ইমেইল থেকে
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
প্রতীকী ছবি
ঢাকাসহ সাড়া দেশে প্রতিদিন যে হারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তা প্রতিরোধ করার মতো কার্যত দেশে ওষুধ নেই। যাও আছে তা মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারাও যাচ্ছে। ইদানীং রাজধানীতে মশার উৎপাত যথেষ্ট বেড়েছে। মশা নিধনে ঢাকার উভয় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম খুবই দুর্বল।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত বহু রোগী হাসপাতালে টাকাপয়সার অভাবে ভর্তি হতে পারে না। রক্তের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। কার্যকর ও মশা নিধনে উপযোগী ওষুধ ছিটাতে না পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা দুষ্কর।
প্রথম থেকে দেখেছি, ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন অবহেলা ও উদাসীনতা দেখাচ্ছে। হামের টিকার মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষণীয় নয়। এই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু দেশব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকায় ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাবস্থা মোটামুটি থাকলেও বিভিন্ন জেলা, উপজেলাতে এ রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি যথেষ্ট সংকট রয়েছে। শুধু যন্ত্রপাতি নয়, পর্যাপ্ত চিকিৎসক সংকট দেশব্যাপী। ইতোমধ্যে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ রোগের চিকিৎসার ব্যয়ভার গরিব ও দরিদ্র মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে অসহনীয়। বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।
দেশব্যাপী যদি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে আগামী শীতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথার ওষুধ খাওয়া ঠিক হবে না। তারা বলছেন, দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে সময় সময় ড্রেন, নালা, নর্দমা, জলাশয়, মজা পুকুর হতে কচুরিপানাসহ অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিতে হবে। স্ব-স্ব বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফুলের টব, ফুলদানি, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, বাথরুমের কমোড, ডাবের খোল, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার-টিউবে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ছাড়াও ঘন ঘন মশার ওষুধ ও ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে হবে। কোনোভাবেই অবহেলা বা ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে দেওয়া যাবে না।
আমরা যদি সুরক্ষিত থাকতে চাই তবে আমাদের মশা থেকে নিরাপদ থাকতে হবে। আর প্রাপ্তবয়স্ক বা ডায়াবেটিকস রোগীদের জটিলতা সম্পর্কে আরও সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে। কেবল সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার রোধ করা যেতে পারে। তাই কোনোভাবেই আর অবহেলা নয়।
লেখক: মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী (গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ঢাকা )