× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উগ্রবাদ রুখতে হবে জাতীয় ঐক্যে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদী রাজনৈতিক তৎপরতার বিভিন্ন ইঙ্গিত জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদী রাজনৈতিক তৎপরতার বিভিন্ন ইঙ্গিত জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদী রাজনৈতিক তৎপরতার বিভিন্ন ইঙ্গিত জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও যখন কোনো গোষ্ঠী সহিংসতা, ভয়ভীতি, উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা কিংবা আইনকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করে, তখন তা শুধু রাজনৈতিক স্থিরতাই নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে ওঠে। গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘উগ্রবাদের অশনিসংকেত’ শিরোনামের প্রতিবেদনেও এই সংক্রান্ত ভয়াবহ তথ্যে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দেশে একসময় জঙ্গি ও উগ্রবাদী তৎপরতা থাকলেও এখন আর নেই। নতুন করে যাতে সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। 

সম্প্রতি দেশের ১৫ জেলায় সাদা-কালো কালেমা খচিত পতাকা ওড়ানো ও মিছিলের ঘটনাকে সহজভাবে নেওয়ার উপায় নেই। এটা যে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠির অপতৎপরতার বহিঃপ্রকাশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তেমনটিই মনে করছেন। তারা বলছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন কারাগার থেকে জঙ্গি তৎপরতায় অভিযুক্ত অনেকেই নানা উপায়ে বেরিয়ে এসেছে। জনমনে সন্দেহ, তারা আবারও জঙ্গিদের সংগঠিত করার কাজে লিপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এমন কিছু কার্যক্রম এবং বক্তব্য এসেছে, যার মধ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির লক্ষণ রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে হলেও সনাতন ধর্মের জন্য আলাদা প্রদেশ তৈরির যে বক্তব্য এসেছে, তা কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা যায় না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বিশেস একটি ধম্বাবলম্বী গোষ্ঠির জন্য পৃথক প্রদেশ গঠনের দাবি রাষ্ট্রদ্রোহেরই নামান্তর। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের দায়িত্ব। অপরদিকে গাইবান্ধায় ‘রাম মন্দির’ নামে একটি মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে রংপুর বিভাগ দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে সীমান্তের বাইরে থেকে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি এখন স্পষ্ট। বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও নজরে এসেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, অন্তত ১৫টি জেলার ২৪টি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইডিগুলো শনাক্ত করে তাদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক পাল্টাপাল্টি তৎপরতা, কোনোটিই রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। তাই দেশকে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত রাখতে এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ ঠেকাতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, নাগরিকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।

বাস্তব অবস্থা এমন যে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যখন শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক সীমারেখার মধ্যে থাকে, তখন গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যদি সহিংসতা ও নাশকতা  ছড়িয়ে দিতে উস্কানিমূলক বক্তব্যের আশ্রয় নেওয়া হয়, তার ক্ষতিকর প্রভাব গোটা সমাজকে বহন করতে হয়। অতীতে দেশে বিভিন্ন সময়ে উগ্রপন্থা ও সহিংস রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের জানমাল, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

উল্লেখ্য, উগ্রবাদী প্রবণতা কেবল মাঠের কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য, সহিংসতার উস্কানি এবং ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তবে আমরা এটাও মনে করি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য, প্রমাণ এবং আইনের শাসনের নীতি অনুসরণ করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো রাজনৈতিক মত বা দলকে কেবল ভিন্নমতের কারণে উগ্রবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা উচিত নয়। অতীতে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই যাকেতাকে জঙ্গি বা উগ্রবাদী বানানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাই অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই বাঞ্ছনীয়। আমরা বলতে চাই, এসব ক্ষেত্রে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। রাষ্ট্রের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সে সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বও শান্তি, সহমর্মিতা এবং যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

গণতন্ত্রের শক্তি সহিংসতায় নয়, মতের ভিন্নতাকে শান্তিপূর্ণভাবে ধারণ করার সক্ষমতায়। তাই দেশে যদি সত্যিই উগ্রবাদী রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়, তাহলে তা মোকাবিলার পথ হওয়া উচিত নাগরিক ঐক্য সংহতি। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে ভিন্নমত থাকবে, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের সম্মিলনে। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক, কোনো্ উগ্রবাদিতাকে সমর্থন করেনি, প্রশ্রয় দেয় নি। ঐতিহ্যের এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে। আর সেজন্য উগ্রবাদী যেকোনো চক্রান্ত বা তৎপরতাকে রুখে দিতে হবে জাতীয় সুদৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা