ইসলাম ও জীবন
মুহাম্মাদ মুস্তফা জামান
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
প্রতীকী ছবি
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এতে সব বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে। ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলাম দিয়েছে কার্যকর নির্দেশনা, যা বাস্তবায়নে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।
ধর্ষণ জঘন্য অপরাধ। এটি মানবতা ও মানুষের মর্যাদার ওপর নির্মম আঘাত। তাই তো ইসলাম ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অত্যন্ত অশ্লীল কাজ এবং খুবই নিকৃষ্ট পথ। (সূরা ইসরা, আয়াত : ৩২)
মহান আল্লাহ দৃষ্টি সংযত, লজ্জাশীলতা ও পর্দাকে করেছেন চরিত্র রক্ষার ঢাল। মহান আল্লাহ বলেন, মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। (সূরা নুর, আয়াত : ৩০)
পরের আয়াতে মহান আল্লাহ আরও বলেন, আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বুক আবৃত রাখে। (সূরা নূর, আয়াত : ৩১)
তাকওয়া, আত্মসংযম ও বৈধ বিয়ের মাধ্যমে প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দিয়েছে (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। পরিবারে দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধকে করেছে সুস্থ সমাজের ভিত্তি।
হজরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশে বলেছেন: হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহ করার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা, বিবাহ দৃষ্টিকে অধিক সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক হেফাজত করে। আর যার সে সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কারণ রোজা তার জন্য প্রবৃত্তি দমনের ঢালস্বরূপ। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৬৬)
অপরাধীর কঠোর শাস্তি এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক নৈতিক সমাজব্যবস্থাই ধর্ষণমুক্ত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আদর্শ সমাজ গঠনের সর্বোত্তম পথ।
লেখক: ইমাম ও খতিব, বনানী মসজিদ আত্-তাকওয়া