× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পঞ্চম কলামে আমলাতন্ত্র

হেলাল উদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

১৯৯৪ সালের ৭ এপ্রিল আমার প্রবন্ধ ‘বুরোক্র্যাট্স আউট’ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ’-এর ‘ফিফ্থ কলাম’-এ প্রকাশিত হয়। সাময়িকীটি হংকং থেকে প্রকাশিত।

আমি তখন তৎকালীন সরকারি কর্মস্থলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে তার ফটোকপি বিতরণ করেছিলাম। প্রবন্ধটি ছিল বিশ্ব বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নিতান্তই কেতাবি ধাঁচের, যেখানে তৃতীয় বিশ্বের উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথাও মাঝেমধ্যে এসেছে। এটা মূলত ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বি.আই.ডি.এস) উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ক উচ্চতর কোর্সে ‘অনুন্নয়নের বাহক হিসেবে আমলাতন্ত্র : বাংলাদেশের উদাহরণ’ শীর্ষক আমার একটি গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে রচিত হয়েছিল। আমার ধারণা ছিল, আমলা সহকর্মীরা লেখাটি পছন্দ না করলেও অন্তত ক্ষিপ্ত হবেন না বা অপমানবোধ করবেন না। কিন্তু এক সপ্তাহ পর আমি প্রচণ্ড একটি ধাক্কা খেলাম যখন কার্যালয়ের প্রশাসনিক শাখা থেকে আমার বিরুদ্ধে কারণ-দর্শাও নোটিস জারি করা হলো। এতে অভিযোগ করা হলো যে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া একটি নিবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে সরকার ও আমলাতন্ত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে আমি অসদাচরণ করেছি। এটা ছিল আমার জন্য এক বিশাল আঘাত। কেননা, আমার প্রত্যাশা ছিল, ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ’র মতো একটি বিশ্ববিখ্যাত ও মর্যাদাপূর্ণ সাময়িকীতে লেখা ছাপানোয় আমি সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের দ্বারা প্রশংসিত হব। কিন্তু তার পরিবর্তে যখন আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কৈফিয়ৎ তলব করা হলো, তখন আমার বিস্ময়ে বিমূঢ় হওয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না।

যাহোক, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি দুটো যুগপৎ পদক্ষেপ নিলাম। প্রথমত, আমি বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে একটি দাপ্তরিক উত্তর জমা দিলাম, যাতে উল্লেখ করলাম জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে লেখালেখির বিষয়ে আমার বিভাগীয় প্রধানের অনুমোদন ছিল। দ্বিতীয়ত, অনুসন্ধান করে দেখলাম এই হয়রানির পেছনে কাদের ইন্ধন ছিল। সৌভাগ্যক্রমে আমার দাপ্তরিক জবাবটি কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে হওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিল না। কিন্তু আমি যখন হয়রানির পেছনে কারা জড়িত সেটা আবিষ্কার করলাম, তখন উদ্বিগ্ন হলাম। এরা ছিল মূলত একটি ক্ষমতাধর সার্ভিস সমিতির সদস্য, যারা নিজেদেরকে সিভিল সার্ভিসের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে এবং যাদের ধারণা, ঔপনিবেশিক আমলের আই.সি.এস ও পাকিস্তানি যুগের সি.এস.পি-দের তারা উত্তরসূরি। বস্তুত এই আমলারাই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পরবর্তীতে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের পক্ষে এতদঞ্চলে প্রশাসন চালাত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও তাদের ক্ষমতা বা প্রভাব-প্রতিপত্তি তেমন হ্রাস পেয়েছে বলে মনে হয় না। এরা এখনও এমনসব আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ও কর্মক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করে, যেগুলো একটি স্বাধীন দেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং যাকে এখনও ঔপনিবেশিকতা, অনৈতিকতা ও দুর্নীতিগ্রস্ততার ধারক ও বাহক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সে যাহোক, আমার পরবর্তী জীবনেও এই ছোট ঘটনাটি বেশ বড় প্রভাব ফেলেছিল। নিবন্ধটি ছাপা হওয়ার দুই মাসের মাথায় সদ্য-প্রতিষ্ঠিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টি.আই) নিউজলেটারের দ্বিতীয় সংখ্যায় (জুন ১৯৯৪) সম্পাদকীয় ও সংবাদ-কলামে আমার লেখাটিকে পৃথকভাবে উদ্ধৃত করা হলো, যেটা টি.আই-এর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সম্পাদক জেরেমি পোপ স্বয়ং আমার নিকট ডাকযোগে পাঠালেন। এরপর ইউপিআই-এর পক্ষে ভিয়েতনাম যুদ্ধ কভার করার জন্য বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক লিওন ড্যানিয়েল ঢাকা থেকে প্রকাশিত দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার পরামর্শক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় উইকঅ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্টের ১৬ জুন ১৯৯৫ সংখ্যায় তার ‘অ্যান আউটসাইডার্স ভিউ’ কলামে আমার লেখাটিকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের মূল্যায়ন করলেন এবং আমলা হয়েও আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করায় আমার প্রশংসা করলেন। একই বছর টি.আই-এর প্রতিষ্ঠাতা পিটার আইগেনের ঢাকা সফরের পর ১৯৯৬ সালেই বাংলাদেশে টি.আই-এর একটি চ্যাপ্টার (টিআইবি) চালু হলো, যা ১৯৯৮ সালে এনজিও হিসেবে নিবন্ধিত হয়। আমি যেহেতু প্রথাগত আমলাদের কাতারে ছিলাম না এবং সরকারি দপ্তরসমূহে দুর্নীতির ব্যাপারে ছিলাম বীতশ্রদ্ধ, তাই ১৯৯৭ সালের শেষের দিকেই পূর্বের সূত্র ধরে টিআইবি’র সঙ্গে আমার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো। সে সময় সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায়ই আমি সংগঠনটির একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করলাম, যা আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল না। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমি মূলত বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদের কাজটি করতাম, যা বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রকাশনাসমূহের ক্ষেত্রেও আমি করেছি। এভাবে সরকারি চাকরির পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে টিআইবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ২০১৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, যার আগের বছর স্বাভাবিক অবসরের তিন বছর পূর্বে আমি স্বেচ্ছায় অবসর নিই।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা প্রয়োজন, যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০০৬ সালে আমি যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করি, তাতে আমার অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল: ‘বাংলাদেশে প্রশাসনিক দুর্নীতি তিনটি থানার ওপর সমীক্ষা’। আর ২০১২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আই.বি.এস হতে অর্জিত পি.এইচ.ডি ডিগ্রির ক্ষেত্রে আমার অভিসন্দর্ভের বিষয়বস্তু ছিল: ‘সেবাদানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দুর্নীতি: ঢাকা মহানগরীর ১০টি খাতের ওপর আচরণগত সমীক্ষা’।

লেখক: হেলাল উদ্দিন আহমেদ (অতিরিক্ত সচিব, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সাবেক এডিটোরিয়াল কনসালট্যান্ট)

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা