বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৪ ২০:৩০ পিএম
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪ ২২:১৭ পিএম
সাংবাদিক মাসুদ হত্যার বিচার দাবিতে বরগুনা শহরের পৌর সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেয় এলাকাবাসী। প্রবা ফটো
‘আমার বাবাকে মারধর করে মেঝেতে ফেলে রেখেছিল। আহত অবস্থায় একটু পানি খেতে চেয়েছিল আমার বাবা। কিন্ত খুনিরা এত নির্মম যে বাবাকে একটু পানি পর্যন্ত খেতে দেয়নি। কী এমন অপরাধ করেছিল আমার বাবা? আমার বাবা প্রেস ক্লাবে কেন গিয়েছিল— এই অপরাধে তাকে মেরে ফেলল।’ প্রেস ক্লাবে মারধরে নিহত সাংবাদিক তালুকদার মাসুদের মেয়ে সাদিয়া তালুকদার তন্নি বাবা হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন।
মাসুদ হত্যার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে বরগুনা শহরের পৌর সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মাসুদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন। তা ছাড়া খেলাঘর বরগুনা ও বরগুনা সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনও এতে যোগ দেয়।
মাসুদের মেয়ে তন্নি বলেন, ‘বাবাকে হারানোর কী বেদনা, যাদের বাবা নেই শুধু তারাই তা বুঝতে পারে। ঘটনার সময় বাবা আমাকে ফোন করে বলেছিল, আমাকে প্রেস ক্লাবে আটকে রেখে মারধর করছে। আমি ছুটে এসেছিলাম। কিন্তু আমাকে প্রেস ক্লাবে ঢুকতে দেয়নি। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় বাবাকে উদ্ধার করে নিচে নিয়ে এসে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। আমার বাবাকে কারা কীভাবে মেরেছে, সব ভিডিওতে বলেছে বাবা। আমার বাবা আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন। একটু পানি খেতে চেয়েছিলেন। তাকে পানি পর্যন্ত দেয়নি খুনিরা। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।’ মাসুদের ছেলে ও স্ত্রীও এই হত্যার বিচার চেয়ে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মামলার বাদী মাসুদের স্ত্রী সাজেদা বলেন, ‘মামলার পর আসামিরা আমাকে কল করে হুমকি দিচ্ছে। আমাকে মামলা উঠাতে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কিত। আমরা অনিরাপদ। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন।’
খেলাঘর বরগুনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, ‘এনটিভির সাংবাদিক সোহেল হাফিজ প্রেস ক্লাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সাংবাদিকতার নামে গুণ্ডা বাহিনী সৃষ্টি করেছিলেন। সেই বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে মাসুদ নিহত হয়েছেন। ওদের পরিচয় কেবল খুনি, হত্যাকারী। সোহেল হাফিজ গ্যাং এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
সমাবেশে বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রইসুল আলম রিপন, বরগুনা সদর উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দীন, খেলাঘর বরগুনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মাছরাঙা টিভির বরগুনা প্রতিনিধি মুশফিক আরিফ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন ফসল, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রুদ্র রুহান, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরগুনায় কর্মরত সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন।
খুনিদের গ্রেপ্তার সম্পর্কে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাসুদের মৃত্যুর খবর শুনে আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ আসামিদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে।’