সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৩ ১৩:০২ পিএম
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৩ ১৯:৪১ পিএম
সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস
একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদকর্মীকে সাভারে তার ভাড়া বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৯ মার্চ) ভোরে তার বাসায় ঢাকা থেকে যাওয়া সিআইডির একটি টিম অভিযান চালায় বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু মন্ডল।
ওই সাংবাদিকের নাম শামসুজ্জামান শামস। তার গ্রামের বাড়ির মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকায়। আশুলিয়ার আমবাগান এলাকায় চারতলা একটি বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকেন তিনি। ২০১৬ সালে হোলি আর্টিজান বেকারিতে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ হারানো পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলামের ছোট ভাই শামসুজ্জামান।
শামসুজ্জামানের আমবাগানের বাড়ির মালিক ফেরদৌস আলম কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিআইডির লোকজন এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে, এই বাসায় শামসুজ্জামান থাকে কি না। পরে তাকে নিয়ে যায়। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কী কারণে নেওয়া হচ্ছে? তখন আমাকে একজন বলেন, কোনো এক রিপোর্টের কারণে তার নামে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না। শামসুজ্জামান আমার বাসায় প্রায় বছরখানেক ধরে ভাড়া থাকে।’
জাতীয় দৈনিকটিতে সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত শামসুজ্জামান। তার বাসায় ওই অভিযানের সময় ঢাকা ট্রিবিউনে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সিআইডির সদস্যরা তিনটি গাড়িতে করে এসেছিলেন। বাসায় এসে তারা জব্দ করা মালামালের তালিকা করেন। শামসুজ্জামানকে জামাকাপড় নিতে বলা হয়। এ সময় কক্ষের ভেতরে দাঁড় করিয়ে তার ছবি তোলা হয়। ৫-৭ মিনিটের মধ্যে আবার তারা বের হয়ে যান।’
আশুলিয়া থানার এসআই রাজু মন্ডল বলেন, ‘ঢাকা থেকে সিআইডির একটি টিম এসেছিল। আমি শুধু সঙ্গে ছিলাম। আমবাগানের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে একজনকে তারা নিয়ে গেছে। সকাল ৭টার দিকে অভিযান শেষ হয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ওখানে আমাকে জাস্ট ওনারা প্রেজেন্ট থাকতে বলছে। পোশাক পরিহিত পুলিশ হিসেবে আমাকে রাখা হয়েছে। এটা খুব সিকিউরড করে করা হয়েছে। এডিশনাল এসপি স্যার আসছিলেন। কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না। আসলে কোন ব্যাপারে তাকে ধরে নেওয়া হয়েছে জানি না।’
তবে সাংবাদিক শামসুজ্জামানের বাসা থেকে কি কি জব্দ করা হয়েছে এবং সিআইডি টিমে কে কে ছিলেন, বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি এসআই।