× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাংলাদেশ-চীন ঐতিহাসিক সম্পর্ক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গণপ্রজাতন্ত্রী দুটি দেশ বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করা মোটেই অযৌক্তিক নয়। কেননা, বাংলাদেশ নামের এ স্বাধীন-সার্বভৌম দেশটির সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

প্রাচীন ও মধ্যযুগে চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে গড়ে তোলা সিল্ক রুটের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে বাংলাদেশ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ ও ২০২৩ সালে ইউনেস্কো সিল্ক রুটের কয়েকটি করিডোরকে বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। চীন বর্তমানে তাদের পরিকল্পিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে সেই সিল্ক রুট অবকাঠামোকে পুনরুর্জীবিত করার চেষ্টা করছে। এই পরিকল্পনায় তারা বাংলাদেশকে অন্যতম অংশীদার করার আগ্রহ প্রথম থেকেই প্রকাশ করে আসছে।

এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) সব সময় চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ছিল। চীনের প্রথম প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাই ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বরে তার পাকিস্তান সফরের অংশ হিসেবে ঢাকাকে দিয়েছিলেন বিশেষ গুরুত্ব। ১৯৬৩, ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চীন সফর করেন। তার এসব সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে। চীনের চেয়ারম্যান মাও সেতুংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মজলুম জননেতা পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের বঞ্চনা ও পাকিস্তান সরকারের শোষণ-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। চেয়ারম্যান মাও এদেশের শোষিত, বঞ্চিত মানুষের পক্ষে সহমর্মিতা জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চীনের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর।

চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর তাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (পরে রাষ্ট্রপতি) মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালের ২ থেকে ৫ জানুয়ারি তার চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বীজ রোপিত হয়, পাঁচ দশকে তা পত্রপল্লবে বিকশিত হয়ে মহিরুহের রূপ ধারণ করেছে। সে মহিরুহের ছায়ায় এই দুটি দেশের জনসাধারণ নিশ্চিন্ত নিরাপদ বোধ করে সব সময়। জিয়াউর রহমান সূচিত চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সে সম্পর্কে নতুন সেতুবন্ধ রচনা হয় বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে। যদিও মাঝেমধ্যে সে সম্পর্ক থমকে দাঁড়িয়েছে, তবে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে চীন সব সময় পাশে অবস্থান করেছে। এদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের রয়েছে ব্যাপক অংশগ্রহণ, যা দুই দেশের মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করেছে।

এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে সে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেই কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গত ২৫ জুন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে সেদেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মরক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া চীন বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনে বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছে। স্বাক্ষরিত ১৩টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে ৪টি রয়েছে গণমাধ্যম খাত সংশ্লিষ্ট। যদিও সমঝোতা স্মারকসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে এটা অনুমান করা যায়, বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন যে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেদেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে তা প্রতিভাত হয়ে উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলটির সঙ্গে সম্পর্ক হিসেবে চিত্রিত করার প্রয়াস ছিল দৃষ্টিকটু। চীন সে গণ্ডি থেকে বেরিয়ে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহীÑ এটা এখন স্পষ্ট। দুটি দেশের সম্পর্ক স্থাপিত হয় সরকার ও জনগণের সঙ্গে। সরকারের সঙ্গে কোনো বিশেষ দলের সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে না। হলেও তা কূটনৈতিক মানদণ্ডে সঠিক বিবেচিত হয় না। তবে দুটি দেশের দুই বা ততোধিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক হলে তাকে বক্রদৃষ্টিতে দেখার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে বিএনপির সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা সেরকমই একটি সম্পর্কসঞ্জাত। এই সমঝোতা দুই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আদান-প্রদান ও গুণগত মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। 

সার্বিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশা করি। চীন যেহেতু বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু, তাই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে নতুন মাত্রা সংযোজিত হলো, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তা বাংলাদেশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি। 

সম্পাদকীয় 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা