ইসলাম ও জীবন
মুহাম্মাদ মুস্তফা জামান
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
প্রতীকী ছবি
হিজরি নববর্ষ ইসলামী বর্ষপঞ্জির সূচনা। এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে মহানবী (সা.) -এর ঐতিহাসিক হিজরতকে কেন্দ্র করে। উমর ইবনুল খাত্তাব-এর খিলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামের পরামর্শে হিজরতকে ইসলামী সনের সূচনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। কারণ হিজরত ছিল সত্য প্রতিষ্ঠা, ঈমান রক্ষা ও ইসলামী সমাজব্যবস্থা গঠনের এক ঐতিহাসিক মোড়।
হিজরত আমাদের শিক্ষা দেয়Ñ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, ধৈর্য, পরিকল্পনা, ভ্রাতৃত্ব ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে… আমি অবশ্যই তাদের উত্তম জীবিকা দান করব।’ (সূরা আন-নাহল ১৬:৪১)। আবার আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মাসের সংখ্যা আল্লাহর কাছে বারোটি…এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।’ (সূরা আত-তাওবা ৯:৩৬)। মুহাররম সেই চারটি সম্মানিত মাসের একটি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা।’ (সহীহ মুসলিম)
হিজরি নববর্ষে ইসলামে কোনও বিশেষ উৎসব, শোভাযাত্রা বা নির্দিষ্ট আমলের বিধান নেই। বরং একজন মুসলিমের করণীয় হলো আত্মসমালোচনা, আন্তরিক তওবা, ইবাদত বৃদ্ধি, নেক আমলের দৃঢ় সংকল্প এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সূরা আন-নূর ২৪:৩১)
অতএব, নতুন হিজরি বছর হোক গুনাহমুক্ত জীবন, কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ, উত্তম চরিত্র গঠন, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সমাজকল্যাণে আত্মনিয়োগের নতুন অঙ্গীকারের সূচনা। এভাবেই হিজরি নববর্ষ একজন মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহমুখী জীবনের প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: মুহাম্মাদ মুস্তফা জামান (ইমাম ও খতিব, বনানী মসজিদ আত্-তাকওয়া)