প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৩ ২২:১০ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৩ ২২:৩৬ পিএম
গ্রিন টেলিভিশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। প্রবা ফটো
আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরেই দেশে গণমাধ্যমের বিকাশ হয়েছে এবং এই সরকারের সময়ে দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশে প্রথম বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা হয়েছিল। যা অব্যাহত আছে।
শুক্রবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান রংধনু গ্রুপের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ‘গ্রিন টেলিভিশন’-এর উদ্বোধন করে তিনি তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু করে টেলিভিশন চ্যানেলটি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
‘তোমার চোখে বিশ্ব দেখি’—এই স্লোগান সামনে রেখে দ্রুত দর্শক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চায় টেলিভিশনটি।
টেলিভিশন চ্যানেলটির উদ্বোধকের বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নতুন টেলিভিশনের যাত্রা শুরু করায় গ্রিন টেলিভিশন পরিবারকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশে বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। দেশে তার হাতেই বেশি টেলিভিশন যাত্রা করেছে। ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসে তিনি প্রথম বেসরকারি টেলিভিশনের লাইসেন্স দেন।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৯ সালে ১০টি ছিল, আজ গ্রিন টিভির মাধ্যমে ৩৯টি সম্প্রচারে গেল। দেশে ৪৭টি টেভিশনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। আরও সামনে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘গত সোয়া ১৪ বছরে দেশের গণমাধ্যমের গাণিতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগে ৪৫০টি দৈনিক পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো। এখন সেখানে ১ হাজার ২৫০টি প্রকাশিত হচ্ছে। আমরা কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দিয়েছি ২৪টি। দেশে টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ৪৭টি। এর মধ্যে ৩৯তম টেলিভিশন হিসেবে গ্রিন টিভি যাত্রা করল।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি গণমাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিকাশ জড়িত। গণমাধ্যমের বিকাশ হলে দেশের বিকাশ হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে দেখেন, সেখানে বিবিসির অফিসে তিন দিন ধরে তল্লাশি হয়েছে। সিঙ্গাপুরে চারটি গণমাধ্যম ছিল এখন সেটি বেড়ে পাঁচটি হয়েছে। অনেকে থাইল্যান্ড এবং মালেশিয়ায় গণমাধ্যমকে স্বাধীন বলে মনে করেন। কিন্তু সেখানে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চরিত্র হরণ করার দায়ে এই দুই দেশে গণমাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় সব ফিড একটা লিঙ্কে আসে তারপর সেখানে আপলিঙ্ক হয়। অথচ বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে তাদের কনটেন্ট প্রচার করতে পারে। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যা স্বাধীন গণমাধ্যমের অন্যতম উদাহরণ।’
তিনি গ্রিন টিভির পরিচালকদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তারা বলেছেন গ্রিন টিভি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করে বাংলাদেশকে স্বপ্নের পথে নিয়ে যাবে। আমি আশা করব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করার সঙ্গে গ্রিন টিভি আবহমান বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরবে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রিন টেলিভিশন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলবে। দেশের উন্নয়ন তুলে ধরবে। দায়িত্বশীলদের অপারগতা তুলে ধরবে, সেটাও আমরা চাই। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে দায়িত্বশীলতা থেকে। আমরা গ্রিন টেলিভিশনের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. রফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ চলচ্চিত্র ও মিডিয়া জগতের তারকারা উপস্থিত ছিলেন।