× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যাদুকাটা নদী রক্ষা: উন্নয়ন, জীবিকা ও পরিবেশের ন্যায়সংগত ভারসাম্য দরকার

রাসেল আহমদ

প্রকাশ : ২৩ ঘণ্টা আগে

রাসেল আহমদ। ফাইল ছবি

রাসেল আহমদ। ফাইল ছবি

একটি নদীর অপমৃত্যু শুধুই একটি জলধারার বিলুপ্তি নয়। তার সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি জনপদের ইতিহাস, ক্ষয়ে যায় জীববৈচিত্র্য, দুর্বল হয়ে পড়ে কৃষি ও মৎস্যসম্পদ, সংকুচিত হয় মানুষের জীবিকা এবং অনিশ্চিত হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা। তাই  রাষ্ট্র তার নদীগুলোর সঙ্গে কেমন আচরণ করে, সেটিও উন্নয়ন ও সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

বাংলাদেশের উচ্চ আদালত দেশের সব নদীকে জীবন্ত সত্তা বা জুরিস্টিক পারসন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই নীতিকেই আইনি ভিত্তি দিয়েছেন। কিন্তু সেই স্বীকৃতির বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটছে, তার উত্তর খুঁজতে সুনামগঞ্জের আন্তঃসীমান্ত নদী যাদুকাটার দিকে তাকালেই গভীর উদ্বেগের জন্ম হয়।

ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা যাদুকাটা কেবল একটি সীমান্ত নদী নয়; এটি হাওরাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এই নদীর তীরেই রয়েছে শ্রী শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভুর আশ্রম, শাহ আরেফিন (রহ.)-এর স্মৃতিধন্য আস্তানা এবং প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানীর ঐতিহাসিক নিদর্শন। দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের জলপ্রবাহ থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা- সবকিছুর সঙ্গে যাদুকাটার সম্পর্ক গভীর ও বহুমাত্রিক। ফলে এই নদীর সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন পরিবেশগত ঘটনা নয়; এটি একটি জনপদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটা হাজারো শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। একসময় স্থানীয় মানুষ হাতে বেলচা, ঝুড়ি ও বারকি নৌকা ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে বালু-পাথর সংগ্রহ করতেন। সেই পদ্ধতিতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটত না, আবার মানুষের জীবিকাও চলত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই শ্রমনির্ভর ব্যবস্থার জায়গা দখল করে যন্ত্রনির্ভর বাণিজ্যিক আহরণ। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার, বোমা মেশিন ও অন্যান্য যান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এর ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন বদলে যেতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন। ফলে তীরবর্তী জনপদের কৃষিজমি, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি পরছে ভাঙনের ঝুঁকিতে।

গত কয়েক বছরে যাদুকাটা নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, স্থানীয় জনগণের আন্দোলন এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সতর্কবার্তা একটি অভিন্ন বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে,নদীর তলদেশে রাতের অন্ধকারে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, নদীরপাড় কেটে অবৈধভাবে বালু আহরণের মতো আগ্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি সীমান্ত নদী- পাটলাই, মাহারাম, শান্তিপুর, ধোপাজান ও চেলা নদী নিয়েও রয়েছে। প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে এসব নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে, অবৈধ ড্রেজার, বোমা মেশিন জব্দ করেছে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহন করেছে। কিন্তু এতেকরে থামেনি নদীর বুকে ও পাড়ে বালুখেকোদের আগ্রাসন। বারবার একই ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে, সমস্যাটি কেবল আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা নয়; এটি নদী ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতারও প্রতিফলন।

এই সংকটের দৃশ্যমান প্রভাবও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। নদীতীরবর্তী বহু গ্রামে ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং বৃক্ষরাজি হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের অন্যতম পরিচিত এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগানও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। সম্প্রতি নদীর প্রস্থ অস্বাভাবিকভাবে প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। নদীর পাড় ভেঙে বালুচাপাপরে মারা যাচ্ছে শ্রমিক। এসব ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তবে এত দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের অভিযোগ প্রমান করে যে, বর্তমান ব্যবস্থাপনা কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।

তবে বাস্তবতার আরেকটি দিকও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যাদুকাটা ও আশপাশের নদীগুলোর বালু-পাথরের ওপর নির্ভর করে হাজারো বারকি শ্রমিক, নৌযান-শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় অর্থনীতি। নির্মাণ খাতেও এই সম্পদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ফলে সব ধরনের উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া কোনও সমাধান নয়। আবার অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রনির্ভর আহরণও কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই দুই চরম অবস্থানের মাঝখানেই রয়েছে একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধান।

সেই সমাধানের ভিত্তি হওয়া উচিত "নদীও বাঁচবে, শ্রমিকও বাঁচবে" নীতি। অর্থাৎ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীর, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত সক্ষমতা যেমন সংরক্ষণ করতে হবে, তেমনি বৈধভাবে সম্পদ আহরণের সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকাও রক্ষা করতে হবে। উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন প্রয়োজন এমন একটি রাষ্ট্রীয় নীতি, যেখানে নদী সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং মানুষের কর্মসংস্থান। এই তিনটি লক্ষ্য একই কাঠামোর মধ্যে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

যাদুকাটার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আমরা একটি নদীকে কীভাবে দেখি? স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব ও মুনাফার উৎস হিসেবে, নাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণযোগ্য একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে। এই প্রশ্নের উত্তরই এখন নীতিনির্ধারণের ভিত্তি হওয়া উচিত।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো; বর্তমান বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কি নদী সংরক্ষণ, রাজস্ব আহরণ এবং মানুষের জীবিকার মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য তৈরি করতে পারছে? বাস্তবতা বলছে, উত্তরটি আশাব্যঞ্জক নয়। সমস্যার মূল শুধু অবৈধ ড্রেজিং নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থার এমন কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত আহরণকে উৎসাহিত করে। ফলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সামনে থাকলেও নদীর পরিবেশগত ধারণক্ষমতা, তীরের স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ প্রায়ই প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না।

তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করা হবে কি না, সেটি নয়; বরং কীভাবে ইজারা ব্যবস্থাকে পরিবেশগত জবাবদিহির আওতায় আনা যায়। প্রতিটি বালুমহালের সীমানা জিপিএস, ডিজিটাল মানচিত্র, বয়া ও স্থায়ী চিহ্নের মাধ্যমে দৃশ্যমান করতে হবে। অনুমোদিত উত্তোলনের পরিমাণ, গভীরতা এবং সময়সীমা প্রকাশ্যে জানাতে হবে। শর্ত লঙ্ঘন, নদীতীর কাটা বা নিষিদ্ধ যন্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ মিললে শুধু জরিমানা নয়, দ্রুত ইজারা বাতিল এবং কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রাজস্ব আহরণ তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা প্রাকৃতিক সম্পদের স্থায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।

এর পাশাপাশি প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক বালু উত্তোলন নীতি। পৃথিবীর অনেক দেশেই নদী থেকে সম্পূর্ণ বালু উত্তোলন বন্ধ নয়; বরং জলপ্রবাহ, পলি সঞ্চয়ন, তীরের স্থিতিশীলতা এবং জীববৈচিত্র্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোথায়, কতটুকু এবং কোন মৌসুমে উত্তোলন করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। যাদুকাটার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা জরুরি। নদীর মাঝখানে প্রাকৃতিকভাবে পুনঃজমাকৃত বালু সীমিত পরিসরে উত্তোলনের সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু নদীতীর কেটে কিংবা তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি করে আহরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। 

প্রতিটি বালুমহালের আগে পরিবেশগত ও জলবিদ্যাগত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।

এর সঙ্গে সমান্তরালে নদীতীরকে স্থায়ী “No Mining Zone” হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতে নিরাপদ দূরত্ব নির্ধারণ করে সেই এলাকার মধ্যে সব ধরনের বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। কারণ একটি নদীর সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ তার তীর। একবার তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে তার প্রভাব কৃষিজমি, বসতি, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়ে।

এই আলোচনায় শ্রমজীবী মানুষের প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। যাদুকাটার সঙ্গে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই পরিবেশ রক্ষার নামে এমন কোনো নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা প্রকৃত শ্রমিকদের জীবিকাকে বিপন্ন করে। আবার শ্রমিকের নামে সিন্ডিকেটনির্ভর অবৈধ বাণিজ্যও মেনে নেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত শ্রমিক সমবায়ভিত্তিক মডেল একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প হতে পারে। তবে এই সমবায় হবে কঠোর জবাবদিহি, আর্থিক নিরীক্ষা এবং প্রশাসনিক তদারকির আওতায়। হাতে বেলচা, কোদাল ও বারকি নৌকার মাধ্যমে সীমিত আহরণ, শ্রমিক পরিচয়পত্র, ডিজিটাল নিবন্ধন এবং স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত শ্রমিকের অধিকার যেমন সুরক্ষিত হতে পারে, তেমনি সিন্ডিকেটের প্রভাবও কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, দুর্ঘটনা বিমা এবং মৌসুমি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়টিও নীতিগতভাবে বিবেচনা করা উচিত।

নৌপথ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বালু ও পাথর পরিবহনে বিভিন্ন ধরনের টুল বা চার্জ আদায় নিয়ে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, তার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরকারি গেজেট, নির্ধারিত টুলচার্ট এবং আরোপিত চার্জের আইনগত ভিত্তি প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা। 

স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন বৈধ রাজস্ব আদায় সহজ হবে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ ও অনিয়মের অভিযোগও কমবে। নৌপথ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সেবা প্রদান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা; অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করা নয়।

কিন্তু বিচ্ছিন্ন অভিযান বা প্রশাসনিক তৎপরতা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত "Jadukata River Management Plan"। এই পরিকল্পনায় নদীর জলপ্রবাহ, পলি সঞ্চয়ন, তীরভাঙন, জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে একই কাঠামোর মধ্যে বিবেচনায় আনতে হবে। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং নদীতীরবর্তী জনগণের অংশগ্রহণে একটি স্থায়ী সহ-ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

একই সঙ্গে প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। ড্রোন নজরদারি, স্যাটেলাইট চিত্র, জিপিএস-ভিত্তিক নৌযান ট্র্যাকিং, অনলাইন বালুমহাল মানচিত্র এবং জনঅভিযোগ গ্রহণের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা গেলে অবৈধ উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি কার্যকর সুশাসনের অপরিহার্য উপাদান।

সবশেষে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসতে হবে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে। যাদুকাটাকে কেবল রাজস্বের উৎস বা নির্মাণশিল্পের কাঁচামালের ভাণ্ডার হিসেবে দেখলে চলবে না। একটি নদীর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তার পরিবেশগত সেবা, কৃষিকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা, মৎস্যসম্পদের ধারাবাহিকতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটনের সম্ভাবনা এবং মানুষের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষমতায়। এই বৃহত্তর মূল্যকে উপেক্ষা করে যে উন্নয়ন, তা শেষ পর্যন্ত উন্নয়নকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

যাদুকাটা আজ রাষ্ট্রের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রেখে দাঁড়িয়ে আছে- আমরা কি স্বল্পমেয়াদি মুনাফার কাছে একটি নদীর ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখব, নাকি উন্নয়ন, জীবিকা ও পরিবেশের মধ্যে একটি ন্যায়সংগত ভারসাম্য গড়ে তুলব? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু যাদুকাটার নয়; বাংলাদেশের নদীনির্ভর সভ্যতার ভবিষ্যতেরও উত্তর।

একটি নদীকে বাঁচানো মানে শুধু তার পানিপ্রবাহ রক্ষা করা নয়; তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষ, প্রকৃতি, ইতিহাস এবং আগামী দিনের সম্ভাবনাকেও রক্ষা করা। যাদুকাটা আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।


রাসেল আহমদ

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা