× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৪ ঘণ্টা আগে

ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এই আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে, যেখানে কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বোচ্চ।

এই অমিত সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র মাদক কারবারিদের সঙ্গে লড়াই করছেন, কিন্তু তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই।

এই আইনগত শূন্যতা ও আধুনিক চ্যালেঞ্জ দূর করতে আগামী ২-১ দিনের মধ্যে মহান জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল’ উত্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে এই বাহিনীকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন অর্গান হিসেবে শক্তিশালী করা হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সশস্ত্র মাদক কারবারি ও চোরাকারবারিদের শক্ত হাতে দমনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণসহ ৯ এমএম পিস্তল ও আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আদালতে বিচারাধীন মাদক মামলার জট

আদালতে বিচারাধীন মাদক মামলার জট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদকের মামলা পেন্ডিং রয়েছে। বিচারক স্বল্পতার কারণে এই বিপুল সংখ্যক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না। 

এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংশোধিত আইনে মামলার সংখ্যা বিবেচনায় যেখানে প্রয়োজন, সেখানে মাদকের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ স্থাপনের কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে আধুনিক ‘ডগ স্কোয়াড’ সংযোজন এবং সিআরপিসি অনুযায়ী আসামি গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ার অন্তর্বর্তী সময়ে রাখার জন্য ‘হাজতখানা’ স্থাপনের আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে।

মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষার জালিয়াতি রুখতে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে উন্নত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।

ডিজিটাল অপরাধের চ্যালেঞ্জ 

ডিজিটাল অপরাধের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাদক ও জুয়ার অপরাধসমূহ সাইবার স্পেস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে।

মাদক পাচারকারী চক্র বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার আড়ালে তরুণ সমাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে বলেও দাবি তার।

তিনি বলেন, ১৮৬৭ সালের প্রাচীন জুয়া প্রতিরোধ আইন দিয়ে বর্তমান যুগের আধুনিক অনলাইন বেটিং ও ক্রিপ্টো-অপরাধ দমন সম্ভব নয়।

মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে বেনামী সিমের মাধ্যমে ওটিপি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে যে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং হচ্ছে, তা কঠোরভাবে ট্র্যাকিংয়ের জন্য এনটিএমসির পরামর্শে আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতা বা বহনকারীদের ধরপাকড়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মাদক ব্যবসার মূল হোতা, অর্থ জোগানদাতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি বলেন, মাদকের কালো টাকা দিয়ে অর্জিত সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নতুন সংশোধনীতে কঠোর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এবং ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এরই মধ্যে এ ধরনের ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে এবং আরও ২৩টি গুরুতর অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকার উত্তরার মতো জায়গায় জঘন্যতম সিনথেটিক ড্রাগ ‘কিটামিনের’ ল্যাবরেটরি আবিষ্কার হওয়া প্রমাণ করে অপরাধীরা কতখানি আধুনিক।

প্রথাগত মাদকের পাশাপাশি নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদক বা ‘নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্সেসের’ (এনপিএস) প্রাদুর্ভাব মাদকাসক্তির ঝুঁকিকে আরও ঘনীভূত করেছে। তাই আমাদের আইনকেও অত্যাধুনিক করতে হবে, বলেন মন্ত্রী।

প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মাদকাসক্তি একটি মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি। যারা এর ফাঁদে পড়েছেন, তারা সমাজ বা রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী নন, বরং তারা রোগী।

তাই তাদের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা এবং মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং জোরদার করা হয়েছে, জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নে সরকার আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করেছে এবং এডিকশন প্রফেশনালদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক কোনো একক দেশের বা একক সংস্থার পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন।

তিনি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

মন্ত্রী এর আগে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে স্থাপিত মাদকবিরোধী বিশেষ স্টল পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের থিম সং প্রদর্শন করা হয়।

মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত এক ব্যক্তি অনুষ্ঠানে তার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও বিশেষ স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন করেন।

এরপর মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।

'মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস' এর এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা