× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিভক্তি নস্যাৎ করতে পারে অর্জন

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

মহিউদ্দিন খান মোহন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মহিউদ্দিন খান মোহন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক নানা কারণে ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি মাস বা একটি তারিখ বিশেষ মর্যাদা পায়। আমাদের জাতীয় জীবনে এমন বেশ কয়েকটি দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি, গণঅভ্যুত্থানের মাস জানুয়ারি, স্বাধীনতার মাস মার্চ, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস। এসব মাসের সঙ্গে ২০২৪ সালে এসে জুলাইও কাতারবন্দি হয়েছে। ঐতিহাসিকতার দিক থেকে পূর্বোক্ত মাসগুলোর চেয়ে জুলাইয়ের গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। ২০২৪ সালের এ মাসে সংঘটিত গণআন্দোলন এবং তারই প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বাঁক পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তার গুরুত্ব অবশ্যই পর্যালোচনার দাবি রাখে। কেননা জুলাইয়ের গণঅন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ সৃষ্ট কোনো ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের রাজনৈতিক নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিক্রিয়াসঞ্জাত ক্ষোভ, যা চব্বিশের জুলাইয়ে এসে বিস্ফোরিত হয়েছে। 

এটা স্বীকার করতে কারও দ্বিধা থাকার কথা নয় বা উচিত নয় যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়নি। মূলত সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বিলোপের দাবিতেই ছিল সে আন্দোলন। একপর্যায়ে সে আন্দোলনে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। একই সময়ে সরকারের একগুঁয়েমি সে আন্দোলনকে ঠেলে দেয় পয়েন্ট অব নো রিটার্নে। লীগ সরকারের নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতি অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারা ভাবতেও পারেননি, তাদের সাড়ে পনেরো বছরের দুঃশাসন-অপশাসনে সাধারণ মানুষ এতটা ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। তারা ধরেই নিয়েছিলেন, বিগত বছরগুলোতে বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপির সময়ে সময়ে ‘আল্টিমেটাম’ সমৃদ্ধ আন্দোলনের মতো শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনও একসময় থেমে যাবে। কিন্তু জনঅসন্তোষের বারুদ যে এতটা তেতে ছিল, সেটা তারা বুঝতে পারেননি। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি হচ্ছে এবার। ফলে সে আন্দোলনের চরিত্র, গতি-প্রকৃতি এবং ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনার সময় হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আগামী দিনের শাসকদের জন্য কী শিক্ষা রেখে গেছে, তারও আলোচনা হওয়া দরকার। একটি সরকার যখন দমন-পীড়নের মাত্রা অতিক্রম করে এবং সে কারণে বিরোধী পক্ষের ম্রিয়মাণ অবস্থায় নিজেদের অপ্রতিরোধ্য বিবেচনা করে, তখনই তারা অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত নেয় এবং পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। অতি আত্মবিশ্বাস ও দম্ভ সবসময় শাসকদের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। আওয়ামী লীগের পরিণতি তাই হয়েছে। 

সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দুটি বিষয় সচেতন ব্যক্তিদের নজর এড়ায়নি। এক. জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে পক্ষ শক্তির মধ্যে বাক-যুদ্ধ ও বিভক্তি। দুই. সে আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা। এ কথা অনস্বীকার্য যে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন একক কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে পরিচালত গতানুগতিক কোনো আন্দোলন ছিল না। সে আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ঐক্য একেবারে সামনের সারিতে ছিল তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। সংগঠনটির শীর্ষ কয়েকজন সমন্বয়ক মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে যে দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন, তা বিরল ঘটনা। লীগ সরকারের হুমকি ও নির্যাতনের মুখে সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে তারা আন্দোলনের অগ্নিশিখাকে শতগুণ তেজে জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। পাশাপাশি বিএনপিসহ লীগ-সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান সে অগ্নিশিখাকে দাবানলে রূপ দিয়েছিল। 

আলোচনার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, জুলাই আন্দোলনে রাজপথে যে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে, তা এককভাবে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের ছিল না। তারা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত জনতা। তাদের বিরিয়ানি খাইয়ে বা নগদ অর্থ হাতে দিয়ে জমায়েত করতে হয়নি। তারা এসেছিল নিজেদের গরজে। সে গরজ ছিল একটি দুর্বিনীত দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে মুক্ত করা। জনতার সে মহাসমুদ্রে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা যেমন ছিল, তেমনি রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয়, এমন মানুষও ছিল অসংখ্য। ফলে জুলাই আন্দোলনে কারও অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। 

হ্যাঁ, অস্বীকার করার যো নেই, বিএনপি তাদের দীর্ঘ পনেরো বছরের আন্দোলনে সফলতার মুখ দেখতে পায়নি। তারা বিভিন্ন সময়ে একের পর এক সরকার পতনের আন্দোলন কর্মসূচি দিয়েছে, আর শূন্য ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরে গেছে। অবশ্য কৈফিয়ৎ হিসেবে বিএনপি নেতারা লীগ সরকারের জুলুম-নির্যাতনের কথা বলে থাকেন। তবে এ কৈফিয়ৎ সর্বাংশে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আন্দোলনের সফলতা পেতে হলে সরকারের জুলুম-নির্যাতন মোকাবিলা করেই এগোতে হয়। কেউ কেউ বলেন, যদি কোটাবিরোধী আন্দোলন না হতো, তাহলে বিএনপি আরও পনেরো বছর রাজপথে থেকেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে একচুলও নড়াতে পারত কি না সন্দেহ। এ বক্তব্য সর্বতোভাবে সঠিক বা বেঠিক বলা যাবে না। কেননা, মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের একশ শতাংশ আন্তরিকতা ও জানবাজ আন্দোলন সত্ত্বেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সে আন্দোলনকে পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে সমর্থ হননি। তবে বর্তমানে সে বিষয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া নিরর্থক। বাস্তবতা হলো, চব্বিশের জুলাইয়ে আক্ষরিক অর্থে একটি গণআন্দোলন হয়েছে এবং তাতে বিএনপির অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপকভিত্তিক ও কার্যকর। বিএনপির সবচেয়ে বড় অবদান হলো, দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছর ধরে লীগ সরকারের দুঃশাসন, অপশাসন, জুলুম-নির্যাতন, অপহরণ, খুন-গুম, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনজীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা ইত্যাদি সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করে তোলা। তাদের প্রতিবাদ ও প্রচারণার কারণে জনগণ সরকারের ওপর এমনভাবে চটেছিল, যখন সময় হয়েছে, তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। বলা যায়, বিএনপি ওই সময়ে সরকারবিরোধী তৎপরতার দ্বারা রাজনীতির মাঠকে উত্তপ্ত করে রেখেছিল চৈত্রের প্রখর রোদে তাতিয়ে থাকা খড়-বিচালির মতো; যাতে কোটা আন্দোলনের একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বেলে দিয়েছিল দাবানল। সে দাবানলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার তখতে তাউস। 

একটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, সে গণআন্দোলনে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ জীবনের মায়া ত্যাগ করে শাসকের বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল। বস্তুত সদিন আওয়ামী লীগের সমর্থক ছাড়া গোটা দেশের মানুষ একাত্ম হয়েছিল সরকারকে গদিচ্যুত করতে। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তারা রাস্তায় নেমে এসেছিল। যারা কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক দলের মিটিং-মিছিলে যায়নি, তারাও লীগ সরকারের পতন ঘটানোর জন্য সবরকম ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মিছিলে শামিল হয়েছিল। সে সময়ে এমন একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি, যিনি প্রকাশ্যে লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকাকে সমর্থন করেছেন। বস্তুত চব্বিশের জুলাইয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, ১৯৭১ ও ১৯৯০ ছাড়া সে নজির আমাদের দেশের ইতিহাসে আর নেই। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ জনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শুধু পাকিস্তানিদের পদলেহনকারী মুসলিম লীগ-জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের সমর্থকরা ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষে। তারা কেবল মৌখিকভাবে সমর্থন নয়, অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি সৈন্যদের সহযোগী হিসেবে মুক্তিকামী বাংলাদেশি মানুষকে গণহত্যায়ও অংশ নিয়েছিল। তবে, তাদের সে দেশবিরোধী তৎপরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর ১৯৯০ সালে হৃত গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে স্বৈরশাসক এরশাদ পতন আন্দোলনেও দেশের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক, কবি, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। 

এটা প্রমাণিত যে, যখন কোনো শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি দেশের সব মানুষ ঐকবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসে, তখন সে শাসকের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সেটাই ঘটেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় মত্ত লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও দলটির নেতাকর্মীরা তা অনুধাবন করতে পারেননি। তারা চিন্তাও করতে পারেননি, জনগণ তাদের এভাবে বিতাড়িত করবে। অবশ্য এটাই ইতিহাসের দৃষ্টান্ত। পতন ঘরের দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো দুঃশাসকই বিশ্বাস করতে পারে না, তার বা তাদের সময় শেষ হয়েছে। তাই সে সময়ে আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দাম্ভিক উচ্চারণ শুনেছিÑ ‘পালাবো না’, ‘আওয়ামী লীগ পালায় না’ ‘শেখ হাসিনা পালায় না’ ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। ওবায়দুল কাদের তার নেত্রী পালায় না বলে দম্ভোক্তি করলেও শেষমেশ দেখা গেল, তার সে নেত্রী শুধু একা নন, নেতা, পাতিনেতা, নেতার হাতাসহ সবাই একদিনের মধ্যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ওপারে চলে গেলেন!

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লীগ সমর্থকরা প্রচারণা চালাচ্ছেন শিগগিরই শেখ হাসিনা দেশে ফিরে মামলা মোকাবিলা করবেন। কথাগুলো শেখ হাসিনার জবানিতেই প্রচার করা হচ্ছে। তবে সেসব বার্তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ এবং সংশয় দুটোই রয়েছে। আবার একদল লোক দিচ্ছে কথিত ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ তত্ত্ব। তারা বোঝাতে চাচ্ছে, আওয়ামী লগের মধ্যে যেসব খারাপ মানুষ রয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে নতুন রূপে দলটিকে সজ্জিত করে দেশবাসীর সামনে পরিবেশন করা হবে। তবে তারা এটা বিবেচনায় নিচ্ছেন না, পচে যাওয়া কোনো ফলকে যতই ধুয়ে পরিবেশন করা হোক, তাতে মুখ লাগাতে কারও রুচি হয় না। 

যাক, সে বিষয়ে বারান্তরে আলোচনার ইচ্ছা রইল। আজ শুধু এটুকু বলতে চাই, চব্বিশের গণআন্দোলনের পক্ষশক্তির মধ্যে যে ফাটল ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি এখনই দূর করা না হয়, তাহলে সে ফাটল দিয়ে পতিত দুঃশাসকের স্বমূর্তিতে কিংবা ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ অসম্ভব না-ও হতে পারে। একই সঙ্গে নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে রক্তস্নাত অর্জন। 


লেখক: মহিউদ্দিন খান মোহন (সহকারী সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ)


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা