× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাসের অযোগ্য নগর-মহানগর

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

প্রতিবেশের প্রতিকূলতা এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতার শহর ঢাকা। ফাইল ছবি

প্রতিবেশের প্রতিকূলতা এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতার শহর ঢাকা। ফাইল ছবি

বাসযোগ্য পরিবেশের আকাঙ্ক্ষায় সপ্তাহ দুয়েক আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছিলেন, রাজধানীতে তার এখন আর থাকতে ইচ্ছা করে না। তার নাকি চলে যেতে ইচ্ছা করে জন্মস্থান ঠাকুরগাঁয়ে, যেখানে কেটেছে শৈশব।

মন্ত্রী মির্জা আলমগীরের মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে ঢাকা এবং দেশের বড় বড় শহরে একরকম বাধ্য হয়ে বসবাসকারী নাগরিকদের আকুতির কথা। তাদের সে আকুতির পেছনে রয়েছে বহুবিধ কারণ। তন্মধ্যে পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতিকূলতা এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতা অন্যতম। জলাবদ্ধতা, বাতাসে ধুলা ও সিসার আধিক্য, বন্ধ হওয়া ড্রেনের ময়লা-আবর্জনার পূতিগন্ধময় পরিবেশ, খানাখন্দে জমে থাকা পানিতে মশার বংশ বৃদ্ধি ইত্যাদি সব মিলিয়ে সৃষ্টি করেছে এক অসহনীয় অবস্থা। আর সে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এখানে একটু গরম পড়লে যেমন হাঁসফাঁস অবস্থা সৃষ্টি হয়, তেমনি স্বস্তির বৃষ্টিও সৃষ্টি করে অস্বস্তিকর পরিবেশ। আধঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় নগরীর অলিগলি, এমনকি প্রধান প্রধান সড়কও। বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা সড়ক-ফুটপাতে নর্দমার ময়লা মিশে যে কদাকার অবস্থা তৈরি করে, তার বর্ণনা ভাষায় প্রকাশ অসাধ্য। 

চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় কম। বৃষ্টির মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত আষাঢ়ে মাসেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মিলছে না। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখনই কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে গত দুই দিনের মৌসুমি বৃষ্টি। সে বৃষ্টির ধারায় শীতল বাতাসে মানুষের গায়ে যখন স্বস্তির ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে, তখনই সেই পুরনো সমস্যার খবর স্বস্তিকে পরিণত করেছে অস্বস্তিতে। গতকালের প্রতিদিনের বাংলাদেশের খবরে ফুটে উঠেছে সে চিত্র। খবরে বলা হয়েছে, মাত্র দুই দিনের টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে তলিয়ে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল। হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে সেখানে জনজীবন হয়ে পড়েছে স্থবির। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি তিনটি ফ্লাইট। আর রহমান নগর এলাকায় ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে মারা গেছে একজন। আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, হালিশহর, ইপিজেড, বন্দর, পাঠানটুলি, চান্দগাঁও, চকবাজার ও কাট্টলীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বাসাবাড়ি, দোকানপাটে ঢুকে পড়েছে পানি। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগের কবলে পড়েছে দেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই নগরীর বাসিন্দারা। 

বন্দরনগরীর এ সমস্যা নতুন নয়। বছরের যখনই একটু ভারী বৃষ্টিপাত হয়, কিংবা নিম্নচাপজনিত কারণে বঙ্গোপসাগরের পানি বৃদ্ধি পায়, তখনই তলিয়ে যায় এর সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। এই সমস্যা নিরসনকল্পে নেওয়া হয়েছে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কয়েকটি প্রকল্প। কিন্তু সেসব প্রকল্পের সুফল নগরবাসী পাচ্ছে না। বর্তমানে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে দুটি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), একটি সিটি করপোরেশন ও একটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে আট থেকে দশ বছর ধরে। মোট ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকার এসব প্রকল্পের মধ্যে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের তিন-চতুর্থাংশ অর্থ ব্যয় হলেও নগরবাসীর দুর্ভোগ যে এতটুকু কমেনি, দুই দিনের বৃষ্টিতে পুরো নগরীর জলাশয়ে পরিণত হওয়াই তার প্রমাণ।

অপরদিকে একটি হতাশাজনক খবর একই দিনে দেশবাসীর নজর কেড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, প্রতিবার ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) বৈশ্বিক বাসযোগ্যতার যে সূচক প্রকাশ করে তাতে এবারও বাংলাদেশের রাজধানীর অবস্থান একেবারে তলানিতে। ১৭৩ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭০। ইআইইউর ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স-২০২৬-এ ঢাকার স্কোর ৪২। ঢাকার নিচে রয়েছে লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক। ত্রিপোলির অবস্থান ১৭২ আর দামেস্ক রয়েছে সর্বশেষ ১৭৩তম অবস্থানে। আইইইউর এ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী আমাদের রাজধানী ঢাকার অবস্থানই বলে দেয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা-উদ্যোগের আওয়াজ নিছক বাগাড়্ম্বর বৈ কিছু নয়। সরকারি-বেসরকারি নানান পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণের খবরে দেশবাসী মাঝেমধ্যেই আশান্বিত হয়ে থাকে। তবে সেসব পরিকল্পনা-প্রকল্প যে খাতাকলমেই সীমাবদ্ধ তা না বললেও বোঝা যায়। বলা যায়, সেসব পরিকল্পনার ‘পরি’ উড়ে যাওয়ার পর শুধু ‘কল্পনা’ পড়ে আছে। নগরবাসীকে থাকতে হচ্ছে সুস্থ পরিবেশের নগরীতে বসবাসের কল্পনায় বিভোর হয়ে। 

ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের এসব সমস্যা নতুন নয়। সমস্যাগুলোর সমাধানে কর্তৃপক্ষীয় আশ্বাস-উদ্যোগও পুরনো। কিন্তু সেসব উদ্যোগ বাস্তবে কবে রূপায়িত হবে, তা কারও জানা নেই। এদেশের জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য সময়ে সময়ে যেসব পরামর্শ বিশেষজ্ঞগণ দিয়ে থাকেন, পত্রিকার সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় স্তম্ভে যেসব মতামত ব্যক্ত করা হয়ে থাকে, কর্তৃপক্ষের তা বোধ করি নজরে আসে না। নাহলে ঢাকা বাসযোগ্য তালিকার তলানিতে থাকত না। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, তারা কানে তুলো গুঁজে স্বেচ্ছা বধিরত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে গরমে মানুষ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পতিত হলো, নাকি বৃষ্টির পানিতে নাকানিচুবানি খেল, তা নিয়ে তাদের কোনো বিকার নেই। 

এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা আলমগীর তার জন্মভিটায় চলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে দুঃসহ নগরী ঢাকার বাসিন্দাদের অভিব্যক্তিরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, ঢাকাসহ দেশের সব নগরীর বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের কর্তৃত্ব যেসব সংস্থার ওপর, সেগুলোর নিয়ন্ত্রক খোদ তারই মন্ত্রণালয়। যেহেতু মাননীয় মন্ত্রীও অনুভব করেছেন নগরীতে বসবাসের যন্ত্রণা, তাই সেসব সমস্যা সমাধানে এবার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে দেশবাসী তো সে আশা করতেই পারে।


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা