× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাঙালির বাতিঘর আনিসুজ্জামানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪ ১০:২৮ এএম

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪ ১০:৪৫ এএম

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

যাদের জীবন অধ্যয়ন ও চর্চা করে শতাব্দীর বাঙালি সমাজের ইতিহাসের বাঁক চেনা যায়, বাঙালি মুসলমানের সাহিত্যচর্চা ও আধুনিকতার দিকগুলো চিহ্নিত করা যায়, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাদের অন্যতম। ইতিহাসের পরিক্রমায় আনিসুজ্জামান হয়ে উঠেছেন একটি প্রক্রিয়া, হয়ে উঠেছে পথিকৃৎজন। বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলনের ইতিহাসেই শুধু নয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসেও তার অবস্থান একদিকে স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে, অন্যদিকে বাঁকপরিবর্তনকারী হিসেবে। পাকিস্তান শাসনামলে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যেমন তিনি ছিলেন একজন প্রধান সারির নেতা ও সংগঠক, তেমনই বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং যুদ্ধেও তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। মুক্তবুদ্ধিজন হিসেবে স্বীকৃত খ্যাতিমান এই অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের আজকের এই তারিখে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ভারতবিভক্তির সূত্রে ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ববঙ্গে চলে আসেন আনিসুজ্জামান। তবে তার জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট গ্রামে। মা সৈয়দা খাতুন গৃহিণী ছিলেন, তবে সাহিত্যচর্চায়ও যুক্ত ছিলেন তিনি। তার পিতা এ টি এম মোয়াজ্জেম ছিলেন ওই সময়ের একজন খ্যাতিমান হোমিও চিকিৎসক। ১৯৪৮ সাল থেকে দানা বাঁধতে থাকা ভাষা আন্দোলন কিশোর আনিসুজ্জামানকে নতুন চেতনাবোধে বিন্যস্ত করে। বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি যাতে সহজভাবে তুলে ধরা যায়, সেজন্য তখন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে কিশোর আনিসুজ্জামানের ওপরে দায়িত্ব দেওয়া হয় একটি পুস্তিকা রচনার। আর এরই ধারাবাহিকতায় রচিত হয় ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রচার পুস্তিকা ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন : কী এবং কেন?’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক এবং প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন আনিসুজ্জামান। ১৯৫৯ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতীর মতো প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

স্নাতকোত্তর চলাকালীন আনিসুজ্জামানের গবেষণা ‘ইংরেজ আমলের (১৭৫৭-১৯১৮) বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘উনিশ শতকের বাংলা সাংস্কৃতিক ইতিহাস : ইয়ং বেঙ্গল ও সমকাল’ বিষয়ে পোস্ট-ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন ড. আনিসুজ্জামান। মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। 

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে একুশে পদক এবং সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন ড. আনিসুজ্জামান। ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক পদ্মভূষণ, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তাকে। ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় অধ্যাপক ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে তিনি সার্ক সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।

কর্মসূচি 

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক স্মরণসভার আয়োজন করেছে। এতে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন ১৯৬৬-৬৭ সালে ডাকসুর সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি মাহফুজা খানম।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা