ ওইসব দেশে খুনের অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু খাদ্য এবং ওষুধে ভেজালকারীকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা হয় না। আমাদের দেশের কথা ভিন্ন। এখানে খুন করে রেহাই পাওয়া যেমন সহজ, তেমনি নকল-ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বাজারজাত করেও পার পাওয়ার উপায় আছে। 

রাজনৈতিক দল ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত কোনো ওষুধ বা তরল পদার্থ নয়। একটি রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে জনগণকে নিয়ে। গড়ে ওঠার এই ভিত্তিমূলের কারণেই জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি প্রশ্নাতীত। আর সে কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মকাণ্ডে জনগণের কথা মাথায় রাখতে হয়। যে দল জনগণকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামতো রাজনীতি করে কিংবা সরকারে গিয়ে স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে, তাদেরকে মুখোমুখি হতে হয় কঠিন পরিণতির। শুধুমাত্র জনবিচ্ছিন্নতা বা গণবিরোধী অবস্থানের কারণে একসময় বিপুল জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হতে দেখা গেছে। কোনো কোনোটি বিলীনও হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলের টিকে থাকার প্রধান পূর্বশর্ত জনসম্পৃক্তি ও জনসমর্থন। এই জনসম্পৃক্তি অর্জনের জন্য তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেমন জনগণের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে হয়, তেমনি রাষ্ট্রক্ষমতা তথা সরকারে গেলে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হয়। যে দল সেটা করে না বা করতে পারে না, তারাই জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আর জনগণ সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে সে রাজনৈতিক দলের সরকারে থাকা আর সম্ভব হয় না। এসবই জানা কথা। 

দীর্ঘদিন বাংলাদেশ শাসন করা আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতই শুধু হয়নি, একরকম অপাঙ্‌ক্তেয় হয়ে পড়েছে। আন্দোলনের মুখে অনেক সরকারেরই পতন ঘটেছে। তবে আওয়ামী লীগের এবারের পতন হয়েছে ব্যতিক্রমী পটভূমিতে। যে সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে, তখন জনসমর্থন বলতে কিছুই ছিল না দলটির। ব্যাপক জনসাধারণ যখন কোনো সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন সে সরকারের মসনদ রক্ষা করার উপায় থাকে না। যে কারণে লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ প্রথম সারির অধিকাংশ নেতাকে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে হয়েছে। যারা পালাতে পারেননি, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে এখন বিচারের সম্মুখীন। হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগও পড়েছে চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে। কথা উঠেছে দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচারের। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ এবং বিএনপি সরকার কর্তৃক সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন আর দৃশ্যমান নেই।

এরই মধ্যে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ কথাটি সর্বত্র প্রচারিত হয়। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ‘খারাপ’ তাদের বাদ দিয়ে ‘অপেক্ষাকৃত ক্লিন ইমেজে’র নেতাদের দিয়ে নতুনভাবে দলকে সাজানো হবে। এ বছর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ গঠন ও প্রত্যাবর্তনের আওয়াজ বেশ জোরেশোরেই উঠেছিল। শোনা গিয়েছিল, দলটির যেসব নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ছাড়া তেমন কোনো অভিযোগ নেই, তাদের সমন্বয়ে দলটিকে পুনর্গঠন করা হবে এবং নিবন্ধিত দল হিসেবে তারা নির্বাচনেও অংশ নেবে। কথাটি ভিত্তি পেয়েছিল, দেশি-বিদেশি কিছু সংস্থার বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনকে সব দলের অংশগ্রহণে ‘অংশগ্রহণমূলক’ করতে হবেÑ এমন প্রস্তাবনায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে ছাড়াই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তারপর বিষয়টি চাপা পড়ে গিয়েছিল। ফলে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনাকে অনেকেই সুদূরপরাহত বলে মনে করছেন। এমনই প্রেক্ষাপটে গত ১৪ জুন একটি দৈনিকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ আবার আলোচনায়’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এখানে-সেখানে আলোচনা চলছে। প্রথমত, প্রশ্ন উঠেছেÑ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ কীভাবে তৈরি হবে? কারা থাকবে সম্ভাব্য সে পরিশোধিত আওয়ামী লীগে? কারা তৈরি করবে সে আওয়ামী লীগ? দেশে যদি আওয়ামী লীগের কোনো নেতা সেরকম কোনো উদ্যোগ নেন, সে উদ্যোগে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী কি সাড়া দেবে? তা ছাড়া তাদের শীর্ষনেত্রী কি তেমন উদ্যোগ অনুমোদন করবেন? 

এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় টকশোবিদ এবং কলাম লেখক ইনিয়ে-বিনিয়ে এটা বলার চেষ্টা করছেন যে, গণতন্ত্রকে অর্থবহ করার জন্য আওয়ামী লগের রাজনীতিতে ফিরে আসা প্রয়োজন। তাদের বয়ানে আওয়ামী লীগকে ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি-নির্বাচন নাকি পূর্ণতা পেতে পারে না। বিস্ময়কর হলো, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতাকে গিলে খেয়ে যখন বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে জুলুম-নির্যাতনের জাঁতাকলে পিষ্ট করে একা রাজত্ব করছিল, এসব কথিত বুদ্ধিজীবী তখন মুখে কুলুপ এঁটে বসেছিলেন। এখন তারা গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী সেজে মহাজনি বয়ান দিচ্ছেন। যাক, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। 

বলা হচ্ছে, অপেক্ষাকৃত ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতাদের সমন্বয়ে নতুনভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করা হবে। তবে নির্মম সত্যি হলো, পতনের আগ পর্যন্ত টানা সাড়ে পনেরো বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় তহবিল লুটপাট এবং নৈতিক-স্খলনজনিত অপরাধের যেসব অভিযোগ এযাবৎ উত্থাপিত হয়েছে, তাতে ক্লিন ইমেজের লীগনেতা খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অনেকটা ঘন দূর্বাঘাসের মধ্যে পড়ে যাওয়া সুই খুঁজে বের করার মতোই। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অপকর্ম-অপরাধের স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে জ্বলজ্বল করছে। ফলে দলটি জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা খুঁজে বের করা অতটা সহজসাধ্য হবে বলে মনে হয় না। আর রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের প্রবক্তারা হয়তো খেয়াল করেননি, এ থিওরির দ্বারা তারা বিগত আমলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অপরাধ-অপকর্মের দায় স্বীকার করে নিচ্ছেন। কেননা, এ তত্ত্ব বলে দেয়, দূষিত হয়ে পড়া আওয়ামী লীগকে পরিশুদ্ধ করা হবে। 

পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে হবেÑ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে দলটির নেতাকর্মীদের একাংশ রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে ধরে নিচ্ছে। দেশের স্থানীয় পর্যায়ে কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ নেই। কেউ কেউ ইউনিয়ন, উপজেলা বা পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসার মতো গ্রহণযোগ্যও। ধরে নেওয়া যাক, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হলো এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা তাতে অংশ নিলেন। কেউ কেউ জিতেও এলেন। কিন্তু এতেই কি দেশের রাজনীতির মূলধারায় আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ তৈরি হবে? 

জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ফিরতে হলে যে বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হবে, সে সম্পর্কে হয়তো দলটির নেতাকর্মীদের ধারণা নেই। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কতিপয় নেতা নিরাপদ দূরত্বে বসে ফেসবুক-ইউটিউবে যতই বলুন কাল-পরশু শেখ হাসিনা-আওয়ামী লীগ ফিরে আসছে, বিষয়টি অতটা সহজ নয়। প্রথমত, তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-গণহত্যার অপরাধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রথম সারির অনেক নেতাই মামলা মাথায় নিয়ে হয় জেলে, নাহয় পলাতক। নেত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রথম সারির নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা কি আদৌ সম্ভব? উপরন্তু পনেরো বছরের শাসনামলে সরকারের মন্ত্রী, দলীয় এমপি এবং নেতাদের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য নমনীয়তা নেই। বরং তাদের একটি অংশ এখনও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে চলেছেন। এতে জনসাধারণের মধ্যে দলটির প্রতি সহানুভূতির পরিবর্তে বিরূপতাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোদ্দাকথা হলো, ২০২৪ সালে জনরোষে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে এসে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার মতো অবস্থানে এখনও আসতে পারেনি। 

এটা অনস্বীকার্য, আওয়ামী লীগ এদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল হিসেবেও রয়েছে এর আলাদা বৈশিষ্ট্য। দলটির সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীর সংখ্যাও কম ছিল না। কিন্তু স্বোপার্জিত পাপেই তারা পতনের গহিন খাদে পতিত হয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তবে অতীত অপরাধের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞার দেয়াল যদি তারা অতিক্রম করতে পারে, তাহলে তাদের পুনরায় ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হতেও পারে। সেজন্য দলটির নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। হিন্দিতে একটি কথা আছেÑ ‘জলদি কা কাম শয়তান কা হোতা হ্যায়।’ লীগ নেতা এবং তাদের বশংবদ বুদ্ধিজীবীগণ কথাটির তাৎপর্য নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন। 


লেখক: মহিউদ্দিন খান মোহন (সহকারী সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ)

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা